আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় ॥ সুইসাইড নোট লিখে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী’র আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, আমার পথ আমি নিজেই বেছে নিলাম। তোমরা সবাই ভালো থেকো। ইতি তোমাদের সেতু” শুধু এতটুকু লিখে পরিবারের কাছ থেকে চির বিদায় নিলো নগরীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী ফাতেমাতুজ্জোহরা সেতু (১৪)। কোন এক অজানা ক্ষোভ নিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে মেধাবী এই কিশোরী।
গতকাল সোমবার দুপুরে নগরীর মল্লিক রোড এলাকার পুলিশ ক্লাব সংলগ্ন ভাড়া বাসায় এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরীর স্থায়ী ঠিকানা সদর উপজেলার মহাবাজ এলাকায়। তার বাবা সেলিম রেজা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ে একাউনট্যান্ট হিসেবে কর্মরত। তাছাড়া শান্ত আচরন এবং ভদ্র স্বভাবের মেধাবী স্কুল ছাত্রী সেতু বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের দিবা শাখার ৯ম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। সম্প্রতি ৮ম শ্রেণির সমাপনী অর্থাৎ জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে ৯ম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়। এর পূর্বে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনি পরীক্ষায়ও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিলো ফাতেমাতুজ্জোহরা সেতু।
নিহতের মামা জানান, সেতুর এক ভাই রয়েছে। এর মধ্যে সেতু ছোট এবং পরিবারের সকলের আদরের। গতকাল সোমবার দুপুরে ক্লাস শেষ করে টিফিনের ছুটিতে মল্লিক রোডের ভাড়া বাসায় ফিরে আসে সেতু। এর আগে তার মা জাতীয় পরিচয়পত্র (ভোটার আইডি কার্ড) সংশোধন সংক্রান্ত কাজের জন্য সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে বাসায় ফিরে দেখেন ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। জানালার পাশ থেকে দেখতে পান সেতু তার পড়ার টেবিলের পাশেই আড়ার সাথে ওড়না বেঁধে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ঝুলে আছে। এমন চিত্র দেখে মা চিৎকার দিয়ে ওঠেন। চিৎকার শুনে প্রতিবেশিরা ছুটে আসেন। পরে গলায় ফাঁস লাগানো ওড়না কেটে সেতুকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন জরুরী বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।
এর পূর্বে পড়ার টেবিলে রেখে যাওয়া সেতুর হাতে লেখা একটি সুইসাইড নোট লিখে রেখে যায় সেতু। নোটে পরিবারকে শান্তনা স্বরুপ কয়েকটি মাত্র কথা লিখে গেছে সে। অথচ তার আত্মহত্যার কারন বলে যায়নি বলে দাবী স্বজনদের। সুইসাইড নোটে লেখা রয়েছে- “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, আমার পথ আমি নিজেই বেছে নিলাম। তোমরা সবাই ভালো থেকো। ইতি তোমাদের সেতু”।
মৃত্যুর বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার (উপ-পরিদর্শক) এসআই আবু তাহের বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া এই ঘটনায় আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। কেননা মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যায়নি। প্রথমকি তদন্তে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কেননা কিশোরী ছাত্রীর লিখে যাওয়া সুইসাইড নোট আত্মহত্যার বিষয়ে কাউকে জড়ানো কিংবা দোষারোপ করেননি। তাছাড়া পরীক্ষায় রেজাল্ট খারাপ করায় বিদ্যালয় এবং পরিবারের সাথে মনোমালিন্ন’র জের ধরে কিশোরী আত্মহত্যা করতে পারে। তারপরেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা কিংবা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন থানা পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এদিকে স্থানীয় বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, আত্মহত্যার ঘটনাটি রহস্যে ঘেরা। ঘটনার সময় বাসায় কেউ ছিলো না। ছাত্রী নিজে কোন মোবাইলও ব্যবহার করত না। স্কুল থেকে ফিরেই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। অথচ স্কুলে যাবার সময় তার মন মানসিকতা স্বাভাবিক ছিলো। যে কারনে স্কুলকেন্দ্রিক কিংবা প্রেম সংক্রান্ত বিরোধের কারনে এমনটি ঘটতে পারে। তবে সেতুর মায়ের দাবী তাদের মেয়ের সাথে কারোর সম্পর্ক আছে এমন কথা তারা কখনো শুনেননি। তবে কি কারনে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলো সে সম্পর্কেও কিছু জানেন না বলে দাবী করেছেন কিশোরীর মা।