আজ শহীদ সেলিম-দেলোয়ার দিবস শহীদ সেলিম কন্যা ডরোথির নানা কথা

॥কমল সেনগুপ্ত॥
বাবাকে দেখেনি ডরোথি। ৪ মাস বয়সেই বাবা ইব্রাহীম সেলিম শহীদ হন। ১৯৮৪ সাল। উপজেলা নির্বাচন বাতিলের দাবীতে সারা দেশে তীব্র গণআন্দোলন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইব্রাহীম সেলিম ২৮ ফেব্রুয়ারী মিছিল নিয়ে ফুল বাড়িয়া অতিক্রম করছিলেন। তৎকালীন সামরিক স্বৈরাচার সরকারের পুলিশের ট্রাক উঠিয়ে দেয়া হল মিছিলে। শহীদ হলেন সেলিম ও দেলোয়ার। আর পিতাকে দেখা হয়নি ডরোথির। অসহায় মা অবুঝ কন্যাকে নিয়ে আশ্রয় নেন কাউনিয়া জানুকি সিংহ রোডের বাবার বাড়িতে। সেই থেকে জীবন সংগ্রাম শুরু হয় ডরোথির।
১৯৯২ সাল। প্রথম পত্রিকার খবর হয় ডরোথি। সেই ছোট্ট ডরোথি সেদিন পিতৃ হত্যার বিচার চেয়েছিল সাংবাদিকদের কাছে। ফুলের মত নিষ্পাপ মুখটা আজও চোখে ভাসে। মাঝে কেটে গেছে অনেক দিন। মিলেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেখা। পেয়েছে আর্থিক সহায়তা। জুটেছে সামান্য একটি চাকরি। এতেই খুশীতে চকমক করে জীবন সংগ্রামী ডরোথির রোদে পোড়া তামাটে মুখটা। দুঃখ করে বলে-আমার বাবাও তো স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের শহীদ। তবে কেন তার মৃত্যু বার্ষিকী সরকারি ভাবে পালিত হয় না। সে প্রশ্ন করে তবে কি বৃথা হয়ে গেল জয়নাল, জাফর, মোজাম্মেল, কাঞ্চন, দিপালী সাহা, সেলিম দেলোয়ার, রাউফুন বসুনিয়ার আত্ম বলিদান। থমকে দাড়াতে হয়। ভাবলাম আবার যদি রাজপথে প্রতিবাদের মিছিল হয়। যদি বিক্ষোভে প্রকম্পিত হয় সড়ক। তবে কে দিবে আত্মবলি দান। ডরোথি জানায়, বাবার মৃত্যুর পর পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত সে। আজও পায়নি পিতার সম্পত্তির ভাগ। মাঝে মাঝে পৈত্রিক বাড়ি বাউফলে যায়। দাদী খুব স্নেহ করেন। কিন্তু চাচারা সম্পত্তির ভাগ দিতে নারাজ। অসহায় ডরোথি তাই সাংবাদিকদের সহায়তা চায়। সংবাদিকরাই যেন তার স্বজন। বছর ঘুরে ফেব্রুয়ারী এলেই ডরোথি ছোটে পত্রিকা অফিসে। যদি মেলে বাবার সম্পত্তির ভাগ। এক সময় ডরোথি প্রশ্ন করে-আমার ভবিষ্যৎ কি? অবাক বিষ্ময়ে তাকিয়ে রইলাম। ভাবলাম কোথায় ভবিষ্যৎ এই তুখোড় ছাত্র নেতার কন্যার? যেখানে সে স্বপ্ন দেখবে।
সংগ্রামী ডরোথির জীবনে কোনদিন বসন্ত আসেনি। পাড় করেছে অনেক বৈশাখ। প্রতিরোধ করেছে কালবৈশাখীর ঝড়। গ্রীষ্মের রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ডরোথি আজ তামাটে। ভুলে যেতে চায় সে পিতা সেলিমের মর্যাদা। বর্তমানকে নিয়েই বাঁচতে চায় সে। কিন্তু তার পিতার সহযোদ্ধারা সবাই আজ প্রতিষ্ঠিত। তাদের কথায় স্বপ্ন দেখে মানুষ। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড়ে বিপর্যস্ত ডরোথিকে কে দেবে বসন্তের সন্ধান? যেখানে সে পাবে স্বপ্নের ঠিকানা।