আবুলকে নিয়ে বিপাকে দক্ষিণ জেলা বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সাবেক এমপি আবুল হোসেনকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির নেতারা। শুধু তাই নয় ওই নেতার সুপারিশে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত নেতাদের দিয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করার কারনে রীতিমত তোপের মুখে পড়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আবুল কালাম শাহীন। সক্রিয় নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত তাতে ব্যর্থ হন জেলা কমিটি। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এ জন্য বেশি দায়ী করেছেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক এমপি আবুল হোসেন খানকে। গত ২৩ অক্টোবর আবুল হোসেনকে আহবায়ক এবং খলিলুর রহমান সিকদারকে সদস্য সচিব করে ১৩ সদস্যের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়। গঠিত কমিটিতে সাবেক এমপি আবুল হোসেনের সুপারিশেই ৭ জনকে সদস্য রাখা হয়। অভিযোগ উঠেছে আবুলের সুপারিশে যাদের কমিটিতে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে তারা অনেকেই বর্তমানে দলে সক্রিয় নয়। তাছাড়া নানাভাবে বিতর্কিত কর্মকান্ডের সাথে জড়িত, হত্যা মামলার আসামী এমনকি জাতীয় পার্টির সাথে সখ্য আছে এমন নেতাদের কমিটিতে অর্ন্তভূক্ত করা হয়। জেলা বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, গত ১৮ অক্টোবর আবুল নিজেকে আহবায়ক রেখে বাকী ১০ জনকে যুগ্ম আহবায়ক করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের প্রস্তাব জেলা কমিটির কাছে প্রেরণ করেন। উপজেলা বিএনপির সম্পাদক খলিলুর রহমান সিকদারও ৯ জন যুগ্ম আহবায়কের নাম প্রস্তাব করেন। উপজেলা সভাপতি আবুল হোসেন ও সাধারনণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিকদারের তালিকা সমন্বয় করেই ১৩ সদস্যের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি অনুমোদন দেন জেলা সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম শাহীন। কমিটি গঠনের জন্য জেলা বিএনপির কাছে আবুল হোসেনের পাঠানো আবেদনে যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল ইসলামকে রাখার জন্য প্রস্তাব করা হয়।
উপজেলা বিএনপি নেতা হরুন জোমাদ্দার অভিযোগ করেন সাজ্জাদ জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এখনো জাপা নেতা এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের সাথে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। কিছু দিন পূর্বে সাজ্জাদ মোল্লা এমপি রুহুল আমিনের মাছের ঘেরে গেলে তাকে এক কেজি ওজনের তেলাপিয়া মাছ উপহার হিসেবে দেন রুহুল আমিন। অথচ তাকে রাখা হয় উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য হিসেবে। অপর সদস্য জিয়াউল আহসান জুয়েল হত্যা মামলার আসামী। বরিশালে এখন তিনি হোটেল ব্যবসা নিয়ে সময় পার করছেন। তাকেও কমিটিতে সদস্য রাখা হয়েছে আবুল হোসেন খানের সুপারিশে। অপর সদস্য মশিউর রহমান মাসুদ দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচন করেছিলেন। আর তাকে সমর্থন দেন আবুল। এ জন্য শোকজও খেতে হয়। উপজেলা বিএনপি নেতা আব্দুস সোবাহান ক্ষুব্ধ কন্ঠে বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে আবুল হোসেন আমার বাসায় থেকে রুটি আর চিংড়ি মাছের ঝোল খেয়েছেন আর এখন আমাকেই চেনেন না। তিনি অভিযোগ করেন- তিনি (আবুল) নিজেকে বাঁচাতে পালিয়ে রয়েছেন আর আমরা পুলিশের সাথে মারামারি করেছি। শুধু তাই নয় ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামলীগের প্রার্থী পারভিন তালুকদারের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে আবুলের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ৩০ লাখ টাকা নগদ আর ১০ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন পারভিন তালুকদার। পরে অবশ্য ১০ লাখ টাকার চেকটি ডিজ অর্ডার হয়। এ ধরনের বেঈমান নেতাদের নিয়ে বিএনপির মত বড় দল চলতে পারেনা। আমরা আবুলের মত নেতার নেতৃত্বে দল করতে চাইনা। এদিকে ১৩ সদস্যের ৫ সদস্যকে অর্ন্তভূক্ত করা হয় খলিলুর রহমান সিকদারের সুপারিশে। খলিলুর রহমানের সুপারিশে যাদের সদস্য করা হয়েছে তারা হলেন মোঃ শওকত হোসেন হাওলাদার, মোঃ ফরিদুল ইসলাম খান, মোঃ রত্তন আলী বিশ্বাস, মোঃ আলাউদ্দীন জর্জ এবং এসএম কামাল সিকদারকে। এসএম কামাল সিকদার এক সময় আবুল হোসেনের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছিলেন। অথচ তার নাম কমিটিতে প্রস্তাব করেননি আবুল। জেলা বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এসএম কামাল বিএনপির একজন ডোনার। বেগম খালেদা জিয়ার বরিশালে সমাবেশের সময় লঞ্চ পর্যন্ত তিনি দিয়েছেন। এসব বিবেচনা করে উপজেলা সম্পাদক খলিল সিকদারের সুপারিশক্রমে তাকে সদস্য হিসেবে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। এছাড়া খলিল সিকদারের সুপারিশে অর্ন্তভূক্ত করা হয় অপর সদস্য আলাউদ্দীন জর্জকে। জর্জ কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে এ পর্যন্ত এসেছেন। আবুল হোসেন খান বলেন, জেলা কমিটি আমার সাথে কোন ধরনের আলোচনা না করে কমিটি গঠন করেছেন। আপনি যে প্রস্তাব করেছেন জেলা কমিটির কাছে ওই প্রস্তাবিত কমিটির লোকজনইতো স্থান পেয়েছে তাহলে আলোচনা করেনি এটা কিভাবে হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম আহবায়ক কমিটির কিন্তু তারা তা করেননি। সাজ্জাদ মোল্লার ব্যাপারে তিনি বলেন, সাজ্জাদ ছাত্রদলের রাজনীতি করেছেন। পরে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। এক সময়তো গুটি কয়েকজন ছাড়া সবাই রুহুল আমিনের সাথে গিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আমাদের কাছে যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে তা সমন্বয় করেই কমিটি হয়েছে। আবুল হোসেন যে প্রস্তাব দিয়েছেন সেখানে তিনি (আবুল) আহবায়ক বাকী সবাই থাকবেন সদস্য এটাতো কোন কমিটি হতে পারেনা। তাছাড়া আমরা যে কমিটি করেছি সেটা সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি মাত্র। তাদের পূর্বের কমিটিতো বহালই আছে।