আদালতের নির্দেশকে ফের বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখালেন মহুরী শাহজাহান

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আইনজীবী সহকারী (মহুরী) নিউ সার্কুলার রোডের সেই শাহজাহানের করা আইনের কাছে আদালতের নির্দেশনাও উপেক্ষিত। বিচারকের দেয়া আদেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে স্থিতিবস্থা জারিকৃত জমিতে বাড়ি নির্মান কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসলেন তিনি। আদালতের নির্দেশ অবমাননার অভিযোগ তদন্ত এবং পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে বিপুল সংখ্যক শ্রমিকদের মাধ্যমে গতকাল বুধবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি নির্মান কাজ চালিয়ে যান তিনি। একজন আইনজীবী সহকারী হয়েও শাহজাহানের আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করার নজীর জনমনে ক্ষোভ এবং প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, নিউ সার্কুলার রোডের পেশকার বাড়ির বাসিন্দা বরিশাল জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির সদস্য শাহজাহান তার আপন বোন লায়লী বেগম লিলি’র সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছে। বোনকে ঠকিয়ে তিনি তার ইচ্ছামত একের পর এক বাড়ি নির্মান করে চলেছেন। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে একের পর এক বাড়ি নির্মান করে  চললেও তার আয়ের উৎস খুঁজে পাচ্ছেন না কেউ। হঠাৎ করে তার কোটিপতি বনে যাওয়ার রহস্য স্থানীয়দের ভাবিয়ে তুলেছে।

এদিকে আপন বোনকে ঠকিয়ে ভাগের জমি আত্মসাতের অভিযোগ এবং একই জমিতে বাড়ি নির্মানে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে লায়লী বেগম লিলি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধীয় জমিতে স্থাপনা নির্মানের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। কিন্তু আদালতের  কোন নির্দেশনাই তার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। মহুরী হওয়ার ক্ষমতার দাপটে আদালতের নির্দেশের প্রতি তোয়াক্কা না করে বিরোধীয় জমিতে বাড়ি নির্মান কাজ চালিয়ে যান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাদী পুণরায় আদালতে অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক অভিযোগ তন্তের জন্য একজন আইনজীবী নিয়োগ করেন। যিনি গত মঙ্গলবার নিউ সার্কুলার রোডের পেস্কার বাড়িতে মহুরী শাহজাহান এর আদালত অবমাননার দৃশ্য নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেন। শুধু তাই নয়, পরিবর্তনের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তারাও আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাড়ি নির্মান কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগের সত্যতা পায়। যা নিয়ে গতকাল আজকের পরিবর্তনে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এর পরেও ক্ষ্যান্ত হননি অবৈধ এবং অদৃশ্য ক্ষমতার অধিকারী মহুরী শাহাজাহান। আদালত থেকে তদন্ত এবং পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে গতকাল বুধবার সকাল ৭টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নির্মান কাজ পুনরায় শুরু করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অদৃশ্য ক্ষমতার অধিকারী শাহজাহান দম্ভক্তি করে বলে বেড়াচ্ছেন, আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞা, কারোর তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা পত্রিকার সংবাদ আমার কিছুই করতে পারবে না। আমি আমার কাজ করে যাব আর তারা তাদের কাজ করবে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আইনজীবী সহকারী শাহজাহান এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।