আজ নগরবাসীর অশ্রু বিসর্জনের দিন

॥ মনজিউর রহমান শাওন ॥
আজ ০৯ এপ্রিল। বরিশালবাসীর স্বজন হারানোর দিন। ঠিক এক বছর পূর্বে এই দিনটিতেই বরিশালবাসী হারালো তাদের প্রিয় মানুষটিকে যিনি রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন সার্বজনীন আস্থার সর্বোচ্চ অবস্থানে। জরাজীর্ণ এক নগরীকে গড়ে তুলেছিলেন আলোকোজ্জ্বল দৃষ্টিনন্দন অত্যাধুনিক নগরী হিসেবে। যা আজ দৃষ্টান্ত। রাজনৈতিক বলয়ে নিজেকে আবির্ভূত করেছিলেন অনুসরনীয় ব্যক্তিতে। যার রাজনৈতিক শিষ্টাচার আর সহাবস্থানের ধারালো আঘাতে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়ে প্রতিপক্ষ অনেক নেতাই প্রতিহিংসার রাজনীতিকে জলাঞ্জলি দিয়ে আদর্শ রাজনৈতিক নেতা হওয়ার দীক্ষা নিয়েছেন, তিনি আর কেউ নন, বরিশালের সাবেক নগরপিতা, সদর আসনের আমূত্যু সাংসদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ক্ষণজন্মা কর্মবীর শওকত হোসেন হিরন। তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে কর্মময় জীবন নিয়ে কিছু লিখতে গিয়েও থেমে গেছি। কারন, তাঁর কর্মের ফিরিস্তি দেয়ার মত ন্যুনতম যোগ্যতা কিংবা আক্ষরিক দক্ষতা আমার নেই।আর প্রয়োজন ও আছে বলে আমি মনে করি না কারন তাঁর কর্ম বরিশাল বাসীর কাছে বাস্তবতা। তাই বাস্তবতার মূল্যায়ন মায়ের কাছে অনেকটা মাসির গল্পের মত। তবে তাঁর হঠাৎ করে চলে যাওয়াটা অনাকাঙ্খিত এবং ভাগ্যবিরম্বিত। ২২ মার্চ রাতে আকস্মিক অসুস্থ হওয়ার পর থেকে ৯ এপ্রিল অন্তিমক্ষণ পর্যন্ত ১৮টি দিন আবেগ উৎকন্ঠা আর প্রার্থনায় কাটিয়েছে এতদাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি মানুষ। সৃষ্টিকর্তা ডেকেছেন তাই আর সশরীরে ফিরে আসা অসম্ভব। যাত্রা করলেন, গেলেন মহাকালের পথে। ১১-০৪-২০১৪ তারিখে অন্তিম যাত্রার পূর্বে সর্বশেষ এসেছিলেন শহীদ সোহেল চত্বর, বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে (যেটি জোট সরকারের সময় ভেঙ্গে ফেলা হলে তিনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সরাসরি তাঁর নকশা, অর্থায়ন এবং তত্ত্বাবধায়নে নির্মিত হয়)। সেদিন ছিল শুক্রবার। সকাল ১১.০০ ঘটিকা। আগে থেকেই দলীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান তাদের সকলের প্রানপ্রিয় নেতা শওকত হোসেন হিরণ কখন আসবেন। হ্যা, এটা নতুন নয়। চলছে প্রতিনিয়তই, সকল দলীয় কর্মসূচীতেই এটা চিরায়িত সূচী। চিরাচরিত এ নিয়মেই নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তাদের সকলের প্রানপ্রিয় নেতার জন্য? নেতাও এলেন, কিন্তু মানলেন না চিরাচরিত নিয়ম। তিনি এলেন ভিন্ন আঙ্গিকে, আলাদা ভঙ্গিতে, একদমই স্বার্থপর হয়ে, নিথর দেহে, নির্বাক কণ্ঠে, নিস্তেজ ছিল চিরচেনা মনোবল, চূর্ণ করে তাঁর ইস্পাতকঠিন আত্মবিশ্বাস, চিরতরে স্তব্ধ করে কল্যানের চিরায়িত বানী, সর্বদা মুখে লেগে থাকা সুদৃঢ় হাসিটাও ম্লান করে যেন স্বার্থপরতার প্রতিযোগিতায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে লিপ্ত। তাই, সর্বদা ছায়ার মত লেগে থাকা নেতা/কর্মীদেরও তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ। কেউ দিলেন না চিরায়িত স্লোগান- ‘‘হিরন ভাইয়ের আগমন-শুভেচ্ছা স্বাগতম। ‘হিরন তুমি এগিয়ে চলো-আমরা আছি তোমার সাথে’, জয় বাংলা-বঙ্গবন্ধু’’। এবং তাতেই থামলেন না তারা, অশ্রুসিক্ত চোখে, অসহনীয় কষ্ট নিয়ে বুকে, বেদনার্ত আহাজারি করতে করতে প্রত্যেকেরই মুখে ছিল অব্যক্ত প্রশ্ন, কেন চলে যাচ্ছো… ??? তবুও মুখ খুললেন না তিনি। তিনি চলে গেছেন তবে রেখে গেছেন কিছু অম্লান স্মৃতি। যা নগরবাসী কোন দিনই ভুলবে না।