আগৈলঝাড়ায় দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপে ঝলসে গেছে গৃহবধূর শরীর

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আগৈলঝাড়ায় গৃহবধূর শরীরে দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার দিনগত গভীর রাতে এই ঘটনায় শরীর ঝলসে যাওয়া গৃহবধূ পারভিন বেগমকে (৩৫) শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে উপজেলার ছয় গ্রামের সোহাগ বেপারীর স্ত্রী। সাবেক পোষাক শ্রমিক পারভীন নেত্রকোনা জেলার মদন থানার হাসিমপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের কন্যা। পারভীন বেগম জানান, ২০০১ সালে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকুরীর সুবাদে ছয়গ্রামের চুন্নু বেপারীর ছেলে সোহাগ বেপারীর সাথে তার প্রেম হয়। ৫ বছর পূর্বে তারা বিয়ে করে। পরে স্বামীকে নিয়ে ছয়গ্রামের শশুড়বাড়িতে বসবাস শুরু করে। তবে তাদের এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি শ্বশুর চুন্নু বেপারী, শাশুড়ী সুলতানা বেগম, ননদ কলি
আক্তার, ভাসুর হালিম বেপারী, মামুন বেপারী, দেবর সুমন বেপারী ও কাওসার। বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে তারাসহ স্বামী সোহাগ বেপারী নির্যাতন করতো। এছাড়াও তাকে দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে সংসার থেকে তাড়িয়ে দেয়ার কৌশল করে। গৃহবধূ অভিযোগ করেন, বিয়ের তিন বছরের মাথায় তার গর্ভে সন্তান আসে। কিন্তু তাকে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য স্বামীর নির্মম নির্যাতনে অনাগত সন্তান মারা যায়।তাকে তাড়াতে প্রায় ৫ মাস পূর্বে তার স্বামী সোহাগকে বিদেশ পাঠানোর নাম করে আত্মগোপনে পাঠিয়ে দেয়। সেই থেকে স্বামীর যোগাযোগ না থাকায় বৃদ্ধা দাদী শাশুরির সাথে থাকে সে। এতেও তাড়াতে ব্যর্থ হয়ে কিছুদিন পূর্বে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরের বেড়া কেটে প্রবেশ করে। বিষয়টি তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে বিচার দেয়া হয়। কিন্তু তিনি অজ্ঞাত কারনে নিরব থাকেন। আগৈলঝাড়া থানায় সাধারন ডায়রী পুলিশ রহস্যজনক ভাবে তদন্ত করেননি বলেও অভিযোগ করেন গৃহবধূ।
পারভীন জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হয়। এসময় মুখোশধারী ৩/৪ জন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এসিড নিক্ষেপ করে। এতে তার শরীরের পেছনের অংশ ঝলসে যায়। তার ডাক চিৎকারে অন্যান্যরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গৌরনদী এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী বিভাগে ভর্তি করে দেয়।
পারভীনের অভিযোগ, তাকে হত্যা এবং স্বামী সংসার করতে না দেয়ার জন্যই শ্বশুর পরিবারের সদস্যরা তার শরীরে এসিড নিক্ষেপ করেছে। তাই তিনি এর বিচার দাবী করেন।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এএমএসএম সারফুজ্জামান রুবেল জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটা ক্যামিক্যাল বার্ন। এতে তার শরীরের ১০/১২ ভাগ ঝলসে গেছে। তবে তিনি শংকা মুক্ত। কিছুদিন চিকিৎসা দিলে সুস্থ হয়ে যাবে। তবে শরীরের দাগ থেকে যাবে। এছাড়া আজ তাকে শেবাচিমের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হবে বলেও জানান এই চিকিৎসক।
এদিকে রোববার দুপুর ১টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালে পারভীন বেগমকে দেখতে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর মল্লিক সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গৃহবধূ হামলাকারী কাউকে চিনতে পারেনি। তবে ধারনা করা হচ্ছে পারিবারিক বিষয় নিয়ে এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন তারা। ইতোমধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে কার্যক্রম শুরু করেছেন।
থানায় ডায়রী হওয়ার পরেও কোন প্রকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন না করার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। থানা পুলিশ কিংবা ওসি’র দায়িত্ব অবহেলা বা গাফেলতি রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।