অস্ত্রপচারের সময় গলা কেটে শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর চিহ্নিত সেই হাতুড়ে ডাক্তার হারুন অর রশিদের অপচিকিৎসায় ঝড়ে গেল ১৭ মাস বয়সী আরো একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ। টনসিল অপারেশনের নামে শিশুটিকে জবাই করে হত্যা করেছে বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন শিশুর মা। সেই সাথে লাশ জিম্মি করে আইসিইউ চিকিৎসার নামে হাজার হাজার টাকা অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ করা হয়েছে নগরীর ক্লাব রোডের সাফায়াত জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
মৃত শিশুর মা ঝালকাঠি সদরের বাসন্দা ব্রীজ সংলগ্ন রাসেল মিয়ার স্ত্রী পারভিন বেগম জানান, তার শিশু কন্যার গলায় টনসিল টিউমার ধরা পরে। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকার চিকিৎসকরা বয়স কম দেখে শিশুটির গলায় অস্ত্র পচার না করে বাড়ীতে ফিরিয়ে দেয়। বরিশালে ফিরে দালালদের খপ্পরে পরে শিশুটিকে নিয়ে গতকাল সকাল ৮টার দিকে নগরীর পুলিশ লাইনের সামনে ডাক্তার হারুন অর রশিদ এর স্মরনাপন্ন হন। বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের সাবেক ইএনটি চিকিৎসক ডাঃ হারুন শিশুটিকে ভালোভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা না করেই ১৩ হাজার টাকা চুক্তিতে অপারেশনের কথা বলে। এমনকি পরিবারের কারো সম্মতি না নিয়েই বেলা ১১টার দিকে পুলিশ লাইনের সামনে ডাঃ হারুনের অবৈধ ক্লিনিকে শিশুটির গলায় অস্ত্র পচার শুরু করেন। এ সময় শিশুটিকে অজ্ঞান করার দায়িত্বে ছিলেন কথিত এ্যানেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ ডাঃ এসএম জালাল উদ্দিন।
এদিকে অস্ত্র পচার শুরুর প্রায় আড়াই ঘন্টা পর শিশুর অবস্থা আশঙ্কা জনক বলে জরুরী আইসিইউ (লাইফ সাপোর্ট) দেয়ার জন্য বলেন। এমনকি বলা মাত্রই কশাই খ্যাত ডাক্তার হারুন অর রশিদের ক্লিনিক থেকে শিশুটিকে ক্লাব রোড শেফাইত জেনারেল হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট দিতে নিয়ে যায় এই প্রতিষ্ঠানটির ক্লিনিকাল পরিচালকের দায়িত্বে থাকা ডাঃ এসএম জালাল উদ্দিন। প্রতিদিন ১৭ হাজার টাকা ব্যয় চুক্তি সাপেক্ষে শিশুটিকে আইসিইউ সাপোর্ট দেয়া শুরুর সাথে সাথেই টাকা পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে শিশুটির আইসিইউ সাপোর্ট বন্ধ রেখে তার পরিবারের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা জোর করে নিয়ে নেয়। এরপর পুনরায় লাইফ সাপোর্ট দিতে শুরু করে। এভাবে চলতে থাকলে রাত ১০টার দিকে ডাঃ এসএম জালাল উদ্দিন শিশুর পরিবারকে জানায় তাদের সন্তান বেঁচে নেই। এসময় শিশুর পরিবার উত্তেজিত হয়ে চিকিৎসক এবং দায়িত্বরতদের লাঞ্ছিত করে। খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
এ বিষয়ে শিশুটির মা পারভিনের অভিযোগ অপারেশন টেবিলেই তার মেয়ের মৃত্যু হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা টাকার লোভে তার মেয়েকে আইসিইউ চিকিৎসার নামে নাটকীয়তা করেছে।
জানতে চাইলে ডাঃ এসএম জালাল উদ্দিন বলেন, লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এজন্য আমরা কেউ দায়ী না।
মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুরাদ জানান, বিষয়টি তারা শুনেছেন। শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা বা অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে কশাই খ্যাত ডাক্তার হারুন অর রশিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আত্মগোপনে থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।