আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের প্রচারণায় প্যানেলকে বিজয়ী করতে দিচ্ছে প্রতিশ্রুতি

ওয়াহিদ রাসেল ॥ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনী প্রচারনা জমে উঠতে শুরু করেছে। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারীর ভোটের দিনকে সামনে রেখে প্রচার প্রচারণার ব্যস্ত তিন প্যানেলের ৪৩ প্রার্থীরা। পূর্বের নির্বাচনের তুলনায় একটু অন্য ভাবেই প্রচারনায় নেমেছে তারা। বিগত নির্বাচনে দুই প্যানেলে হলেও এবার অংশ নিয়েছে ৩ প্যানেল। এরই ধারাবাহিকতায় প্রার্থীরা তাদের নিজস্ব আঙ্গিকে শুরু করেছে নির্বাচনী প্রচারণা। সমিতির সদস্যদের দ্বারে গিয়ে নিজ নিজ প্যানেলের জন্য করছেন প্রার্থীরা দোয়া ও ভোট প্রার্থনা। প্যানেলকে বিজয়ী করার জন্য দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। নির্বাচন উপ-পরিষদের আহ্বায়ক ভানু রঞ্জন দাসের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ অনুযায়ী ১১ ফেব্রুয়ারি ৩টি প্যানেলের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষমতাসীন মহাজোটের সমর্থিত প্যানেল সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ, সমন্বয় পরিষদ থেকে পৃথক হওয়া বিদ্রোহী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ। এই প্রথমবারের মত ক্ষমতাসীন মহাজোট সমর্থিত প্যানেল সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে নির্বাচন করছে। যার প্রভাব নিয়ে সংকিত মহাজোট সমর্থিত আইনজীবীরা। এ বিষয়ে মহাজোট সমর্থিত প্যানেল সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি প্রার্থী মজিবর রহমান বলেন। সমন্বয় পরিষদ থেকে বিদ্রোহ করে পৃথক হয়ে বঙ্গবন্ধু আইজীবী পরিষদ শৃঙ্খলা ভংগ করেছে। এতে তাদের দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। এতে নির্বাচনে কিছুটা প্রভাব পড়লেও প্যানেলটি তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা করেন। এছাড়াও তিনি বলেন, নির্বাচনে বিদ্রোহী প্যানেলের কথা মাথায় রেখে তারা অনেক আগেই প্রচারণা শুরু করেছে। সাধারণ আইজীবীদের দেয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন। তাদের প্যানেলটি যদি নির্বাচনে বিজয়ী হয়, তবে এই সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আদালত পাড়ায় যে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে তা সম্পন্ন করা হবে। একই সাথে মেট্রোপলিটন আদালতকে ৯ তলা বিশিষ্ট এবং জেলা ও দায়রা জজ ভবনের উপর আরও ২ তলা বর্ধিত করতে কাজ করবেন। যে সব আদালতে বিচারক নেই সেই আদালতগুলোতে বিচারকের ব্যবস্থা করবেন। এছাড়াও আইনের সুশাষণ প্রতিষ্ঠা, আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীদের সমস্যা নিরসন সহ আইজীবীদের সহযোগিতায় কাজ করার ভাব প্রকাশ করেন। এই বিষয় বিদ্রোহী বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি প্রার্থী সাইফুল আলম গিয়াস বলেন, আওয়ামি আইনজীবী পরিষদ, গণতান্ত্রিক আইনজীবী ফোরাম ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সমন্বয়ে সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদ গঠন করা হয়। এবারে নিয়ম পরিপন্থি ভাবে পরিষদ গঠন করায় তারা আলাদা প্যানেল করেছে এবং এই প্যানেলে বার কাউন্সিলের মহাজোটের আইনজীবীদের সমর্থন রয়েছে। এবারে রাজনৈতিক ঐক্য ন্যায্য দাবী ও নিয়ম পরিপন্থি ভাবে পরিষদ গঠন করায় তারা আলাদা প্যানেল করেছে এবং এই প্যানেলে বার কাউন্সিলের মহাজোটের আইনজীবীদের সমর্থন রয়েছে। পরবর্তীতে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’র বাস ভবনে আলোচনার সময় দু’প্যানেলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আহ্বান করেন সাংসদ নিজে। এ আহ্বানও অস্বীকার করে সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদ। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করে এমপি আরও বলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মনোনায়ন বাণিজ্য বন্ধ ও সিন্ডিকেটের হাত থেকে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতিকে মুক্ত করার লক্ষ্যে তারা কাজ করবে। এছাড়াও প্যানেল বিজয়ী হলে সরকারী অনুদানে আইনজীবী সমিতির জন্য আধুনিক ভবন ও বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ করবে। আরও উল্লেখ করেন আইনজীবী সমিতিতে কেবিএস আহমেদ কবির সভাপতি থাকাকালে যে ১৭ লক্ষ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে তা উদ্ধারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বঙ্গবন্ধু সৈনিক কোন হুমকীতে পরোয়া করে না, তারা নির্ভীক বিধায় সববাধা বিপত্তী জয় করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং জয়ী হবে। জাতীয়বাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সভাপতি প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বলেন, তাদের কোন বিদ্রোহী প্যানেল নাই। তারা জোট সরকারের সিদ্ধান্তকে মেনেই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছেন। সেই অনুযায়ী তারা তাদের প্যানেলকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সমিতির সকল সদস্যদের দ্বারে গিয়ে দোয়া প্রার্থনা করছেন। প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, তাদের প্যানেলটি বিজয়ী হলে আইনজীবীদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বদা কাজ করবে। আইনের শাষণ প্রতিষ্ঠা ও বাস্তাবয়নের লক্ষ্যে সর্বদাই লড়বে। এছাড়াও আইনজীবীদের ভাতা, বেনাভোলেন্ট ফান্ডের টাকা খাতে আইনজীবী সমিতির সদস্যরা সঠিক সময়ে পেতে পারে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এছাড়াও আইনজীবীদের চাহিদা অনুযায়ী বেনাভোলেন্ট ফান্ডের টাকা যাতে মৃত্যুর পূর্বে পেতে পারে সেই ব্যবস্থা, আনইজীবীদের স্বার্থে বার লাইব্রেরীর উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। এছাড়াও সাধারণ ও আইনজীবী সমিতির সদস্যদের বসার জন্য পর্যাপ্ত স্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান। অভিযোগ করে বলেন সম্মিলীত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ পূর্বেও সমিতির ভবনের উন্নয়নের কথা বলে প্যানেলকে বিজয়ী করেছেন কিন্তু কোন কাজ করেন নি। এবারও তারা একই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।