আন্দোলনের নামে আইএইচটি শিক্ষার্থীদের রাস্তা আটকে বিশৃঙ্খলা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেল্থ টেকনোলজী (আইএইচটি) শিক্ষার্থীরা। দাবী আদায়ের আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষ পথচারীদের ভোগান্তিতে ফেলছে তারা। গতকাল সোমবার সকালে আন্দোলনের নামে রাস্তা অবরোধ সৃষ্টি করে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীরা। এতে ঘন্টাব্যাপী ব্যাপক ভোগান্তিতে পরতে হয় পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের।
আইএইচটি সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা সহ ১০ দফা দাবী আদায়ে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। তারা প্রকাশ্যে আন্দোলন করলেও মূলত পেছন থেকে তাদের ইন্ধন যুগিয়ে আসছেন শিক্ষকরা।
এদিকে প্রথম দিকে দাবী আদায়ের লক্ষে তারা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছিলো। জনসাধারণের ভোগান্তি সৃষ্টি না করে ক্যাম্পাস চত্ত্বরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, স্মারক লিপি প্রদান ও ক্লাশ বর্জন করে শিক্ষার্থীরা। হিন্তু হঠাৎ করেই পাল্টে যায় তাদের আন্দোলনে ধরণ। নামে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দাবী করা হলেও করছে এর উল্টোটা। আন্দোলন করতে গিয়ে তারা ভোগান্তিতে ফেলছেন পথচারী, হাসপাতালের রোগী তাদের স্বজন ও বিঘœ সৃষ্টি করছে যানবাহন চলাচলে। আন্দোলনের মাত্রা যতটা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন এদের বিশৃঙ্খলাও বেড়ে যাচ্ছে। এর বাস্তব প্রমান মিলেছে গতকাল নগরীর প্রাণ কেন্দ্র এবং ব্যস্ততম সদর রোডে।
মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ না মেনে কোন প্রকার অনুমতি ছাড়া অশ্বিনী কুমার হলের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে আইএইচটি শিক্ষার্থীরা। শুরু থেকে বেশ শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন চলছিলো। এর কিছুক্ষন যেতে না যেতেই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নেমে পড়ে রাস্তায়। এক পর্যায় মিডিয়া কভারেজের জন্য সদর রোডের যানবাহন চলাচলের প্রধান সড়ক দখল করে রাস্তার উপরে বসে পরে যানজট সৃষ্টি করে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী ব্যস্ততম এ রাস্তাটি আটকে রেখে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আইএইচটি’র কতিপয় শিক্ষার্থীরা। যার ফলে সদর রোডে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সদর রোডের দুই পাশ সহ আশ পাশের রাস্তায় আটকে পড়ে শত শত যানবাহন।
এসময় অশ্বিনী কুমার হলের সামনে দায়িত্বরত কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশেল সদস্যরা তাদের রাস্তা ত্যাগ করে পাশে যাওয়ার জন্য একাধিক বার বললেও তার কর্ণপাত করেনি তারা। পরে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাখাওয়াত হোসেন ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের হটিয়ে দেন। ফলে এর পরেই পুনরায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে শুধুমাত্র সদর রোডেই নয়। এর পূর্বে গত তিন দিন পূর্বে তারা শেবাচিম হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন করে। এসময় হাসপাতালের প্রধান গেট আটকে দেয়। এর ফলে ঐ গেট থেকে রোগী কিংবা স্বজন কেউ চলাচল করতে পারেনি। হাসপাতাল ঘুরে জরুরী বিভাগ হয়ে আসা যাওয়া করতে হয় তাদের। সেখানে প্রায় দুই ঘন্টা রাস্তা ও হাসপাতালের প্রধান গেট আটকে আন্দোলনের নামে সৃষ্টি করে বিড়ম্বনা।
এর পূর্বে আন্দোলনের নামে আইএইচটি ক্যাম্পাস সংলগ্ন রাস্তা অবরোধ করে একই ভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ কয়েকটি সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করলেও এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন এখানকার শিক্ষকরা। তারা পেছনে থেকে আন্দোলনের ইন্ধন যুগিয়ে চলেছে। কেননা আন্দোলনের ফলে দাবী বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীদের উপকার হোক আর নাই হোক ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে শিক্ষকদের।