আজ হবে কালি পূজা লাখো প্রদীপে প্রয়াত স্বজনদের স্মরন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর কাউনিয়া আদি শ্মশানে গতকাল বুধবার উদযাপিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহি দিপাবলী উৎসব। প্রতিবছর হিন্দু ধর্মলম্বীরা ভূত চতুদর্শীর পূন্য তিথিতে আদি শ্মশানে তাদের লোকান্তরিত স্বজনদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রয়াত স্বজনদের সমাধিতে মোমবাতি ও প্রদীপ জ্বালিয়ে তাদের স্মরনে আয়োজন করেন পূজা অর্চনার। নারী-পুরুষরা স্বজনদের সমাধিতে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সমাধির সামনে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজনরা। জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষ আসেন দিপাবলী প্রত্যক্ষ করতে। মহা শ্মশান ও তার আশপাশে ব্যাপক আলোকসজ্জা করেছে শ্মশান রক্ষা সমিতি। সন্ধ্যা থেকে উৎসব শুরু হয়ে চলে মধ্যরাত পর্যন্ত।
শ্মশান রক্ষা কমিটির সভাপতি মানিক মুখার্জী জানান, এবারও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শ্রদ্ধা জানাতে আর মৃত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তি কামনায় তাদের স্বজনরা এসেছেন। পাশাপাশি ভারত, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকেও স্বজনরা এসেছেন সমাধিতে দীপ জ্বালানোর জন্য।
তিনি আরও জানান, ৫ দশমিক ৪১ একর আয়তনের এই শ্মশানে ১০ হাজারের অধিক সমাধি রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত ভূত চতুর্দশী তিথি স্থায়ীত্ব হচ্ছে। এ সময় পর্যন্ত পূন্যার্থীরা তাদের পরলোকগত স্বজনদের উদ্দেশ্যে দীপ জ্বালিয়ে আত্মার শান্তি কামনা করবেন। এ উপলক্ষে দুদিন আগে থেকেই প্রিয়জনের সমাধি পরিচ্ছন্ন ও সাজানোর জন্য স্বজনরা কাজ করেছেন।
মায়ের সমাধিতে দীপ জ্বালাতে আসা আলোরাণী সাহা বলেন, মায়ের আত্মার শান্তি কামনার জন্য আমি এখানে এসেছি।
অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা অসীম কুমার ব্যানার্জী বলেন, তার পিতামহের সমাধি এখানে। বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় শ্মাশান দীপাবলী বরিশালে হয় বলে এবার তিনিও এসেছেন শ্রদ্ধা জানাতে।
মহাশ্মশান রক্ষা সমিতির সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে জানান, দীপাবলী উৎসব যাতে নির্বিঘ্নে হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি নিজের স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন। শ্মশান দীপাবলীর পর বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত হবে কালী পূজা।