আকাল ও উর্ধ্বমুল্যে নর্ববর্ষে ইলিশ বিহীন পান্তা উৎসবের শংকা

রুবেল খান॥ মাত্র কদিন বাদেই বাংলা নববর্ষ ১৪২২। নব বর্ষের আগমনে নগরীর বাজারগুলোতে ইলিশের আকাল পড়েছে। সেই সাথে বেড়ে চলেছে ইলিশের মূল্য। গতকাল মঙ্গলবার দেশের অন্যতম মাছ ঘাট নগরীর পোর্ট রোড আড়ৎএ প্রায় দুই কেজি ওজনের ইলিশের মন বিক্রি হয়েছে সোয়া দুই লক্ষ টাকায়। যার ফলে এ বছর বর্ষ বরন উৎসবে ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশের আয়োজন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন নগরবাসী।
পঞ্জিকা অনুযায়ী আর মাত্র ১২দিন পর বাংলা নববর্ষ উৎসব। এজন্য নগরী সহ জেলা উপজেলা পর্যায়ে চলছে বর্ষ বরন উৎসবের নানা আয়োজন। তবে এ বছর ইলিশের উর্ধ্বমূখী মূল্য বর্ষ বরনে পান্তা ইলিশের আয়োজনের প্রস্তুতি অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে। কেননা এক দিকে বাজারে ইলিশের আকাল এবং অন্যদিকে পাইকারী ও খুচরা বাজারে ইলিশের মূল্য সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে রয়েছে। যার ফলে লোকসানের হাত থেকে বাচতে মাছের আড়ৎগুলোতে বিক্রি হচ্ছে মৌসুমি ফল তরমুজ। গতকাল পোর্ট রোডের ইলিশ মোকামে গেলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
পোর্ট রোডের মৎস আড়ৎ এর ইয়াছিন আরাফাত ফিস ঘরের মালিক ও মৎস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম ফোরকান জানান, চৈত্র’র শুরু থেকেই মোকামে ইলিশের আকাল পড়েছে। এক দিকে বর্তমানে ইলিশের প্রজনন মৌসুম বিধায় ইলিশ শিকার বন্ধ রয়েছে। মেঘনা নদীর একশ কিলোমিটারের মধ্যে মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। কিন্তু মেঘনা নদীতেই ইলিশ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া জেলেরা আশপাশ থেকে যে মাছ ধরছে তা চোরাই পথে চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। যার ফলে চলতি মৌসুমে ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে।
তিনি জানান, ৩ চৈত্র থেকে এ পর্যন্ত প্রকারভেদে ইলিশের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে। বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে যে দাম হাকানো হচ্ছে তাতে করে সাধারন এবং নি¤œ শ্রেনীর খুচরা মাছ ব্যবসায়ীরা ইলিশ কিনতে অপরাগতা প্রকাশ করছে।
আড়ৎদার রেজাউল করিম ফোরকান জানান, চৈত্র মাস শুরুর পরে গতকাল মঙ্গলবার মোকামে কিছুটা মাছ এসেছিলো। কিন্তু তাও মূল্য ছিলো আকাশ ছোয়া। তিনি জানান, গতকাল প্রায় দুই কেজি ওজনের (১ কেজি ৯শ গ্রাম) ইলিশের মোন বিক্রি হয়েছে সর্বচ্চ ১লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা দরে। এছাড়া ১ কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি মোন বিক্রি হয়েছে ৮২ থেকে ৮৪ হাজার টাকায়। তবে চৈত্রের পূর্বে এক কেজি ওজনের এই ইলিশের মূল্য ছিলো ৬২ থেকে ৬৪ হাজার টাকা। ৫শ থেকে ৭শ গ্রাম (এলসি) সাইজের প্রতিমোন ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৫ হাজার টাকায়। যার পূর্ব মূল্য ছিলো ৩২ থেকে ৩৩ হাজার টাকা। ৪শ গ্রাম (৩টিতে ১ কেজি) ওজনের ইলিশের মোন বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। এই সাইজের ইলিশের পূর্ব মূল্য ছিলো ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকা। এছাড়া ২৫০ গ্রাম (৪টিতে ১ কেজি) ওজনের প্রতি মোন জাটকা ইলিশ গতকাল বরিশাল পোর্ট রোডের ইলিশ মোকামে পাইকারী বিক্রি হয়েছে ১৭ হাজার ৭ টাকায়। কিন্তু চৈত্রের পূর্বে প্রতি মোন বিক্রি হয়েছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা কমে। চলতি চৈত্র মাসে ইলিশের মূল্য কমার কোন সম্ভাবনা নেই বলেও জানান মৎস আড়ৎদার রেজাউল করিম। তবে বাংলা নতুন বছরের ৩ রা বৈশাখের পরে সাগরে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা উঠেগেলে ইলিশের আকাল কমার পাশাপাশি মূল্যও কয়েকগুন কমে যাবে বলেও জানান তিনি।