আর্থিক দৈন্যতায় বিপর্যস্ত পালিয়ে থাকা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মিরা

জুবায়ের হোসেন॥ একের পর মামলার আসামী হয়ে পালিয়ে বেড়ানো বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মিরা অর্থনৈতিক দৈন্য দশায় পড়েছে। সবচেয়ে বেশি পড়েছে স্বল্প পুজির ব্যবসায়ী, বেকার ও ছাত্রনেতারা। দীর্ঘ ৮ বছর বিরোধী দল হিসেবে থাকার পর বর্তমানে আন্দোলনের একাধিক মামলার ঘানি টানতে টানতে অর্থনেতিকভাবে পুরোরোই বিপর্যস্ত তারা। শুধু তারাই নয় তাদের সাথে এখন পথে নামতে বসেছে তাদের পরিবার। বিএনপি নেতাকর্মী হওয়ায় দীর্ঘদিন থেকেই বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুুখীন হতে হয়েছে, কখনো তা দোষে, কখনো শুধু শুধুই। এ সকল প্রতিবন্ধকতা পার করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন তারা। এখনকার জেষ্ঠ নেতারা দীর্ঘদিন পূর্বেই দলের নেতা কর্মীদের হাত ছেড়ে দিয়েছেন। তবে হাত ছাড়তে পারেনি তাদের পরিবার। আর এর পরিনামে এখন জীর্ণশীর্ন অবস্থা তাদেরও। তাই এখন বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে আসার চিন্তা উকি দিচ্ছে তাদের মনে। জেষ্ঠ্য নেতারা আত্মগোপনে থাকলেও আর্থিক সমস্যা নেই তাদের। কারন তারা এখনও দলের কিছু বিনিয়োগকারী নেতাদের ওপরই নির্ভশীল। যাদের তারা ক্ষমতার আমলে পয়সাওয়ালা বানিয়েছিলেন। কিন্তু ছেড়াফাটা অবস্থায় পড়েছে তৃণমূল ও মধ্যস্থানীয় নেতারা। যাদের অনেকের নেই পদবীও। শুধু নামে বিএনপির অংশ তাই। অনেক ছাত্রদল নেতারা ছাত্রলীগের সাথে যোগ দিতেও প্রস্তুত হয়ে গেছেন। রাজনীতি ছেড়ে কেউ কেউ খুজছেন চাকুরি। আর যারা জেলের ঘানি টানছে তারা চাচ্ছেন মুক্তি। যা সর্বস্ব খুইয়ে দিতে পারছেন না তাদের পরিবারবর্গ। এ সকল বিষয়গুলো তুলে ধরে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীরা চরম ক্ষোভে এ কথা জানিয়েছেন। তারা আরো বলেন, এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আজ ৮ বছর ধরে বিরোধী দল বিএনপি। এই আট বছরে কয়েক শত কর্মসূচী হয়েছে। নেতারা শুধু কর্মসূচীর আগের দিন ফোন দিয়ে শত শত লোক নিয়ে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কোন খরচ দেয়নি। এমন ভাবে চলেছে পুরো সময়টি। দল ও নেতাকে ভালবেসে সকলেই দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একাধিক মামলায় আসামী হতে হয়েছে। তবে সেসময় পাশে দাড়ায়নি ঐ নেতারা। পরিবারে চেষ্টায় বের হয়েছে। এই ঝামেলাগুলো পার করতে আয় শূণ্য বিএনপি কর্মী ও তাদের পরিবারকে পড়তে হয়েছে বড় ধরনের ধার দেনায়। তবে অবস্থা বেগতিকের দিকে গেছে ৬ জানুয়ারি থেকে টানা আন্দোলন শুরুর পর। এখন বরিশালে মামলায় আসামী হতে হয়নি এমন কোন বিএনপি নেতা কর্মী হয়ত কমই আছে। সেই মামলা পরিচালনায় দলের পক্ষ থেকে আইনজীবীরাও ছিলেন। তবে তাদের সাথে যোগাযোগ হয়নি তৃণমূলের। এদিকে জেষ্ঠ নেতারাতো পালিয়েছে একেবারে শুরুতেই। তাদের কাছে সাহায চাওয়া তো দূরের কথা কুশল বিনিময়ের জন্যও পাওয়া যাচ্ছে না। তবে মামলার ঘানিতে ও দলের পিছনে দীর্ঘদিন করা খরচের কারনে এখন পথে নামার উপক্রম কর্মীদের। অবস্থা এখন এমনই যে মানুষের কাছে হাত পেতে চলার পর্যায়ে চলে গেছে। একই সাথে হাত পাতার পর্যায়ে গেছে পরিবারবর্গ। লাখ টাকা খরচ হচ্ছে আটককৃতদের জামিনে। তবে টাকা খরচ হলেও জামিন নিশ্চিত না। ৮ জানুয়ারি বাবু নামের এক ছাত্রদল কর্মীকে আটক করা হয়। সে মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক খন্দকার আবুল হাসান লিমনের অনুসারী ছিল। কিন্তু তাকে জামিনে আনতে লিমন এর কোন পদক্ষেপই ছিল না। তার মা-বাবা এখন সন্তানের জামিনের জন্য দারে দারে ঘুরে ফিরছে। আর্থিকভাবে শেষের দিকে পৌছেছেন তারা। তবে যার নেতৃত্বে ছাত্রদলের একাধিক কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছে বাবু সেই খন্দকার লিমন সহযোগিতার হাত বাড়ানো তো দুরের কথা নিজেই রয়েছেন আত্মগোপনে। বাবুর মত এমন শতাধিক কর্মীরা জেলে ঘানি টানছেন তাদের সবারই একই অবস্থা। এখন তাদের পরিবারের দাবী রাজনীতিতে সায় না থাকার পরেও সন্তান জড়িয়েছে। কিন্তু এখন তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে। কোন ভাবে যদি তাদের মুক্ত করা যায় তবে কখনই আর রাজনীতিতে জড়াবে না। প্রয়োজনে মুচলেকা দিতেও প্রস্তুত তারা বলেও জানিয়েছেন। আর ক্ষতি যা হয়েছে তা তো রয়েছেই। এখন আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত জীবনেই অভ্যস্ত হতে শুরু করেছেন তারা।
বরিশাল জেলা ও মহানগরের জেষ্ঠ নেতাদের সাথে আলাপের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কাউকেই পাওয়া যায়নি। এমনকি সিংহ ভাগ গা ঢাকা দেয়া নেতাদের যোগাযোগের শেষ মাধ্যম মোবাইল ফোনগুলোও ছিল বন্ধ। অতঃপর দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সব-সভাপতি বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি দুঃখজনক জানিয়ে বলেন, রাজনীতি কেউ টাকার জন্য করে না। দলের নেতাদের প্রতি কর্মীদের সার্বিক সহায়তার নির্দেশনা আছে। তবে নেতারাই এখন আত্মগোপনে তাই কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার বিষয়টি সত্য বলে তিনি আরও বলেন, দলের সাহায্য পেতে নেতাদের মাধ্যম হওয়া উচিৎ ছিল কিন্তু সেই সাহায্য দেয়ার জন্য কোন নেতাই এখন প্রকাশ্যে নেই তাই বিষয়টি এমন হয়ে যাচ্ছে।