অল্পের জন্য রক্ষা পেলো এমভি ফারহান-৭ লঞ্চের ২ সহ¯্রাধিক যাত্রী

রুবেল খান॥ এমভি পিনাকের ন্যায় আরো একটি দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলো ঝালকাঠি-ঢাকা রুটের এমভি ফারহান-৭ লঞ্চের দুই সহ¯্রাধিক যাত্রী। বরিশাল ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চটি মাঝ পথে ডুবে যাওয়ার আশংকায় নৌ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পুনরায় ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয় লঞ্চটিকে। একই সাথে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও অসদাচরনের অভিযোগের এমভি ফারহান লঞ্চটির সুপারভাইজার ও মাষ্টারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যামান আদালত।
এদিকে যাত্রীরা মাঝ নদীতে লঞ্চ হেলে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লঞ্চ ও বন্দর কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবী লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রীবহন করায় মাঝ নদী থেকে লঞ্চটিকে ঘাটে ফিরিয়ে এনে যাত্রী নামানো হয়েছে।
এমভি ফারহান-৭ লঞ্চে চেপে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাওয়া নলছিটির রফিকুল হক জানান, তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। ঈদের ছুটিতে বরিশালে এসেছিলেন। ঝালকাঠি থেকে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে এমভি ফারহান-৭ লঞ্চে উঠেছিলেন তিনি। রফিকের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা জানান, বরিশাল থেকে বেলতলা নামক স্থানে গেলে লঞ্চটি ডান দিকে হেলে পড়ে। এ সময় লঞ্চ কর্তৃপক্ষ মাইকের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক এবং দৌড়ঝাঁপ না করার জন্য পরামর্শ দেন। পরে লঞ্চটি বরিশাল নৌ বন্দরে ফিরিয়ে এনে অতিরিক্ত যাত্রী নামিয়ে দেয়।
একই লঞ্চের যাত্রী ঝালকাঠির শ্রীমন্তকাঠি গ্রামের বাসিন্দা, ঢাকার গার্মেন্টস্ শ্রমিক সুজন জানায়, সন্ধ্যা ৬টার দিকে লঞ্চটি ঝালকাঠি থেকে ছেড়ে আসে। দপদপিয়া থেকে মাঝনদীতে ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী উঠায়। রাত পৌনে ৮টার দিকে বরিশাল নৌ বন্দরে ঘাট দিয়ে সেখান থেকেও অতিরিক্ত যাত্রী উঠায়। এতে লঞ্চের ছাদে পর্যন্ত যাত্রী বোঝাই হয়। ৬৩৯ জন যাত্রী ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ফারহান-৭ লঞ্চটি প্রায় দুই হাজার যাত্রী বোঝাই করে বরিশাল নৌ বন্দর থেকে ছেড়ে গিয়ে বেলতলা এলাকায় ডান দিকে হেলে পড়ে। সুজন আরো জানায়, এর পরেও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ফারহান নামক লঞ্চটিকে ঘাটে ভেরায়নি। অবশেষে নৌ চেয়ারম্যান লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে ফোনের মাধ্যমে লঞ্চ বরিশালে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশ দেন।
বরিশাল নৌ বন্দর কর্মকর্তা মোঃ শহিদ উল্যাহ বলেন, লঞ্চটি নৌ বন্দরে ঘাট দেয়ার চেষ্টা করলে লঞ্চের মাষ্টারকে নিষেধ করা হয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বন্দরে ঘাট দিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী উঠায়। এমনকি তাদের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায়। তিনি বলেন, পরবর্তীতে নৌ চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে লঞ্চটি ঘাটে ফিরিয়ে আনেন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অতিরিক্ত যাত্রী নামিয়ে দেয়া হয়।
নৌ বন্দরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী হাকিমের ক্ষমতাপ্রাপ্ত বাকেরগঞ্জের এসিল্যান্ড দিপক কুমার রায় জানান, পূর্বে থেকেই তথ্য ছিলো ফারহান-৭ লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে। লঞ্চের মাষ্টারকে লঞ্চটি না ছাড়ার জন্য মোবাইল ফোনে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এ জন্য লঞ্চটিকে ফিরিয়ে এনে প্রথম শ্রেণীর মাষ্টার শেখ মোঃ আমির হোসেনকে ১০ হাজার এবং সুপারভাইজার মৌজে আলীকে অতিরিক্ত যাত্রীবহনের দায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী নামিয়ে রাতে লঞ্চটি ছেড়ে দেয়া হয়।
লঞ্চের সুপারভাইজার মৌজে আলী দাবী করে বলেন, নদীতে লঞ্চ হেলে পড়েনি। মাঝ নদীতে ট্রলারের মাধ্যমে কেবিনের যাত্রী উঠানো হয়েছে। এজন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ ভেবেছিলো মাঝ নদীতে অতিরিক্ত যাত্রী উঠানো হচ্ছে। এজন্যই লঞ্চটিকে ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এদিকে শুধু এমভি ফারহান-৭ লঞ্চটিই নয়। গতকাল সন্ধ্যা থেকেই একটি ভায়া সহ ১৪টি লঞ্চেই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে বরিশাল নৌ বন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। প্রতিটি লঞ্চের সামনে, কেবিনের পাশে এমনকি ছাদেও গো গাদাগাদি করে যাত্রী উঠানো হয়। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা এসব চিত্র প্রত্যক্ষ করলেও বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ করেন লঞ্চের যাত্রীরা। বন্দর এবং নৌ কর্তৃপক্ষের নিরবতার ফলে লঞ্চ ডুবির মত দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার কে নিবে সেই প্রশ্ন সাধারন যাত্রীদের।