আইনী জটিলতার কারনে ২ বছরেও চাকরি ফিরে পাননি বিসিসি ১৫ কর্মচারী

রুবেল খান ॥ উচ্চ আদালতের রায় পেয়েও চাকরিতে যোগদান করতে পারছেন না বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৫ কর্মচারী। নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে দায়েরকৃত অপর একটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে প্রেরিত নোটিশ তাদের কর্মস্থলে যোগদানে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। যে কারনে গত প্রায় ১০টি বছর ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছে ওই ১৫ জন কর্মচারীকে। আদৌ তারা তাদের চাকরি ফিরে পাবে কিনা সে নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে তাদের মাঝে। কেননা বিসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছেন পুরো বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই ১৫ জনের যোগদান নেয়া সম্ভব নয়।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এ্যাড. মজিবুর রহমান সরোয়ার মেয়র থাকাবস্থায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পদে ১২১ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। এর পরে এক এগারোর সময়ে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পরে ২০০৭ সালের ১৮ অক্টোবর এক আদেশের মাধ্যমে ১২১ জনকে চাকরি হতে অব্যহতি দেন আওলাদ হোসেন দিলু।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র এর দেয়া আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে চাকরিচ্যুতরা তিন ভাবে বিভক্ত হয়ে উচ্চ আদালতে রীট করেন। দীর্ঘ দিন মামলা বিচারাধীন থাকার পরে উচ্চ আদালতের পৃথক তিনটি বেঞ্চ ওই ১২১ জনকে পূণরায় সিটি কর্পোরেশনে তাদের স্ব-স্ব পদে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৭ জুন ৯৩৭৭ ও ৮৭৮০ নং রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে পৌর-১/এম-৪/২০০১/৯৮৬ নং স্মারকে দেয়া চাকরিচ্যুতির আদেশ অবৈধ ঘোষনার পাশাপাশি রিটকারী ১৫ জনকে স্ব স্ব পদে পূণরায় যোগদানের নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। কিন্তু উচ্চ আদালতের আদেশ জারির প্রায় ২ বছর অতিবাহিত হতে চললেও কর্মস্থলে যোগদান করতে পারেননি ওই ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। অথচ একই সাথে চাকরীচ্যুত হওয়া ৬৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আদালতের মাধ্যমে চাকরী ফিরে পাবার পরে পূণরায় কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। বর্তমানে তারা বেতন-ভাতা ভোগ করলেও আদেশের রায়ের কাগজ হাতে থাকলেও পূণরায় কর্মস্থলে যোগ দিতে পারছেন না ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
এরা হলেন এমএলএসএস প্রশাসনিক শাখার জিয়াউদ্দিন পিন্টু, স্বাস্থ্য বিভাগের হিরু বেগম, হাসিনা বেগম, সাহিদা বেগম, প্রকৌশল শাখার মোসা. মাহমুদা বেগম, কেয়ারটেকার বাসট: মো. আলাউদ্দিন, স্বাস্থ্য শাখার টিকাদান কর্মী শাহনাজ পারভীন, ইপিআই কর্মী নাছিমা বেগম, জায়েদা বেগম, শাহনাজ পারভীন, শারমিন খন্দকার, শামীমা আক্তার, মোসা. মরিয়ম বেগম, শ্মশান গার্ড বাদল চ্যাটার্জী ও স্বাস্থ্য শাখার জাকির হোসেন। এদের মধ্যে চাকরি ফিরে না পেয়ে জাকির হোসেন বর্তমানে প্রবাসে বসবাস করছেন। তবে বাকি ১৪ জন অনাহার, অর্ধহারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
ইপিআই কর্মী নাছিমা বেগম বলেন, নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতি হলে কর্মকর্তারা করেছেন। এখানে আমাদের কি দোষ। আমরাতো চাকরি নিয়েছি মাত্র। তাছাড়া আদালত থেকে পূণরায় চাকরি ফিরে পেয়েছি। ২০১৫ সালে আদালত থেকে দেয়া আদেশের কপি নিয়ে বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ালেও এখন পর্যন্ত চাকরিতে যোগদান করতে পারিনি।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রনজিৎ চন্দ্র বিসিসিতে থাকাবস্থায় তিনি দীর্ঘ দিন আমাদের যোগদানের কথা বলে ঘুরিয়েছেন । সর্বশেষ যোগদান না দিয়েই তিনি চলে গেছেন। বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহেদুজ্জামান যোগদানের পরে আমরা তার কাছেও গিয়েছি। চাকরি ফিরে পেতে আদালতের আদেশ সহ আবেদন পত্র জমা দিয়েছি। মেয়র এর কাছে ধন্যা দিয়ে চাকরিতে যোগদানের জন্য অনেক আকুতি-মিনতি করেছি। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। তারা আমাদের কর্মস্থলে যোগদান নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন এমএলএসএস জিয়া উদ্দিন পিন্টু।
অভিযোগের বিষয়ে বিসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, যোগদান নেয়া হচ্ছে না এটা ঠিক নয়, তাদের যোগদান না নিলে আমাদের তো কোন লাভ লোকসানের বিষয় নেই।
তিনি বলেন, গোটা নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আরো একটি রিট হয়েছে। ওই রিটের প্রেক্ষিতে যারা চাকরি ফিরে পেয়েছেন এবং যোগদান করেছেন তাদের বৈধতা সম্পর্কে উচ্চ আদালত থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রনালয় থেকে এ সম্পর্কিত একটি চিঠি সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশনে এসে পৌছেছে। তাছাড়া উচ্চ আদালত থেকে দেয়া কর্মচারীদের পক্ষে তিনটি আদেশে তিন রকমের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। যে কারনে আমরাও এখন বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। আদালতকে কোন বিষয়ে কি জবাব দিবো, তা নিয়ে আমাদের সিটি কর্পোরেশনের আইনজীবীদের সাথে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।