আবাসন সংকটে থাকা ববির ছাত্রাবাস নির্মানে ধীরগতি

এম হোসেন॥ চরম আবাসন সংকটে থাকা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) নির্মান কাজের অগ্রগতি নেই। খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মান কাজ। ১৮ মাস মেয়াদের প্রকল্প ৩ বছরেও সম্পন্ন হয়নি। মাত্র ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট শিক্ষার্থীদের কাছে একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। আবাসন সংকট এতটাই যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ও অস্থায়ী দুটো ক্যাম্পাসেই ক্লাস করতে হচ্ছে তাদের। প্রতিনিয়ত শিকার হচ্ছে নানা ভোগান্তির। পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা নেই। অস্থায়ী ক্যাম্পাসে লাইব্রেরী থাকলে সুযোগ সুবিধা একেবারেই ক্ষীণ। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাসে একেবারেই নেই। ল্যাবসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে ববির শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের আশানুরূপ মেধার বিকাশ হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা বিশ্ব মানের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব দাবী নিয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল সাধারন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে নির্ধারিত সময় উল্লেখিত করলেও সে রকম কাজের অগ্রগতি নেই। যেন দায় সারা গতিতে চলছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের নির্মান কাজ। এসব বিষয়ে প্রভাব পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফরম বিক্রিতে। একাধিক মহল থেকে জানা গেছে, আবাসিক সমস্যা সহ বিভিন্ন সমস্যার কারনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম বিক্রিতে আশানুরূপ সারা পাচ্ছে না ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা। আর এ কারনে নির্ধারিত সময় থেকে ফরম বিক্রির জন্যে ৭দিন সময় বাড়ানো হয়েছে। জানা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ফরম বিক্রির সময় প্রথমে ২৪ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত করলেও পরে ৭দিন বাড়িয়ে ২১ সেপ্টেম্বর  পর্যন্ত করা হয়েছে। এভাবে দায়সারা মাঝির দতিতে চলতে থাকলে অচিরেই বড় কোনো হুমকির মুখে পড়বে এ বিশ্ববিদ্যালয় এমনটাই আশংকা প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনরা। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্য লিখিতভাবে তাদের দাবী মেনে নিয়েছেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের আবাসিক ব্যবস্থা অর্থাৎ হলের ব্যবস্থা ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের ১৯ তারিখের মধ্যে দেয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে অন্যচিত্র। প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে ২০১২ সালের নভেম্বরের ২৯ তারিখ ২টি ছাত্র হল ও ১টি ছাত্রী হলের কার্যাদেশ পায়। অথচ ১৮ মাসের প্রকল্প ২ বছর পার হলেও নির্মান কাজের অর্ধেক ও সম্পন্ন হয়নি। জানা গেছে, ছাত্রহলের ১টি ২৫ শতাংশ এবং অন্যটির ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ছাত্রী হলের কাজ মাত্র ৫৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। শুধু ছাত্রাবাসের অবস্থাই নয় অন্যান্য ভবনের নির্মান কাজের গতিও একেবারেই ক্ষীণ। প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসের ১১ তারিখ দুটি প্রশাসনিক ও দুটি একাডেমিক ভবনের নির্মানের কার্র্যাদেশ পায়। ১৮ মাসের মেয়াদে প্রকল্প ৩ বছর পার হলেও একাডেমিক একটি ভবনের মাত্র ৩টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্মান কাজের ধীর গতির জন্যে প্রকৌশল অর্ধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে ঠিকাদারদের আর্থিক সমস্যার কথা। অপর ভবনের নির্মান কাজ প্রায় শেষ। এছাড়া প্রশাসনিক ভবনের ১টি ৮০ শতাংশ অপরটি ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের জানুয়ারি মাসে দুটি ডরমেটরীর কাজ শুরু হয়। যার একটির ২৫ শতাংশ অন্যটি ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের জানুয়ারির ১৩ তারিখ ক্যাফেটরিয়া, লাইব্রেরী ও উপাচার্য ভবনের কাজ শুরু হয়। যার প্রথমটি ২৫ শতাংশ অপর দুটি ২০ শতাংশ করে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ব্যাপারে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ বাশার জানান, জমি অধিগ্রহন সমস্যার কারনে নির্মান কাজে বিলম্বিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন একজন ঠিকাদারের আর্থিক সমস্যার কারনে একটি ভবনের নির্মান কাজ বন্ধ আছে।
অন্তহীন সমস্যা নিয়ে এগুচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। সমাধান হচ্ছে না শুধু পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বেসামাল হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ক্লাস হচ্ছে। আবাসিক ব্যবস্থা নেই। শহরে থাকতে হচ্ছে। তাও আবার বাসাভাড়া চরমে। এতে মধ্য ও নি¤œ বিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসে লাইব্রেরীর ব্যবস্থা নেই। ওয়াইফাই ব্যবস্থা নেই। নেই কোনো ল্যাবের সুযোগ সুবিধা। এছাড়া পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অংশগ্রহন করতে পারছেনা। নানা সমস্যা নিয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। এব্যাপারে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র মোঃ নাজমুজ সাকিব বলেন ম্যাচে লেখা পড়ার পরিবেশ নেই, থাকা-খাওয়ায় সমস্যা তাছাড়া ক্যাম্পাসের কাছাকাছি বাসা পাওয়া যায়না। তিনি আরো বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ব্যবস্থা নেই। ম্যাচে থেকে লেখাপড়ার বৃত্ত তৈরি করা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র মোঃ আল আমিন জানান, হলের ব্যবস্থা নেই। ক্যাম্পাসের কাছাকাছি বাসা পাওয়া যাচ্ছে না। থাকা-খাওয়ার সমস্যা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ক্যাম্পাসে তেমন কোনো নিরাপত্তা নেই। একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুন অর রশীদ খানকে ০১৭১১২২৯৯০৩ নাম্বারে দুইবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।