আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্ত্রী নির্যাতনকারী এস.আই ওয়ারেছকে গ্রেফতারের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ স্ত্রী নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার হতে পারেন বরিশাল মহানগরীর কাউনিয়া থানার উপ-পরিদর্শক ওয়ারেছ। বরিশাল জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তাকে গ্রেফতারের বিষয়ে এমনি আভাস পাওয়া গেছে। ইতোপূর্বে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে থানা থেকে ক্লোজ করা হয়েছিলো এসআই ওয়ারেছকে।
সূত্রমতে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বরিশাল জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় জেলার আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা। জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলার সিভিল সার্জন ডা. এটিএম মিজানুর রহমান, মেট্রো পলিটন পুলিশের পক্ষে সহকারী কমিশনার কাজী আব্দুল কাইয়ুম, জেলা পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ভিডিপি সহ আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলো।
সভায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিশোরী স্কুল ছাত্রী গৃহবধূকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে নির্যাতন করায় বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ এবং পুলিশের এমন ঘটনায় গোটা পুলিশ বাহিনীকে কলুষিত করবে উল্লেখ করেন কমিটির নেতৃবৃন্দ।
সভায় বলা হয়, একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুল ছাত্রীকে বিয়ে করে দীর্ঘদিন ধরে ঘরে আটকে রেখে নির্মম ভাবে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছিলেন কাউনিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওয়ারেছ। পুলিশ গোটা পুলিশ বাহিনীকে কলঙ্ক থেকে বাঁচাতে এসআই ওয়ারেছকে গ্রেফতার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য জোর দাবী জানান। এমনকি মেট্রোপলিটন পুলিশের হেড কোয়ার্টারের পক্ষে সভায় অংশ নেয়া সহকারী কমিশনার কাজী আব্দুল কাইয়ুমকে এসআই ওয়ারেছকে গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেন সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম। এছাড়াও সভায় বরিশাল জেলার আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের বিষয়ে পর্যালচনা করা হয়।
উল্লেখ্য, স্ত্রীকে তিন মাস ধরে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ পাওয়ার পর গত ৫ মার্চ বরিশাল নগরীর কাউনিয়া থানাধীন চৌধুরী সড়কের একটি বাসা থেকে এসআই ওয়ারেছের স্ত্রী গৃহবধূ হাবিবা আক্তার মারুফাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবি সমিতি ও বরিশাল আইন সহায়তা কেন্দ্র। এসময় মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কাউনিয়া থানা) শাহানাজ পারভীনও উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় পরবর্তীকে এসআই ওয়ারেছকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।