আইনজীবী মিলনের নামে মামলা, সমিতির নোটিশ পেশার আড়ালে মাদক ব্যবসার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বরিশাল জেলা আইনজীবী ভবন থেকে ফেন্সিডিল উদ্ধারের ঘাটনায় মামলা করা হয়েছে। রোববার গভীর রাতে মহানগর গোয়েন্দ পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহসান কবির বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলাটি করেন। এই মামলায় নগরীর কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোড এলাকার মদিনা মঞ্জিলের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুল আজিজ মাষ্টারের ছেলে এ্যাড. রিয়াজ উদ্দিন মিলনকে একমাত্র আসামী করা হয়েছে।
এদিকে ফেন্সিডিল উদ্ধারের পর পরই বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে এ্যাড. রিয়াজ উদ্দিন মিলন’র মাদক ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। সুবিধা ভোগের জন্য বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগের তকমা লাগানো এই আইনজীবী আইন পেশার আড়ালে আদালত পাড়া এবং তার নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন মাদকের বিশাল হাট। এর প্রতিকার চাইতে গিয়ে ইতোপূর্বে লাঞ্ছিত হয়েছে অনেকে।
বরিশাল আদালতপাড়ার একাধিক আইনজীবী জানায়, নগরীর কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোড এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ মাষ্টারের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন মিলন। সে আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার পর থেকেই জাতীয়তাবাদি আইনজীবী ফোরামের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পিট বাচাতে বিএনপি’র রাজনীতিতে নিস্কৃয় হতে থাকেন। রাজনীতিতে অবসরে থাকাকালিন এ্যাড. রিয়াজ উদ্দিন মিলন মাদক সেবনের পাশাপাশি কৌশলে মাদক ব্যবসার সাথে সংযুক্ত হন। একটি পর্যায়ে নিরাপদ মাদক ব্যবসার জন্য পবিত্র স্থান আদালত পাড়াকেই বেছে নেন তিনি।
সূত্রগুলো আরো জানান, নিরাপদে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যেতে রিয়াজ উদ্দিন মিলন এক সময় বিএনপি’র রাতনৈতিক পরিচয় আড়ালে রেখে নব্য আওয়ামীলীগ নেতা বনে যান। তবে তাকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম থেকে বহিস্কার কিংবা সে নিজে থেকেও পদত্যাগ করেনি বলে জানিয়েছেন ফোরামের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে রিয়াজ উদ্দিন মিলন আওয়ামী লীগের তকমা লাগিয়ে নিজ এলাকা এবং আদালত পাড়ায় মাদক ব্যবসা জমজমাট করে তোলেন। অন্যের নামে আইনজীবী সমিতি ভবনের চেম্বার ভাড়া নিয়ে সেখানে মাদকের গুদাম ঘর করে। শুধু তাই নয়, জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা আইন চর্চার জন্য চেম্বার না পেলেও ক্ষমতাসীন দলের দাপট দেখিয়ে মিলন একাই তিনটি চেম্বার দখলে রেখেছে। যার মধ্যে জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্ত্বরে আইনজীবী সমিতির মূল ভবনের পেছনে বর্ধিত অংশে এ্যাড. লায়লা আরজুমান বানু দিলারার নাম দিয়ে একটি চেম্বার দখলে নেয়। কিন্তু আদৌ ঐ চেম্বারে এ্যাড. দিলারার পদধুলি পড়েনি বলে দাবী করেন তিনি। তবে সেই চেম্বারেই ফেন্সিডিল এবং ইয়াবা মজুত রেখে ব্যবসা করে রিয়াজ উদ্দিন মিলন। আর তাকে এই ব্যবসায় সহযোগিতা করে তারই তিনজন সহকারী (মহুরি) সহ কয়েকজন জুনিয়র সহকর্মী।
আইনজীবী সমিতির সূত্রগুলো আরো জানায়, মিলনের পাশেই এ্যাড. গিয়াস উদ্দিন খান’র চেম্বার। মাদক ব্যবসার বিষয়টি টের পেয়ে তিনি মিলনকে বাধা দেন। এ কারনে মিলনের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয় তাকে। শুধু তাই নয় মিলনের অনৈতিক কর্মকান্ড এবং মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় তার বাবা আব্দুল আজিজ।
এই বিষয়ে আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. আনিছ উদ্দিন আহম্মেদ শহীদ বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে। তাই অপরাধী যেই হোক না কেন আইনের মাধ্যমেই তার বিচার করা হবে। এছাড়া আজ মঙ্গলতার এ নিয়ে এক জরুরী সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এদিকে সমিতির সাধারন সম্পাদক এ্যাড. কাজী মনিরুল হাসান জানান, রিয়াজ উদ্দিন মিলন’র সনদ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য আজ জরুরী সভা ডাকা হয়েছে।