আকাল কাটিয়ে রুপালী ইলিশে ভরপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

জুবায়ের হোসেন ॥ চার-পাঁচ বছরের আকাল কাটিয়ে এ বছর ফের রুপালী ইলিশে ভরে উঠেছে পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র (ইলিশ মোকাম)। বিগত ৩ দিন থেকে একরকম ফাঁকা পড়ে থাকা এই ইলিশ মোকাম ফিরেছে তার চেনা রূপে। সকাল থেকে মণে মণে ইলিশ নিয়ে সামুদ্রিক ট্রলার আসার পর থেকেই তা নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন আড়ৎদার ও মৎস্য শ্রমিকরা। হাসিমুখে দিনভর প্রায় হাজার মণ ইলিশ বিক্রির জন্য সরবরাহ করছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে। বেশ কয়েক বছর পর ফের ইলিশের দেখা মেলায় প্রফুল্লচিত্তে তারা জানিয়েছেন ইলিশ রক্ষা আইন মেনে চলার সুফলের কথা। নগরীর পোর্টরোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, গত তিন দিন থেকে ইলিশে জমজমাট অবস্থায় রয়েছে ইলিশ মোকাম। সকাল ৯ টার মধ্যেই সমুদ্র ও মেঘনা নদী থেকে মাছ বোঝাই ট্রলার এসে পৌছায় অবতরণ কেন্দ্রে। এরপর আড়ৎদাররা তা বিক্রির জন্য সন্ধ্যার মধ্যেই মান, আকার ও ওজনের ভিত্তিতে ভাগ করে মোড়কীকরণ সম্পন্ন করে বিক্রির জন্য ট্রাকযোগে পাঠিয়ে দিচ্ছেন রাজধানীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে। প্রতি আড়ৎদার ২০/২২ মন ইলিশ বিক্রির জন্য আমদানী ও রপ্তানীকারক কমিশন এজেন্ট হিসেবে পাঠাচ্ছেন বিভিন্ন স্থানে। অন্যদিকে তাদের সাথে সাথে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েছে অবতরণকেন্দ্রের সাথে বিভিন্ন কাজের শ্রমিক হিসেবে থাকা শতাধিক ব্যক্তি। সকাল সন্ধ্যায় তাদের এই ব্যস্ততা ক্লান্তির বদলে দিচ্ছে স্বস্তির হাসি। কারন ইলিশের অভাবে বিগত কয়েক মৌসুম এই সময়ে তারা কর্মহীন অবস্থায় ছিল। কেউ কেউ পেশা বদল করে গিয়েছেন অন্য পেশায়। তাই মোকামে রূপালী ইলিশ তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। ইলিশ মোকামের মেসার্স লিয়া মৎস্য আড়ৎ এর স্বত্বাধিকারী এবং মাছ আমদানী ও রপ্তানীকারক কমিশন এজেন্ট মো. নাসির উদ্দিন মিয়ার সাথে এ বিষয়ে আলাপকালে তিনি জানান, ৩০ শে জুন থেকে ইলিশ শিকারের মৌসুম শুরু হয়েছে যা থাকবে ১ নভেম্বর পর্যন্ত। মৌসুমের শুরু থেকেই মোটামুটি মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়েছে। তবে গত তিন দিন থেকে সমুদ্র ও বিশেষ করে মেঘনা নদী থেকে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। বেশিরভাগ ইলিশই ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি বা তার থেকেও কিছুটা বড়। ১ কেজি বা তার থেকে কিছুটা বড় ওজনের ইলিশের প্রতি মণ’র দাম ৪০ হাজার টাকা। ৮-৯ শত গ্রাম ওজনের ইলিশের প্রতি মণ ৩০-৩২ হাজার এবং ৫-৭ গ্রামের ইলিশের মণ ২০-২২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি। মো. নাসির উদ্দিন মিয়া আরও জানান, এই ব্যবসাই তাদের ভিত্তি। তাই বিগত কয়েক বছর লোকসান গুণেও টিকে আছেন। তবে এবছর ভালই যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। ভাল আকারের এই মাছের বিষয়ে তিনি জানান, জেলেরাও এখন জাটকা ধরতে চায় না। তারা সচেতন হয়েছেন। ইলিশ রক্ষা অভিযানে অসাধুদের কারনে পুরোপুরি প্রতিপালন না হলেও যা হয়েছে তার ফলস্বরূপ আজ ইলিশে পরিপূর্ণ মোকাম। নিয়ম মানলে ভবিষ্যতে মাছে ভাতে বাঙ্গালীর হারিয়ে যাওয়া প্রবাদটি হয়ত আবারো আমরা ফিরে পাবো বলে জানান তিনি। এজন্য সর্বপ্রথম চাপিলা ধ্বংস বন্ধ করতে হবে বলেন মো. নাসির উদ্দিন মিয়া।