আদালতের হাজত খানায় ডাকাতি মামলার আসামির আত্মহত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আদালত পাড়ার জেলা হাজতখানায় ডাকাতির মামলার আসামী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। গতকাল সোমবার হাজতখানার বাথরুমে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী হলো- সোহেল সরদার (২৫)। সে হিজলা উপজেলার নরসিংহপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। হাজতখানার এটিএসআই কামাল হোসেন ও আমির হোসেন জানান, জামিন আবেদনের শুনানী না হওয়ায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে সে। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।
সোহেল হিজলা উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ও মুক্তিযোদ্ধা অমল চন্দ্র রায়ের ঘরে ডাকাতি মামলা সন্দেহভাজন আসামী। গত ২১ এপ্রিল ওই মুক্তিযোদ্ধা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ডাকাতদের নামে মামলা করেন।
হাজতখানার দুই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, সোলের জামিন আবেদনের শুনানীর জন্য আদালত হাজতখানায় আনা হয়। তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেন বিচারবিভাগীয় হাকিম তরুন বাছার। তার পক্ষে শুনানী করা আইনজীবীর সহকারী (মুহুরী) হাজত খানায় এসে বিষয়টি সোহেলকে অবহিত করে। তখন সে হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশ করে গামছা ভেন্টিলেটরের সাথে পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এই সময় অপর আসামী মামুন বিষয়টি টের পেয়ে তাদের অবহিত করে। তখন তারা গিয়ে দরজা ভেঙ্গে সোহেলকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেছে। ঘটনার পরে বিচার বিভাগীয় মূখ্য হাকিম আলী হোসাইন, মহানগর বিচার বিভাগীয় মূখ্য হাকিম একেএম ফজলুল হক ও জ্যেষ্ঠ হাকিম মোস্তাফিজুর রহমান হাজতখানা পরিদর্শন করেন। এই সময় মহানগর বিচার বিভাগীয় মূখ্য হাকিম একেএম ফজলুল হক উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, সোহেল কেন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে এবং তার বিরুদ্ধে কি মামলা রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে।
ডাকাতি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিজলা থানার এসআই বজলুর রশিদ তালুকদার জানান, গত মে মাসে সোহেলকে মামলার সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই মামলা ছাড়াও সে আরো একটি ডাকাতি ও ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক শাহাদাত হত্যা মামলার আসামী। শাহাদাতকে হত্যার পর তার লাশ গুম করা হয়। পরে সোহেলের দেখানো স্থান থেকে তিন মাস পর লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও সোহেল চিহ্নিত ইয়াবা বড়ি বিক্রেতা ও সেবনকারী।