আন্দোলনে নার্সিং কলেজ একাডেমিক ভবন রক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ টানা ৬ দিন আন্দোলনের পরে আবশেষে আশার আলো ফুটেছে বরিশাল নার্সিং কলেজ শিক্ষার্থীদের মাঝে। কেননা নার্সিং কলেজের একাডেমিক ভবনটি আর ব্যবহার করবেন না বলে মৌখিক ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার ঢাকা থেকে বরিশালে ছাত্রীদের আন্দোলনে একাত্ততা প্রকাশ করতে আসা নার্সিং সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্থ করেছেন মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ভাস্কর সাহা।
এদিকে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের মৌখিক কথায় নত হতে নারাজ নার্সিং কলেজ শিক্ষার্থীরা। তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে এ বিষয়ে লিখিত আদেশের দাবী জানিয়েছেন। মন্ত্রনালয় থেকে লিখিত না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া গতকাল শনিবার একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালনের পাশাপাশি পঞ্চম দিনের মত অবরুদ্ধ ছিলেন নার্সিং কলেজ অধ্যক্ষ আলেয়া পারভিন।
তাছাড়া প্রায় দেড় সপ্তাহ পরে গতকাল মেডিকেল কলেজ খুলেছে। প্রথম দিন ক্লাস হলেও সুরাহা হয়নি ছাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থার।
নার্সিং কলেজ ছাত্রী সুশমিতা মল্লিক, সম্পা বৈদ্য, সেতুরানী, পারভেজ কবির, মহিউদ্দিন পরিবর্তনকে জানান, তাদের নবনির্মিত একমাত্র একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন রক্ষার আন্দোলনের পঞ্চম দিনে তাদের সাথে আন্দোলনে একাত্ততা প্রকাশ করেছেন নার্সদের দুটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব মোঃ আনিসুর রহমান, ডিপ্লোমা নার্সেস ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন এর ইসমত আরা পারভীন ও রওশন আরা খানম নামে তিনসদস্যের প্রতিনিধি দল আন্দোলনকারীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং দাবীর বিষয়ে দুপুর ১টার দিকে মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষের সাথে কথা বলেন।
স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব মো. আনিসুর রহমান পরিবর্তনকে জানান, অধ্যক্ষ ভাস্কর সাহা তাদের জানিয়েছে, একাডেমিক ভবনটি তাদের প্রয়োজন ছিলো। এজন্য সাময়িক সময়ের জন্য চেয়েছিলেন। কিন্তু এখন তারা ওই ভবনটি আর চাচ্ছেন না। কেননা সামান্য একটু বিষয় নিয়ে নার্সিং ছাত্রীরা যে আচারন করেছে তা মেনে নেয়া যায় না। এতো আন্দোলনের পরেও মেডিকেল ছাত্রীদের জন্য একাডেমিক ভবনটি ব্যবহারের জন্য আর নিবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ভাস্কর সাহা বলেন, গতকাল কলেজ খুলেছে। ক্লাশও হয়েছে। কিন্তু ছাত্রীদের আবাসন ব্যবস্থা হয়নি। তাই আপাতত দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেনীর ষ্টাফ কোয়ার্টার, দুটি মহিলা হোষ্টেলের ডায়নিং রুমে ছাত্রীদের কোন রখম থাকতে দেয়া হয়েছে। এর পরে ঢাকা থেকে যে সিদ্ধান্ত দিবে সে মতেই তারা কাজ করে যাবেন বলে ভাস্কর সাহা জানিয়েছেন।