আ’লীগের জাতীয় কাউন্সিলে প্রেসিডিয়ামে আসছেন হাসানাত আবদুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। ভেতরে ভেতরে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ ও জল্পনা-কল্পনা। কে কোন পদ পেতে যাচ্ছেন, কার পদোন্নতি হচ্ছে, কে বাদ পড়তে যাচ্ছেন- এ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।

এবারের সম্মেলনে প্রেসিডিয়াম সদস্য পদে ফিরছেন বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহম্মেদ ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে খ্যাত বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ পদোন্নতি পাচ্ছেন এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এছাড়া কার্যকরী কমিটি বরিশালের আর কেউ’র ঠাঁই হবে কিনা সেভাবে এখনো কিছু বলা যাচ্ছেনা। তবে বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের পদোন্নতির জোরালো আলোচনা রয়েছে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে যারা আলোচনায় আছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমও।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামে আসবে বেশ কিছু পরিবর্তন। বয়সসহ নানা কারণে বাদের তালিকায় আছেন অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সতীশ চন্দ্র রায়, নূহ-উল-আলম লেনিন প্রমুখ। প্রেসিডিয়ামে নতুন যোগ হবে ৩ থেকে ৪টি পদ। সেক্ষেত্রে এখানে যোগ হতে পারে ৬টি নতুন মুখ। এ তালিকায় আছেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহও ।

৭ সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে কয়েকজন বাদ এবং বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমসহ আরও দু’একজনের পদোন্নতির জোরালো আলোচনা রয়েছে।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বর্তমান কমিটি থেকেই পদোন্নতি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে বরিশাল বিভাগে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেতে পারেন পটুয়াখালীর আফজাল হোসেন। তিনি বর্তমানে দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। এছাড়াও এ পদে অথবা কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য যেকোন পদে নতুনদের মধ্যে বরিশালের যারা আলোচনায় রয়েছেন তারা হলেন, সাবেক ছাত্রনেতা শাহে আলম, ইসহাক আলী খান পান্না, পংকজ নাথ এমপি, খলিলুর রহমান খলিল প্রমুখ।

জানা গেছে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী দলের সাবেক দফতর সম্পাদক আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনও এবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে ফিরতে পারেন।

দলীয় সূত্রমতে এবারের সম্মেলনের ভাবনায় থাকছে পরবর্তী নির্বাচন ও বর্তমান সরকারের শেষ সময়ের রাজনৈতিক ময়দান। সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে সাজানো হবে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। সে অনুযায়ী শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে এবারের সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে ভিশন-২০৪১, পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা বন্দরসহ উল্লেখ থাকবে সরকারের গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকা-। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরে প্রচারণা চলবে। নির্দেশনা থাকবে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে।

২০০৯ সালের সম্মেলনের পর দলকে আমূল ঢেলে সাজান সভাপতি শেখ হাসিনা। অনেক দাপুটে নেতার স্থান হয় প্রেসিডিয়াম থেকে উপদেষ্টা পরিষদে। অনেকে দল থেকেও বাদ পড়েন। নেতৃত্বে আসে অনেক নতুন মুখ। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সম্মেলনেও। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের সূত্র জানায়, এবার বড় কোনো পরিবর্তন চান না দলীয় প্রধান। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা, দলীয় আনুগত্য এবং দায়িত্বের প্রতি নিষ্ঠা দেখিয়েছেন যারা এমন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে সুখবর।