আ’লীগের নগর সম্পাদকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আ’লীগের নগর শাখার সম্পাদকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত ও হয়ারনির অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ করেছেন নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ড আগরপুর রোডের বাসিন্দা মো. খবির উদ্দিন এর ছেলে মো. মাসুম রেজা রাজিব। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে নগর সম্পাদক এ্যাড. আফজালুল করিমের হুমকিতে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এ্যাড. আফজাল দাবি করছেন, উপকার করতে গিয়ে তিনি উল্টো ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে।
অভিযোগকারী রাজীব লিখিতভাবে জানায়, তার কাছ থেকে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের সাট মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. আতিকুর রহমান ৭ লক্ষ টাকা ধার নেয়। বাকেরগঞ্জের বাগদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মাহতাব হোসেনের ছেলে আতিকুর ৫ এপ্রিলের মধ্যে পাওনা পরিশোধে ওয়ান ব্যাংকের হিসাব নম্বরের ( হিসাব নং-০৬৪২০৫০০০০১৪১ এবং চেক নম্বর ৫৪৩৮৩০৬) বিপরীতে চেক দেয়। এছাড়াও দুইশত টাকার নন জুডিশিয়াল ষ্টাম্পে লিখিতভাবে অঙ্গিকার করে। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনে সে পরিশোধে ব্যর্থ হয়। তখন পাওনা আদায়ে হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিস হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আবু জাফরের মাধ্যমে নগর সম্পাদক এ্যাড. আফজালের শরনাপন্ন হয়।
নগর সম্পাদক তাকে ১২ মে’র মধ্যে টাকা পরিশোধ করে দেয়ার আশ্বাস দেন। কয়েকদিন পরে সে আতিকুরের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা উত্তোলন করে। এর মধ্যে ৮৮ হাজার টাকা সম্পাদক আফজাল রাজীবকে দেয়। বাকী ১২ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে রেখে দেয় এ্যাড. আফজাল অভিযোগ করেন রাজীব।
কমিশন রাখার বিষয়ে রাজীবকে আফজাল জানায়, ডা. আবু জাফরের সাথে সম্পর্কের কারনে কমিশন শতকরা ১০ ভাগ হিসেবে নিয়েছে। তা না হলে শতকরা ৫০ ভাগ রেখে দিতো সম্পাদক বলে এই অভিযোগ করেন রাজীব। এরপর বাকী অর্থ পেতে সম্পাদকের শরনাপন্ন হয়ে ব্যর্থ হয়ে আইনের দারস্থ হয় রাজীব।
বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত সম্পাদক এ্যাড. আফজালুল করিম র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ৮৮ হাজার টাকা ফেরত চায়। তাই ভয়ে পালিয়ে বেরাচ্ছেন বলে দাবী করেছেন রাজীব।
অভিযোগের বিষয়ে সম্পাদক এ্যাড. আফজালুল করিম বলেন, মাসুম রেজা রাজিব আমার কাছে মামলা করতে আসে। কিন্তু আমি তাকে মামলা না করে টাকা উঠিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেই। সে অনুযায়ী ২ লক্ষ টাকা উঠিয়েও দিয়েছি। কিন্তু রাজিব পরবর্তীতে কিছু না জানিয়ে মামলা করে। এজন্য আমি তাকে উঠিয়ে দেয়া ২ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে বলেছিলাম। কিন্তু কোন কমিশন চাইনি। এ্যাড. আফজালুল করিম বলেন, তাকে উপকার করতে গিয়ে উল্টো বিপদে পড়েছি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।