আইনের পরীক্ষায় নেতা ও পুলিশ পরীক্ষার্থীদের বে-আইনী কর্মের উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আইন পরীক্ষায় বে-আইনে কর্মের উৎসব হয়েছে। আইন রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্য ছাড়াও ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রনেতা পরীক্ষার্থীরা এমন অনৈতিক উৎসব করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার আইন (ল) ১ম পর্ব পরীক্ষার কেন্দ্র সরকারী বরিশাল কলেজে এমন উৎসব হয়।
সাধারন শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ নেতা ও পুলিশের একাধিক কর্মকর্তারা পরীক্ষার্থীরা কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের সহায়তায় প্রকাশ্যে শুধু নকলই করেনি। একই সাথে উচ্চস্বরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে উত্তর সংগ্রহ করে খাতায় লিখেছে। তাদের কর্মে সাধারন পরীক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়লেও প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। তবে শেষ মূহুর্তে ম্যাজিষ্ট্রেট এসে দুই জনকে হাতে নাতে ধরে বহিস্কার করেছে।
অভিযোগকারীরা আরো জানিয়েছে, ছাত্রনেতা ও পুলিশে কর্মরত ক্ষমতাধর পরীক্ষার্থীদের আসন বিভিন্ন কক্ষে ছিল। কিন্তু রহস্যজনকভাবে সকলে কলেজের ৪০৩ নং কক্ষে পরীক্ষা দিয়েছেন। পুরো কক্ষ নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রেখে হৈ-হুল্লোড় করে পরীক্ষা দিয়েছে। কক্ষ পরিদর্শকরা গল্প-গুজব করে কাটিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কক্ষের সাধারন পরীক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, তাদের কারনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হলেও করার কিছু ছিল না। কারন যখন ম্যাজিষ্ট্রেট এসেছে। তখন কক্ষ পরিদর্শকসহ কর্মচারীরা এসে তাদের সতর্ক করেছে। তাদের কাছ থেকে নকলসহ মোবাইল সেট নিজেদের কাছে নিয়ে গোপন রেখেছে।
সরকারী বরিশাল কলেজ কেন্দ্রের আহ্বায়ক মো. সেলিম আহম্মেদ জানান, তিনি শুনেছেন ছাত্রলীগ নেতা ও পুলিশের কিছু সদস্য পরীক্ষা দিয়েছে। তবে অনিয়মের কোন খবর পাননি। সিট প্লান অনুযায়ী সবাই পরীক্ষা দিয়েছে।
তবে তিনি স্বীকার করেন পরীক্ষায় নকল করার দায়ে মিথুন চন্দ্র শীল ও মিজানুর রহমান নামে দুই জনকে বহিস্কার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য/বাংলাদেশের সাংবিধানির আইন পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬৪৯ জন।
ছাত্র নেতা এক সাথে পরীক্ষা দিয়েছেন বলে স্বীকার করে জানিয়েছে, পরীক্ষায় কোন সমস্যা হয়নি। নিরিবিলি পরীক্ষা দিয়েছেন। কোন প্রকার অনৈতিক কাজ হয়েছে কিনা তা তার জানা নেই।
কোতয়ালি মডেল থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন জানান, ল পরীক্ষার বিষয়ে তার জানা নেই। কে কে পরীক্ষা দিয়েছেন তাও তার জানা নেই।
বরিশাল জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাহিদুল করিম জানান, বরিশাল কলেজ কেন্দ্রের নিচ তলায় পরীক্ষার্থীর পকেট থেকে নকল বের হয়ে ছিল। তিনি দেখে শিক্ষকদের অবহিত করলে তারা দুই জনকে বহিস্কার করেছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের নকলের মহোৎসব সর্ম্পকে তিনি জানান, তিনি ১২ টার দিকে হল পরির্দশনে গিয়েছিলেন। আর পরীক্ষা শুরু হয়েছে সকাল সাড়ে ৯টায়। এর আগে পরীক্ষার হলে কিছু হলেও হতে পারে বলে তিনি জানান।
পরীক্ষায় অনিয়ম বিষয় অস্বীকার করে সরকারী বরিশাল কলেজ অধ্যক্ষ অলিউল ইসলাম জানান, ল পরীক্ষায় দুই জনকে বহিস্কার করা হয়েছে। তবে সবাই একই কক্ষে পরীক্ষা দিয়েছে এটা সঠিক নয়। নকল করার বিষয়টিও তার জানা নেই।