আজ থেকে কীর্তনখোলা লঞ্চের ঈদের অগ্রীম টিকিট বিক্রি শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে আজ থেকে শুরু হচ্ছে বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রির কার্যক্রম। প্রাথমিকভাবে এমভি কীর্তনখোলা লঞ্চ থেকে এই কার্যক্রম শুরু হলেও বাকিগুলোর টিকিটও ২/১ দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে। অবশ্য সুরভী কোম্পানির লঞ্চে টোকেট গ্রহণ আজ শেষ হলেও টিকিট বিক্রির বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তাছাড়া ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিআইডব্লিউটিসি জাহাজের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

সূত্র মতে, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সারা দেশে ঈদ-উল-আযহা উদযাপিত হবে। আর তাই ঈদে লঞ্চে যাত্রীদের ভীড় সামলাতে এ বছর একটু আগে ভাগেই শুরু হচ্ছে কেবিনের টিকিট বিক্রির কার্যক্রম। এমনকি বিশেষ সার্ভিস চালুর বিষয়েও সম্ভব্য দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদের ৫ দিন আগে থেকে বরিশাল ঢাকা নৌ রুটের যাত্রীবাহী লঞ্চে বিশেষ সার্ভিস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। তবে এই কর্মক্রম প্রতিবারের ন্যায় এবারেও সবার আগে শুরু করতে যাচ্ছে এমভি কীর্তনখোলা লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ। তারা আজ বুধবার থেকে আসা এবং যাওয়া’র অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করবে বলে জানিয়েছেন লঞ্চ মালিক মো. মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌস।

তিনি জানান, মুসলমানদের সব থেকে বড় দুটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদ-উল-ফিতর এবং ঈদ-উল-আযহা। এই দুই সময়ে ঢাকা সহ উত্তারঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে আসে। বরিশাল-ঢাকা রুট যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে নৌ পথের ভ্রমনে আরামদায়ক এবং বিলাসী হওয়ায় এসময়ে লঞ্চে যাত্রীদের চাপ বেশি থাকে। বিষয়টি মাথায় রেখে যাতে করে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে না হয় সে জন্য কীর্তনখোলা-২ লঞ্চে ঈদের বিশেষ সার্ভিসের অগ্রীম টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে তারা।

তিনি বলেন, কোন প্রকার টোকেন কিংবা শ্লীপ পদ্ধতিতে নয়, যে আগে আসবে সেই লঞ্চের কেবিনের টিকিট পাবে। লঞ্চ ছাড়ার পূর্ব পর্যন্ত কেবিন খালি থাকলে যে আগে আসতে পারবে তাকেই কেবিন দেয়া হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কীর্তনখোলা-২ লঞ্চের নিয়মিত যাত্রীদের প্রাধান্য দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌস জানিয়েছেন, নৌ ভ্রমনে বিলাস বহুল তার এই লঞ্চটিতে মোট ১৫৬টি কেবিন রয়েছে। এর মধ্যে ডাবল শ্রেণির কেবিন ৮০টি, সিঙ্গেল ৬০টি, বিজনেসক্লাস ১২টি এবং ফেমিলি কেবিন রয়েছে ৪টি। এসব কেবিনে ঈদের আগে এবং পরের অগ্রিম টিকিট বুকিংয়ের মাধ্যমে এক সঙ্গেই পেতে পারেন যাত্রীরা।

এদিকে সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, তারাও কোন প্রকার টোকেন কিংবা শ্লীপ সিষ্টেম চালু করেন নি। যে আগে আসবে সে টিকিট পাবে। তাছাড়া নিয়মিত যাত্রীদের জন্য কিছুটা ছাড় রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তারা বিশেষ সার্ভিসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেননি। দু-একদিনের মধ্যে তাদের লঞ্চে আসা এবং যাওয়ার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করবেন।

বিশেষ সার্ভিসের বিষয়ে সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, সার্ভিস শুরুর বিষয়টি কেবিনের নয় ডেকের যাত্রীদের উপর নির্ভর করে। তাই গার্মেন্টস শ্রমিকদের ছুটি এবং বেতনের উপর নির্ভর করে বিশেষ সার্ভিস শুরু করা হবে। এ ক্ষেত্রে ঈদের পাঁচ দিন আগে থেকে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।

অপরদিকে সুরভী লঞ্চ কোম্পানির কাউন্টার ক্লার্ক জিতু জানান, তাদের কোম্পানির লঞ্চের টিকিট পেতে শ্লীপ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। গত ২২ আগস্ট থেকে টিকিট পেতে আবেদন গ্রহণ করা হয়। শেষ হবে আজ ২৪ আগস্ট বুধবার। ইতিমধ্যে অনেক আবেদন জমা হয়েছে। তবে যে পরিমান আবেদন জমা হওয়ার কথা ছিলো তার থেকে তুলনামূলক কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত অগ্রিম টিকিট বিক্রির বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২৭ জুনের পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এসব লঞ্চ ছাড়াও বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের পারাবত, টিপু, ফারহান সহ অন্যান্য লঞ্চের ঈদের বিশেষ সার্ভিসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ লঞ্চগুলোতে ঈদ সার্ভিসের আসা এবং যাওয়া দুটি টিকিট এক সঙ্গে পাওয়া যাবে বলেও জানানো হয়েছে।

অপরদিকে বিআইডব্লিউটিসি’র বরিশালের সহকারি পরিচালক জানিয়েছেন আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে তারা অগ্রিম টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করবে। কাউন্টারে না গিয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমেও ঘরে বসে টিকিট পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।