আগৈলঝাড়ার মাদ্রাসা ছাত্র নেয়ামতুল্লাহ’র বিরুদ্ধে কোন জঙ্গী সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের আল জামিয়াতুল নাফিজিয়া আল ইসলামিয়া মার্কাজ মাদ্রাসার কওমী বিভাগের ছাত্র নেয়ামতুল্লাহ’র বিরুদ্ধে কোন জঙ্গী সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। চাহিদা অনুযায়ী পরিবারের কাছ থেকে টাকা না পাওয়ায় সে পালিয়ে গিয়ে ঢাকার গ্যান্ডারিয়ায় জনৈক মোখলেছুর রহমান এর হোটেলে কাজ নেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নেয়ামতউল্লার কাছ থেকে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার বেলা ১২টায় নগরীর কাশিপুরে ডিআইজি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত ডিআইজি আকরাম হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। পাশাপাশি ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া বরিশালের অপর দুই যুবকের সন্ধানে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
পরিবার এবং নিখোঁজের পরে উদ্ধার হওয়া আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল গ্রামের দিনমজুর খোরশেদ বেপারীর ছেলে নেয়ামতউল্লাহ’র কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তুলে ধরে অতিরিক্ত ডিআইজি আকরাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, গত ৩০ নভেম্বর নেয়ামতুল্লাহ মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয়। এই ঘটনায় তার বাবা গত ৩ ডিসেম্বর আগৈরঝাড়া থানায় একটি সাধারন ডায়রী করেন। ডায়েরীর সূত্রধরে নেয়ামতউল্লাহর সন্ধানে কাজ করে পুলিশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানাধিন কদম রসুল মসজিদের সামনে মোখলেছুর রহমান এর রেস্টুরেন্ট হতে তাকে উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। পরবর্তীতে খবর পেয়ে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ শুক্রবার ঢাকায় গিয়ে শিশুকে নিয়ে গতকাল শনিবার বরিশালে পৌছে।
তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পেয়ে নেয়ামতউল্লাহ তার বাবার সাথে অভিমান করে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়। তার বাবা খোরশেদ বেপারী দৈনিক ৩শ’ টাকা মজুরীতে দিনমজুরী করেন। নেয়ামতুল্লাহ পড়াশোনায় ততটা ভালো নয়। সে প্রায় সময় বাবার কাছে টাকা দাবী করতো। এ নিয়ে ছেলেকে বকাঝকা করায় বাবার সাথে অভিমান করে আত্মগোপন করে নেয়ামত। নেয়ামতুল্লাহ কোন জঙ্গী কিংবা কোন অপরাধের সাথে জড়িত নয় বলে দাবী পরিবারের। তার পরেও নেয়ামতউল্লাহকে পুলিশি নজরদারীতে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা সহ কোন অপরাধমুলক তৎপরতার প্রমান পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন অপরাধের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে নেয়ামতউল্লাহকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অপরদিকে গত ১ ডিসেম্বর ঢাকার গুলশান থেকে নিখোঁজ বাবুগঞ্জের দুই যুবক মেহেদী হাসান ও সুজন ঘরামীর কোন সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত ডিআইজি আকরাম হোসেন। তবে তাদের সন্ধানে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে কোন তথ্য পাওয়া গেলে গনমাধ্যমকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন রেঞ্জ পুলিশের এই কর্মকর্তা।
সংবাদ সম্মেলন কালে অতিরিক্ত ডিআইজি ছাড়াও ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোল্লা আজাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।