আখেরী মোনাজাতে সকল হক্কানী ওলামায়ে কেরামদের এক প্লাটফর্মে আসার চরমোনাই পীরের আহবান

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ তিনদিন ব্যাপী ফাল্গুনের বাৎসরিক মাহফিলের আখেরী মোনাজাতে বাংলাদেশের সকল হক্কানী ওলামায়ে কেরামদের এক প্লাটফর্মে আসার আহবান জানিয়েছেন চরমোনাই পীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ মোঃ রেজাউল করীম। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় তার পরিচালনায় আখেরী মোনাজাতের পূর্বের বয়ানে পীর সাহেব তরীকার নিয়ম নীতি মুরিদানদের বাতলে দেন। যারা আল্লাহর রাসুলের নীতি অনুসরন করে না তারা কেয়ামতের দিনে নবীজীর সুপারিশ পাবেনা। যারা বয়াত গ্রহন করবেন তারা তরীকার পাঁচ ঔষধ ও ছবক ঠিক মতন আদায় করবেন। পরিপূর্ণ ও সহী শুদ্ধভাবে নামাজের জন্য কেরাত শিক্ষা করা ফরজ। যারা আত্মাকে পবিত্র করতে পারবে তারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। পীর সাহেব ঈমানের উপরে পরিপূর্ণভাবে মজবুত থাকার জন্য নির্দেশ দেন। আল্লাহ পাকের জিকীর অধিক করলে কলবের ময়লা দূর হয়। কলব পরিস্কার হওয়ার একমাত্র পথ জিকীর। সুবিধাবাদী নামধারী মুসলমানরাই ইসলাম, মুসলমান, আল্লাহর রাসুল (সঃ), কুরআন-হাদীস, মসজিদ-মাদরাসা, দাড়ি-টুপি সহ ইসলামী পোষাক পরিচ্ছদের দুশমন। যারা ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানান।
আখেরী মোনাজাতে পীর সাহেব বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করেন এবং বাংলার জমিনে ইসলামী হুকমত কায়েমের জন্য সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।
এছাড়া চরমোনাই পীর সাহেবের আমন্ত্রণে দ্বিতীয় দিনে আসা সৌদি আরবের ধর্ম মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা ডঃ ইব্রাহিম আব্দুল আজিজ আল জায়েদ, সৌদী রাষ্ট্রদূত ও অন্যান্য কর্মকর্তাগণ এলে মুফতি সৈয়দ মো: রেজাউল করীম, নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মো: ফয়জুল করীম ও আলিয়ার অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মো: মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী তাদেরকে স্বাগত জানিয়ে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেন। তারা জামিয়ার অধ্যক্ষের কার্যালয় ও মাহফিলের প্যান্ডেলসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে বাদ জোহর মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ড. ইব্রাহিম আব্দুল আজিজ মুসলিম দেশগুলোর সাথে বন্ধুত্ব রাখার সুবাদেই চরমোনাই পীরের আমন্ত্রণে এ মহাসম্মেলনে আসতে পেরে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করেন এবং সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে সকলকে মোবারকবাদ জানিয়েছেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মো: ফয়জুল করীম সৌদি আরবে সফরকালীন অবস্থায় যে অনাকাঙ্খীত ঘটনা ঘটেছে তা ছিল নিছক ভুল বোঝাবুঝি। এতে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এ ঘটনায় আপনাদের সাথে আমাদের বন্ধুত্ব আরও মজবুত হয়েছে। আগামী দিনে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। বিদায়ের পূর্বে দ্বীনি মিশনের স্বীকৃতি হিসেবে সৌদি বাদশাহর পাঠানো নানা প্রকার সম্মানজনক উপহার সামগ্রী পীর সাহেব মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম, মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, অধ্যক্ষ সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানীসহ পরিবারের সকল সদস্যের হাতে তুলে দেন। মাহফিলে আগত চার মুসল্লীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। তাদেরকে জানাজা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।