আগৈলঝাড়ায় পিটিয়ে ও কুপিয়ে যুবক হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাদক বিক্রির লেনদেন নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে এক যুবককে গন পিটুনি দিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার শিহিপাশা গ্রামে এই ঘটনায় আরো একজনকে গুরুতর অবস্থায় শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত রাসেল বেপারী (২০) উপজেলার পালরদী গ্রামের নুর ইসলাম বেপারীর ছেলে। আহত রিন্টু সরদার দক্ষিন শিহিপাশা গ্রামের মন্নান সরদারের ছেলে।
পূর্ব বিরোধের জের ধরে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। হামলা ও নেপথ্যের তথ্য নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, নিহত রাসেল বেপারীসহ তাদের পরিবারের সকলে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদকসহ চাদাবজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগে মামলা রয়েছে। আহত যুবকও তার ঘনিষ্ট সহযোগি।
তিনি জানান, উপজেলার সেরাল এলাকার সোহরাব হোসেন সেরনিয়াবাতের ছেলে সাগর সেরনিয়াবাতের সাথে সাথে মাদক বিক্রির লেনদেন নিয়ে রাসেলের বিরোধ রয়েছে। রাসেল ও সাগর সেরনিয়াবাত আগৈলঝাড়ার বাসিন্দা হলেও গৌরনদী উপজেলায় অবস্থান করে মাদক বিক্রি করে। লেনদেন নিয়ে সেখানে তাদের বিরোধ হয়। এর জের ধরে সাগরকে একা পেয়ে রাসেল ও রিন্টু পূর্ব বিরোধের জের ধরে মারধর করে। এ সময় তার ডাক চিৎকারে এলাকাবাসী এসে রাসেল ও রিন্টুকে গনপিটুনি দেয় এবং কুপিয়ে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে আহত দু’জনকে মুর্মুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে আগৈলঝাড়া ও তাৎক্ষনিক শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে (শেবাচিমে) নেয়ার পর কত্যর্বরত চিকিৎসকরা রাসেলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নিহতের মা নুরুন্নাহার বেগম অভিযোগ করেন, সাগরের কাছে পাওনা টাকা চায় রাসেল। কিন্তু সাগর তার উপর হামলার নাটক করে চিৎকার দিয়ে এলাকাবাসীকে জড়ো করে। পরে তাদের নিয়ে রাসেল ও তার সাথে থাকা রিংন্টুকে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রাখে। তাদের উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নেয়ার পর রাসেলকে মৃত ঘোষনা করেছে। এ ঘটনায় তিনি হত্যা মামলা করবেন জানিয়েছেন।
বাবা নূর ইসলাম বেপারী জানান, ছাত্রলীগের নেতা সাগর সেরনিয়াবাতের টেন্ডারের ২৬ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ হয়। কয়েকদিন পূর্বে সাগর ১৯ হাজার টাকা ফেরত দেয়। বাকী ৭ হাজার টাকার জন্য বিকেলে তাদের সেরাল যেতে বলে সাগর। বিকেলে রাসেল ও রিন্টু দুটি মটরসাইকেল নিয়ে সেরাল যাওয়ার পথে ট্যামার এলাকায় সাগর ও তার ৪-৫ জন সহযোগি তাদের গতিরোধ করে। এরপর রাসেল ও রিন্টুকে এলোপাথারী কুপিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে জখম ও উভয়ের পায়ের রগ কর্তন করে। পরে তাদের সাথে থাকা মোবাইল, টাকা নিয়ে যায়। এবং তাদের ব্যবহৃত মটরসাইকেল দুটি খালে ফেলে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন নুর ইসলাম।
আর সাগর সেরনিয়াবাত দাবী করেন, উপজেলার কালাম মৃধার অবৈধ গম বিক্রিতে বাধাঁ দেয়ায় তাকে হত্যার জন্য রাসেল ও রিন্টুকে ২ লাখ টাকায় ভাড়া করে। শুক্রবার বিকেলে সে ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে দক্ষিন শিহিপাশা এলাকায় পৌঁছুলে ওই দুই সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। সে ডাকচিৎকার দিয়ে দৌঁড়ে পাশের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। তার ডাকচিৎকারে গ্রামবাসী এগিয়ে এসে সন্ত্রাসী রিংকু ও রাসেলকে ধাওয়া করে আটকের পর গণপিটুনি দিয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, রাসেল বেপারী ও সাগর সেরনিয়াবাতের মধ্যে মাদক বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ রয়েছে। কিছুদিন পূর্বে রাসেলের পাওনা টাকার জন্য সাগরকে গৌরনদীতে আটক করে রাখা হয়েছিলো। ওই বিরোধের জেরধরেই এ হামলা ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ সুপার মো. আকতারুজ্জামান জানান, তাৎক্ষনিক বিষয়টি তদন্ত ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে রাসেলের মৃত্যুর খরব পেয়ে হাসপাতালে যান গৌরনদীর পৌর মেয়র হারিসুর রহমান।