আদালত পাড়ার পুকুর রক্ষার মানববন্ধন পন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ জেলা জজ আদালত পাড়ায় পুকুর নিজেদের দাবী করে মানববন্ধন করা খ্রীষ্টান নারী-পুরুষদের উপর আইনজীবীদের হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ এলাকায় ওই হামলা কারা চালিয়েছে তা জানেন না বলে দাবী করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনিস উদ্দিন আহম্মেদ। ওই ঘটনায় খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের ৯ নারী পুরুষ আহত হয়েছে বলে দাবী করেছেন ফাদার রেভা শান্তি মন্ডল ও চার্চ অব বাংলাদেশের সম্পাদক বাবুল বিশ্বাস।
আহতরা হলো সারা বিশ্বাস, কানন ওঝা, উষা রানী, নীলা বনিক, সন্ধান মন্ডল, সীমা বিশ্বাস, মারিয়া, শেফালী বৈরাগী ও আলো হালদার। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে ওই দুই খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের নেতা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ী, পথচারী, অটো ও রিকসা চালকদের রেকর্ড করা ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, বেলা ১১টায় ফজলুল হক এভিনিউ সড়কের সেন্ট পিটার চার্চ থেকে অর্ধ-শতাধিক নারী পুরুষ ব্যনার, প্লাকার্ড ও রিকসার উপর বাধা মাইক নিয়ে বের হয়। বাংলাদেশ খ্রীষ্টান এ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে মানববন্ধন লেখা ব্যানারে উল্লেখ ছিলো “বরিশাল উকিল বার কর্তৃক অবৈধভাবে বরিশাল সেন্ট পিটার চার্চের মালিকাধীন পুকুর ভরাটের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ”। অংশগ্রহনকারীরা সেন্ট পিটার চার্চের প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাড়ায়। কিছু সময় পর আদালত পাড়া থেকে ২০/৩০ জন বের হয়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের বাধা দেয়। এই সময় তারা ব্যানার ছিনিয়ে নেয়। তখন উভয় পক্ষের মধ্যে মৃদু তর্ক হয়। এক পর্যায়ে আদালত পাড়া থেকে বের হওয়া ব্যক্তিরা মানববন্ধকারীদের ধাওয়া দিয়ে সেন্ট পিটার চার্চের মধ্যে পাঠিয়ে দেয়। এই সময় হামলাকারীরা প্লাকার্ড ও মাইক ভাংচুর করেছে।
শুরু থেকে উপস্থিত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে কঠোর হয়নি। আস্তে আস্তে পরিস্থিতি যখন জটিল হতে শুরু করে, তখন ওসি সাখাওয়াত সহ পুলিশের আরেকটি দল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়।
তখন মানববন্ধনকারীরা নগরীর সদর রোড অশ্বিনী কুমার হলের সামনে জড়ো হয়। সেখানে তারা মানববন্ধন করে। ফাদার রেভা. শান্তি মন্ডলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ক্যাথলিক ফাদার রিংকু গোমেজ, বিমল বেপারী, সুদিন সরকার ও বাবুল বিশ্বাস। মানববন্ধনে তাদের প্রতি হামলার বিচার দাবী করা ছাড়াও তাদের পুকুর ফেরত চেয়েছে বক্তারা। ফাদার রেভা. শান্তি মন্ডল বলেন, আদালত পাড়ায় তাদের দেড়শত বছরের পুরানো পুকুরের ৮০ শতাংশ জমি তাদের, যার কোন সমাধান ছাড়া বৃহস্পতিবার রাত থেকে বালু ভরাট শুরু করা হয়েছে। আরো কয়েকবার ভরাট করার কাজ শুরু হলে উচ্চাদালতসহ পরিবেশ অধিদপ্তরে মামলা করা হয়। এতে তা বন্ধ ছিলো। হঠাৎ করে ভরাট কার্যক্রম শুরু হওয়ায় তারা পুলিশকে অবহিত করা সহ সাধারন ডায়েরী করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে মানববন্ধন করেন। সেখানেও হামলা করায় পুকুর রক্ষায় তারা অবস্থান সহ নানা কর্মসূচী পালন করবে বলে ঘোষনা দিয়েছেন।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনিস উদ্দিন আহম্মেদ শহীদ বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া অবলম্বন করে পুকুর ভরাট শুরু করা হয়েছে। সেখানে আদালতের বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি লাগবে বহুতল ভবন হবে। সেখানে জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ছাড়াও বিভিন্ন আদালত হবে। যা বরিশালবাসীর বিশাল প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করে সভাপতি বলেন, একটি মহল তা থেকে বঞ্চিত করতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। মানববন্ধনে হামলাকারীরা আইনজীবী নয় জানিয়ে সভাপতি এ্যাডঃ শহীদ বলেন কারা করেছে আমি জানি না। অপরদিকে পুকুর ভরাটের প্রতিবাদে গতকাল বেলা ১১টায় একইস্থানে সাংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদ মানববন্ধন করার পূর্ব ঘোষনা দেয়। কিন্তু তারা মানববন্ধন করেনি।