আজ সামিট’র ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আজ বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে সামিট বরিশাল পাওয়ার এর ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি। নগরীর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক ছাড়াও সামিট পাওয়ার লিমিটেড এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এদিকে এই প্রথমবারের মতো বরিশাল নগরী তথা জেলা শহরে সামিট পাওয়ার লিমিটেড নির্মান করেছেন ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। আজ বুধবার এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে অনেক আগে। এখান থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংযুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। এর ফলে দেশে বিদ্যুৎ এর ঘাটতি আরো এক ধাপ পুরন হলো।
নগরীর রূপাতলী এলাকার ২৫নং ওয়ার্ডে কীর্তনখোলা নদীর তীর ঘেষা সামিট বরিশাল পাওয়ার লিমিটেড এর ক্যাপ্টেন এএসএম ফেরদৌস বলেন, বর্তমান সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে সামিট বরিশাল পাওয়ার লিমিটেড এর উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ১৪ একর জমিতে গড়ে ওঠা সামিট বরিশাল পাওয়ার লিমিটেড এর কার্যক্রম শেষ করার সময় বেধে দেয়া হয়েছিলো মাত্র ১৫ মাস। সে অনুযায়ী দেশী এবং বিদেশী ৪টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় মাত্র ৯ মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হয় সামিট পাওয়ার লিমিটেড। আর তাই ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল থেকেই সামিট বরিশাল পাওয়ারে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।
এএসএম ফেরদৌস বলেন, ব্যয়বহুল পাওয়ার স্টেশনে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অত্যাধুনিক ক্ষমতা সম্পন্ন ৭টি জেনারেটর রয়েছে। এক একটি জেনারেটরে প্রতিদিন ১৮ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। একই সাথে ৭টি জেনারেটরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জন্য প্রতিদিন প্রায় ৬০ লাখ টাকার ফার্নেস অয়েল প্রয়োজন হচ্ছে। যা সামিট এর নিজস্ব নৌযানের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সামিট পাওয়ার লিমিটেড এর বরিশালের প্রকল্প কার্যালয়ে তিনটি ভবন ছাড়াও ফার্নেস অয়েল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২টি বিশাল আয়োজনের সেন্ট্রাল ট্যাংকি রয়েছে। সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি নিজস্ব চৌকস নিরাপত্তা বাহিনীও রয়েছে। অত্যাধুনিক মানের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের পাশাপাশি রয়েছে দক্ষ টেকনিশিয়ান এবং প্রকৌশলী। তবে বিদ্যুৎ উদপাদন কার্যক্রম বহু আগে শেষ হলেও এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থার জন্য বহুতল ভবন নির্মান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ক্যাপ্টেন এএসএম ফেরদৌস বলেন, সরকার চাইলে ভবিৎসতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমা আরো বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে। অবশ্য এজন্য নতুন পাওয়ার স্টেশন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে তারা যে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছেন তা নগরীর রূপাতলী এলাকার পাওয়ার গ্রীগে ক্যাবলের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে। সেখান থেকে সামিটের উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি চলে যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। সেখান থেকেই প্রয়োজন অনুসারে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে সামিট এর ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের আজ বুধবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আয়োজন করা হয়েছে। এজন্য গতকাল বুধবার সামিট পাওয়ার গ্রুপের এমডি লে. জেনারেল (অব:) আব্দুল ওয়াদুদ এবং সাবেক এমডি তৌহিদুল ইসলাম এবং পিডিবি’র চেয়ারম্যান সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গতকাল মঙ্গলবারই বরিশালে এসে পৌছেছেন। আজ বুধবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ঢাকায় তার দপ্তরে বসে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে সামিট বরিশাল পাওয়ার সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষনা করবেন।