অস্বস্তিতে বরিশাল মহানগর পুলিশের বিতর্কিতরা

রুবেল খান॥ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ সামসুদ্দিন এর বদলিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন সাধারণ মানুষ। তবে অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছেন মহানগরীর চার থানায় তার অনুসারী পুলিশ কর্মকর্তারা। নতুন কমিশনারের যোগদানের পরে চার থানায় ব্যাপক রদবদল হতে পারে বলে চলছে কানা ঘুষা। আর তাই একের পর এক অপকর্ম করে সাবেক কমিশনারের আশির্বাদে বহাল তবিয়তে থাকা পুলিশের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যেই শুরু করেছেন টিকে থাকার লড়াই। নতুন কমিশনারের কাছে সাধু সাজতে আটছেন নানা ফন্দি ফিকির।
জানা গেছে, দীর্ঘ শোষন নিপীড়নের পরে গত শনিবার বিদায় নিয়েছেন মহানগর পুলিশের কমিশনার মোঃ সামসুদ্দিন। তার বিদায়ের ঘন্টা বাজার সাথে সাথে নেমে গেছে মহানগরীর ১০ লাখের বেশি মানুষের গলার কাটা। সেই সাথে গতকাল শনিবার মহানগর পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে যোগ দিয়েছেন চৌকষ পুলিশ কর্মকর্তা শৈবাল কান্তি চৌধুরী। আজ আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তিনি দায়িত্ব ভার গ্রহনের পাশাপাশি মহানগরী ঘুরে দেখবেন বলে কমিশনার কার্যালয়ের সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে পুলিশের চৌকষ কর্মকর্তা শৈবাল কান্তি চৌধুরীর যোগদানের পর পরই অস্বস্তি শুরু হয়েছে সাবেক কমিশনার মোঃ সামসুদ্দিনের অনুসারী মহানগরীর চারটি থানার কর্মকর্তাদের মাঝে। সাবেক কমিশনারের আর্শিবাদে থানায় বহাল তবিয়তে টিকে থাকা এবং সাধারন জনগনকে ফাঁদে ফেলে ধরাকে সরাজ্ঞান করা ওসি, এসআই এবং এএসআই সহ পুলিশের সদস্যরা এখন নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ছুটে চলেছেন।
বিশেষ করে মহানগরীর কোতয়ালী মডেল থানা, কাউনিয়া, বন্দর এবং এয়ারপোর্ট থানাকে পরিণত করা হয়েছিলো নানা অপকর্ম, সাধারন জনগনের প্রতি নির্যাতন-নিপীড়ন ক্ষেত্র। সাধারন জনগনের শেষ আশ্রয়স্থল থানাগুলো ভয়ংকর হিসেবে পরিণত হয়েছিল। সাবেক কমিশনারের প্রশ্রয়ে মহান পেশার গায়ে লেপন করে দিয়েছেন কালিমা।
এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোতয়ালী মডেল থানার মডেল ওসি শাখাওয়াত হোসেন। এই ওসি যোগদানের পর কোতয়ালী থানাকে অপরাধ এবং অনিয়মের আতুড় ঘরে পরিনত করেছেন। খেটে খাওয়া নির্দোষ অসহায় মানুষদের থানায় ধরে এনে রাতভর নির্যাতন নিপীড়ন করে টাকা আদায় করা ছিল নিত্য দিনের অভ্যাস। সকল গন্ডি পার হয়ে বিএনপি সরকারের সাবেক এক মন্ত্রীর আশির্বাদে চাকুরী পাওয়া ওসি শাখাওয়াতের নির্যাতন এবং লাঞ্ছিতের শিকার হয়েছেন অনেক সাংবাদিকও। তিনি এখানে আসার পর থেকে তার আর্শিবাদ পুষ্ট কয়েকজন ফটো সাংবাদিক ছাড়া সিনিয়র সাংবাদিকরা ভুলেও অপমানের ভয়ে থানার পথে যেতেন না। সাবেক কমিশনার মোঃ সামসুদ্দিনকে খুশি করে বহাল তবিয়তেই রয়েগেছেন কোতয়ালী থানার আলোচিত সমালোচিত ওসি শাখাওয়াত। এ থানায় তার সারিতে রয়েছেন এসআই মহিউদ্দিন ও এএসআই সমিরন মন্ডল সহ আরো বেশ কয়েকজন। এরা মহানগর পুলিশে বছরের পর বছর থেকে করেছেন নানা অপকর্ম। কিন্তু হয়নি কোনটিরই শাস্তি। উল্টো খারাপ কাজের জন্যও কমিশনারের কাছ থেকে পেয়েছেন আর্শিবাদ এবং সম্মাননা।
কোতয়ালী থানার ন্যায় একই চরিত্রের ছাপ রয়েছে কাউনিয়া থানায় সামসুদ্দিনের আশিবাদপুষ্ট অফিসার ওসি কাজী মাহবুবর রহমান, এসআই কামরুজ্জামান, এএসআই বশির ও এএসআই জসিম উদ্দিন। এয়ারপোর্ট থানায় রয়েছেন সেকেন্ড অফিসার এসআই আবুল খায়ের। তিনি এয়ারপোর্ট থানায় থেকে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজী, দলীয় নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসিয়ে ঘুষ বাণিজ্য, গরুচোরকে আটকে রেখে চাঁদাবাজী সহ কয়েক ডজন অভিযোগ রয়েছে খায়েরের বিরুদ্ধে। প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা থাকলেও তার বিরুদ্ধে হয়নি কোন এ্যাকশন। তবে পুলিশ কমিশনার সামসুদ্দিনের আশির্বাদে থেকে অপরাদের শাস্তি হিসেবে সেকেন্ড অফিসারের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। আর মাথার উপরে কমিশনারের আর্শিবাদ থাকায় থানার সিনিয়র কর্মকর্তাদেরও গুরুত্ব দেননা তিনি। এ থানায় খায়েরর স্বভাবে রয়েছেন আরো কয়েকজন এসআই ও এএসআই।
অন্যদিকে বিএমপি’র সাবেক কমিশনার মোঃ সামসুদ্দিনকে তেল দেয়ায় কোন দিক থেকে পিছিয়ে ছিলেন না বন্দর থানার ওসি রেজাউল ইসলামও। নগরী থেকে বিচ্ছিন্ন এলাকায় থানা হওয়ায় সেখানে তিনি অপরাদের আখড়া খানা করে রেখেছেন। সংখ্যালঘু নির্যাতনের ক্ষেত্রে তিনি রেকর্ড করেছেন। বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেয়া হিন্দুদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা সাজিয়ে তাদের দেশ ছাড়া করার হুমকি দিয়েছিলেন। চোরা চালান, চাঁদাবাজী সহ অন্যসব কাজেও বেশ পারদর্শী তিনি বিশেষ করে কীর্তনখোলা নদীতে তেল চুরির ঘটনায় তিনি কমিশন খান। কমিশনারকে খুশি রেখেই করেছেন এসব অপকর্ম। এ থানায় ওসি রেজাউল করিমের সাথে তাল মিলিয়ে থানায় টিকে আছেন এসআই আসাদ, এসআই আসাদুজ্জামান সহ আরো বেশ কয়েকজন। এরা ঘুষ বাণিজ্য করে শুধু নিজেদের পকেট ভরেননি। ভাগ দিয়েছেন উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদেরও।
চারটি থানার এসব অফিসাররা অনৈতিক কাজ করে পার পেয়ে গেছেন। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা, যাত্রা-জুয়ার আসর থেকে ঘুষের টাকা আদায় করে কমিশনারের কাছে পৌঁছে দেয়াও ছিলো তাদের প্রধান কাজ। আর তাই নতুন কমিশনারের যোগদানের পরে ঐ সব কর্মকর্তাদের মধ্যে কাপুনি শুরু হয়েছে।
কেননা চৌকষ এ কর্মকর্তা যোগদানের পরে মহানগর পুলিশের মধ্যে সকল অপকর্ম এবং জঞ্জাল দুর করে একটি সুন্দর নগরীতে পরিণত করবেন। এমন আভাসে ঘুনে ধরা পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে এখন সাইজ হওয়ার আতংক ভর করেছে।