আজ থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ৩৮ রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘটের ডাক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ শোকের মাসের মধ্যেই বরিশালের ছয় জেলায় ৩৮ রুটে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বিভাগীয় বাস মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। গতকাল বুধবার বিকালে রূপাতলী মিনিবাস মালিক সমিতি কার্যালয়ে এক জরুরী বৈঠকে ধর্মঘটের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সহ পাঁচজনের উপর হামলাকারীদের বিচার দাবী এবং মহাসড়কে থ্রী হুইলার চলাচল বন্ধ সহ বিভিন্ন দাবীতে এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। তবে শোকের মাসের মধ্যে বাস ধর্মঘটের মত কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যেখানে শোক দিবসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশ ব্যাপী সকল আন্দোলন সংগ্রাম কর্মসুচী স্থগিত করা হয়েছে, সেখানে বাস ধর্মঘট যৌকি সঙ্গত নয় বলে মনে করছেন তারা। অবশ্য দাবী আদায়ে এছাড়া অন্য কোন পথ নেই বলে দাবী করেছেন বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য কাওসার হোসেন শিপন।
তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার ভোর রাতে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের খয়রাবাদ ব্রিজের ঢালে বাস থেকে চাঁদাবাজীতে বাঁধা দেয়ায় একদল চাঁদাবাজ সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকন এবং একজন সদস্য সহ মালিক সমিতির পাঁচ জনের উপর হামলা চালায়। এসময় তাদেরকে পিটিয়ে আহত করে তারা। এই ঘটনায় হামলাকারী চাঁদাবাজদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে আইনের সহযোগিতা এবং মামলা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনার ২৪ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও পুলিশ মামলা গ্রহন করেনি। এজন্য বাধ্য হয়ে বিভাগের ৬ জেলার ৩৮ রুটে বাস ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে গতকাল বুধবার বিকালে রূপাতলী মিনিবাস মালিক সমিতি কার্যালয়ে জরুরী সভা ডাকে বিভাগীয় বাস মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। পটুয়াখালী জেলা বাস মালিক সমিতির সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরী সভায় বাস মালিকদের উপরে হামলার প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করা হয়। একই সাথে মহাসড়কে থ্রী-হুইলার (আলফা-মাহেন্দ্র) ও ভটভটি সহ অন্যান্য অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের জোর দাবী জানান তারা। আর তাই দাবী আদায়ের লক্ষে সভায় উপস্থিত বিভাগের ৬ জেলার বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা হতে বিভাগের ৬ জেলায় ৩৮টি রুটে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাস ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাওসার হোসেন শিপন।
এদিকে শোকের মাসে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষনার বিষয়ে তিনি বলেন, শোকের মাসকে আমরা শ্রদ্ধা করছি। তাই শোকের মাসে কোন আন্দোলন হউক তা আমরা চাইনি। যে কারনে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবীতে মামলা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু থানা পুলিশ আমাদের মামলা গ্রহন করেনি। তাই বিচার পেতে আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই।
ধর্মঘট প্রসঙ্গে উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) উত্তম কুমার পাল বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে বাস মালিকদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। বিষয়টির খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে বরিশাল আলফা মাহেন্দ্র মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক শাহারিয়ার বাবু বলেন, বাস মালিক সমিতি’র দাবী অনুযায়ী মঙ্গলবারের যে ঘটনা ঘটেছে তা কয়েকজন ব্যক্তি ঘটিয়েছে। এর সাথে মাহেন্দ্র শ্রমিকরা জড়িত নন। তাই তাদের বিচার দাবীতে আন্দোলন ডাকলে সেখানে মাহেন্দ্র মালিক কিংবা শ্রমিক সংগঠনের কিছু করার নেই। তবে মহাসড়কে থ্রী-হুইলার চলাচল বন্ধের যে দাবী জানিয়েছে তা অযৌক্তিক। কেননা গেজেটে উল্লেখ রয়েছে জাতীয় মহাসড়কে থ্রী-হুইলার চলাচল করতে পারবে না। কিন্তু মহাসড়কে থ্রী-হুলার চলাচলের ক্ষেত্রে কোন বাঁধা নেই। এমনটি থাকলেও বাস মালিক সমিতি তাদের ইচ্ছে মত দাবী করে যাচ্ছে। যার কোন যৌক্তিকতা নেই।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভোর রাতে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের খয়রাবাদ ব্রিজের ঢালে মাহেন্দ্র চলাচলে বাঁধা দেয়াকে কেন্দ্র করে বাস মালিক এবং মাহেন্দ্র শ্রমিকদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষ হয়। এতে বাস মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকন সহ উভয় পক্ষের ১০ জনের মত আহত হয়। এর মধ্যে মালিক সমিতির ৫ জনকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।