আজ র‌্যাব-৮ এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

রুবেল খান ॥ নবম বছরের পা রাখছে র‌্যাব-৮। ২০০৬ সালের এই দিনে দক্ষিণাঞ্চল সহ ৮টি জেলা নিয়ে গঠিত র‌্যাব-৮ এর পথ চলা শুরু হয়েছিলো। আজ নবম বর্ষ পুর্তীতে বরিশাল অঞ্চলের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, অস্ত্রধারী, জলদস্যু ও বনদস্যু নির্মূলে এলিট ফোর্স নামে পরিচিত র‌্যাব-৮ এর গৌরবময় সফলতায় ভরে গেছে সাফল্যের ঝুড়ি। পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র উদ্ধার ও জঙ্গি দমনে অতুলনীয় সাফল্য বয়ে এনেছে এ বাহিনী। দিনটি পালন উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজন করেছে র‌্যাব-৮ কর্তৃপক্ষ।
বরিশাল র‌্যাব-৮ সদর দপ্তর সূত্রে জানাগেছে, সাবেক বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী, বনদস্যু ও জলদস্যু সহ সকল প্রকার অপরাধ প্রবণতা বন্ধে গঠন করা হয় র‌্যাব বাহীনি। তবে শুরুতে বরিশাল অঞ্চলে ছিলনা র‌্যাব-৮ এর নিজস্ব কোন কার্যালয়। ২০০৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকায় সমাজ সেবা অধিদপ্তরের একটি কার্যালয়ের ১১ জেলা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে র‌্যাব-৮। এরপর থেকে একের পর এক সফলতা বয়ে আনতে শুরু করে র‌্যাব-৮ এর টিম। এক পর্যায় সন্ত্রাসী এবং অপরাধীদের জম হিসেবে উপাধি পায় এ বাহীনি। র‌্যাব-৮ এর তৎপরতায় এ অঞ্চল থেকে অপরাধ প্রবণতা কমেছে বিশালাংশে। বিশেষ করে ঐশ্বর্য্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আর জীব বৈচিত্রের স্বমহিমায় বিশাল সুন্দরবন ও সমুদ্রে জলদস্যু এবং বনদস্যুদের কাল হয়ে দাড়ায় র‌্যাব-৮ এর চৌকষ দল। গোয়েন্দা নজরদারী এবং তৎপরতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত র‌্যাব-৮ এর চৌকস এবং কমান্ডো প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বিশেষ আভিযানিক দল জীবনের ঝুকি নিয়ে জলদস্যু ও বনদস্যুদের বিরুদ্ধে ৪৪টি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রতিটি অভিযানেই তারা বয়ে আনে প্রশংসনীয় সাফল্য।
এর মধ্যে গত এক বছরে র‌্যাব-৮ বরিশাল অঞ্চল সহ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে অপরাধ দমনে বেশ অবদান রেখেছে। যা সম্ভব হয়েছে শুধু মাত্র র‌্যাব-৮ এর সিপিসি কমান্ডার ক্যাপ্টেন আবুল বাশার এর চৌকষতায়। বর্তমান বরিশাল অঞ্চল সহ সংশ্লিষ্ট জেলা গুলোতে অপরাধিদের জম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন চৌকশ এই কর্মকর্তা। তিনি সহ তার র‌্যাব-৮ এর চৌকশ টিম এর ভয়ে অপরাধিরা এ অঞ্চল ছাড়া হয়েছে। ক্যাপ্টেন বাশার এর চৌকষতায় গত এক দিনে আগেও বিশাল গাজার চালন সহ র‌্যাবের হাতে আটক হয়েছে দুই যুবক-যুবতী।
এছাড়া ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের আগষ্ট পর্যন্ত মাদক, অস্ত্রধারী, জলদস্যু ও বনদস্যু সহ অপরাধি দমনের এক পরিসংখ্যানে বেরিয়ে এসেছে র‌্যাব-৮ এর এক বর্নিল সাফল্য। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত এক বছরে ১ কোটি ৩৪ লক্ষ ১ হাজার ৩০টাকার মাদক দ্রব্য উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৮ এর চৌকষ টিম। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৩২ জন মাদক ব্যবসায়ী, বনদস্যু, জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সহ ৪শ জনকে। গ্রেফতারকৃতদের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা বিচারাধিন রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মাদক দ্রব্যের মধ্যে ৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ৩৬৫ গ্রাম হেরোইন, ২৮ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা মূল্যের ৭ হাজার ২১৫ বোতল ফেন্সিডিল, ১৯ লক্ষ ৪২ হাজার ২৮০ টাকা মূল্যের প্রায় ৫৫৫ কেজি গাঁজা, ৭৬ লক্ষ ৪৯ হাজার ৭শ টাকা মূল্যের ২৫ হাজার ৪৯৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা মূল্যের ১৫ কেজি ভাং, ৬৭ হাজার ৫০ টাকা মূল্যের ২২৩.৫ লিটার দেশী মদ, ২১ হাজার টাকা মূল্যের ১৪ বোতল হুইস্কী ও ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৭৫০ টাকা মূল্যের ৬১৫ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।
মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ক্ষেত্রেও সফলতা বেশ লক্ষনীয়। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৪ সালের আগষ্ট পর্যন্ত ৯৩টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ২ হাজার ১০৩ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ, ৪৯ টি বোমা, ১০টি ম্যাগজিন ও দেশীয় তৈরী ১১৭টি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশী পিস্তল ৭টি, বিদেশী রিভলবার ৮টি, দেশি রিভলবার ১টি, এলজি ১১টি, পাইপ গান ১০টি, ওয়ান শুটারগান ১৪টি, শুটারগান ৩টি, এসবিবিএল ১৭টি, ডিবিবিএল ৬টি, কাটা রাইফেল ৩টি, পয়েন্ট ৩০৩ রাইফেল ৪টি, পয়েন্ট ২২ রাইফেল ১১টি একনালা বন্দুক ৪টি ও দোনালা বন্দুক ১টি। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৬০ জনকে।
এছাড়া দায়িত্বপূর্ণ জেলাসমূহে কালেমার দাওয়াত সংগঠনটির ধর্মীয় জঙ্গীবাদ সংক্রান্ত কার্যক্রম, জঙ্গীবাদের জন্য দল গঠনের চেষ্টা কিংবা কোন নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কিনা সে সব বিষয়গুলো সূচারুভাবে পর্যবেক্ষন করছে র‌্যাব-৮ এর টিম। একই সাথে জঙ্গী সংগঠনের গতিবিধি ও কার্যকলাপের উপর জঙ্গী সেলের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে গত ১ বছরে সুন্দরবনে বনদস্যু ও জলদস্যুদের বিরুদ্ধে ৭টি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে র‌্যাব-৮। এর মধ্যে ৬টি অপারেশনে নিহত হয়েছে দস্যু দলের প্রধান সহ ৭জন। এছাড়া ৮ দস্যুকে গ্রেফতার ছাড়াও উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র, গোলাবারু, নগদ অর্থ, নৌকা ও মোবাইল সেট সহ অন্যান্য মালামাল।
বন্দুকযুদ্ধে নিহতরা হলো মর্তূজা বাহিনী প্রধান মোঃ মোর্তুজা হোসেন রানা, ধলু বাহিনী প্রধান মোঃ হামিদ মোল¬া ওরফে ধলু, নাসির বাহিনী প্রধান নাসির ওরফে রাসেল, সর্বহারা কামরুল গ্রুপের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড জলিল বেপারী ওরফে মাছুয়া কানা জলিল। এছাড়াও বরিশাল নগরীতে ক্রস ফায়ারে নিহত হয়ে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ফারুক ওরফে পানামা ফারুক।
এছাড়া ৬টি সফল অপারেশনে এসবিবিএল ১২টি, ডিবিবিএল ৫টি, পয়েন্ট ৩০৩ রাইফেল ৪টি, পয়েন্ট ২২ রাইফেল ৬টি, এলজি ০৭টি, একনালা বন্দুক ৭টি, দোনলা বন্দুক ১টি, শটগান ৩টি, পয়েন্ট ২২ অটো রাইফেল ২টি, পয়েন্ট ২২ কাটা রাইফেল ১টি, পাইপগান ৩টি, ম্যাগাজিন ১টি, তাজা কার্তূজ ২ হাজার ৩৫ রাউন্ড, ফায়ারকৃত গুলির খোসা ৫৭টি, দেশীয় ধারালো অস্ত্র ৯টি, বান্ডুলিয়ার ৭টি, মাছ ধরা নৌকা ১টি, বাইনোকুলার ৩টি, মোবাইল এন্টেনা ২টি, নগদ ৩৪ হাজার ৬৫৬ টাকা ও ১৬টি মোবাইল সেট।
এদিকে র‌্যাব-৮ এর কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন বাশার জানান, র‌্যাব-৮ এর নবম বর্ষপূর্তী উপলক্ষে নানা আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ ৫ই সেপ্টেম্বর সকালে র‌্যাব-৮ সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যাব ও পুলিশের পতাকা সহ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। তাছাড়া র‌্যাব-৮ সদস্যদের উপস্থাপনা এবং অংশগ্রহনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আগামী ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে এক প্রীতি ভোজ এর আয়োজন করা হয়েছে।