আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন

ওয়াহিদ রাসেল॥ ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচন। গতকাল সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সর্বমোট ভোটারের মধ্যে ৭১২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
এদিকে নির্বাচন চলাকালে ভোট কেন্দ্রের আশপাশে পোশাকে এবং সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থানের ফলে ভোট দেননি এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার সহ সিনিয়র নেতারা। তাদের অভিযোগ গ্রেপ্তার আতংকে বিএনপি’র ১৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি।
তবে এমন অভিযোগ ভিত্তিহিন বলে দাবী করেছেন আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতা ও বারের দলীয় ভোটার এবং নির্বাচন কমিশন।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন-২০১৫ এর নির্বাচন কমিশনার এ্যাড. সৈয়দ ওবায়দুল্লাহ খান সাজু জানান, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এর মধ্যে দুপুর দেড়টা থেকে ২টা পর্যন্ত নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের জন্য বিরতি দেয়া হয়। এর পরে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এসময়ের মধ্যে ৭৯৭ জন ভোটারের ৭১২জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। যার মধ্যে অসুস্থতার কারণে নির্বাচনের এক দিন আগেই কমিশনের নিকট ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে ১২ জন।
নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদের সভাপতি প্রার্থী আনিছ উদ্দিন আহম্মেদ শহীদ ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কাজী মুনিরুল হাসান প্যানেল (সাদা দল) এবং বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি প্রার্থী মজিবর রহমান নান্টু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নাজিম উদ্দিন পান্না প্যানেল (নীল দল) অংশগ্রহণ করেছে। নির্বাচনে সর্ব প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তরুন চন্দ্র এবং সর্ব শেষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তালুকদার মো. ইউনুস-এমপি।
এছাড়াও বিশেষ ভোটারদের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, , সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট ও বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক বলরাম পোদ্দার, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাবেক ডেপুটি এটর্নি জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র কার্যনির্বাহী সদস্য বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, দেবদাস সমদ্দার প্রমুখ।
নির্বাচন চলাকালীন সময় কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার সৈয়দ ওবায়দুল্লাহ খান সাজু। এছাড়া সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ভোট গণনা শুরু হয়। গভীর রাত পর্যন্ত ভোট গণনা চলছিলো।
এদিকে নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর বিএনপি সভাপতি এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার সহ বিএনপি ও জামায়াতের ১৫ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন বারের বিএনপি সমর্থিত সাধারণ সম্পাদক মহ্সিন মন্টু। তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলনের দায়ে মামলার আসামী হওয়ায় গ্রেপ্তার আতংকে ঐসব ভোটাররা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। ভোটাধিকার বঞ্চিত অন্যান্যদের মাঝে রয়েছে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম খান রাজন, বরিশাল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ শাহীন, মহানগর জামায়াতের আমীর মোয়ায্যম হোসাইন হেলাল, বিসিসি’র ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও জামায়াত নেতা সালাউদ্দিন মাসুম, ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মীর একেএম জাহিদুল কবির প্রমুখ।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস-এমপি বলেন, বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা যে অভিযোগটি তুলেছেন তা সত্য নয়। তিনি বলেন, ঐসব নেতাদের গ্রেপ্তার করা হলে বিএনপি নেত্রী বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিন আদালত কম্পাউন্ডে উপস্থিত থাকতে পারতনা। তাহলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হতো।
আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সৈয়দ ওবায়দুল্লাহ খান সাজু বলেন, বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের এমন অভিযোগ সঠিক নয়। তাছাড়া গ্রেপ্তার আতংকে ভোট দিতে সমস্যা হবে মর্মে কমিশনের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। সে জন্য কেউ এধরনের অভিযোগ করে তাকলে তা ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন তিনি।
এদিকে রাত ১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৩১২টি ভোট গণনা হয়েছে। এর মধ্যে সভাপতি পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছিলো। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি প্রার্থী মজিবর রহমান নান্টু ১৫৫ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আওয়ামী লীগ সমর্থিত আনিচ উদ্দিন আহমেদ শহীদ পেয়েছিলেন ১৫২ ভোট। সহ-সভাপতি পদে আওয়ামী প্যানেলের মোঃ শহীদ পেয়েছিলেন ১৬৪ ভোট ও একই প্যানেলের সমীর দত্ত পেয়েছিলেন ১৪১ ভোট। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মহসিন (১) পেয়েছিলেন ১৭৩ ভোট ও তারেক ১১০ ভোট। যুগ্ম সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আলম পেয়েছিলেন ১৬৪ ভোট, মুক্তি পেয়েছিলেন ১২৬ ভোট অপরদিকে বিএনপি সমর্থিত সুফিয়া ১৪৯ ও রাহাত ১৪১ ভোট পেয়েছিলেন। অর্থসম্পাদক পদে আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থী জলিল পেয়েছিলেন ১৬৫ ভোট ও বিএনপি সমর্থিত আনিচ পেয়েছিলেন ১৩৬ ভোট।