অর্থ আত্মসাতের ১২ দিন পর ‘রূপসী বাংলা র‌্যাফেল ড্র’র টিকেট বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ টিকেট বিক্রির কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাত করে পালিয়ে যাওয়া রূপসী বাংলা র‌্যাফেল ড্র’র কার্যক্রম পূনরায় শুরু হয়েছে। পুলিশের হস্তক্ষেপে বন্ধ হওয়া কাউনিয়া হাউজিং এর আনন্দ মেলায় গতকাল শনিবার থেকে এই র‌্যাফেল ড্র’র টিকেট বিক্রি শুরু হতে দেখা গেছে। তবে পূর্বের টাকা ফেরত বা সেই টিকেটের ড্র না দিয়ে রূপসি বাংলা র‌্যাফেল ড্র’ কার্যক্রম নতুন করে শুরু হলেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন।
সূত্রমতে, নগরীর কাউনিয়া হাউজিং এলাকায় আয়োজন করা হয় আনন্দ মেলা। সেখানে মেলার নামে যাত্রার প্যান্ডেলে অশ্লিল নৃত্য ও জুয়ার পাশাপাশি শুরু হয় র‌্যাফেল ড্র। রূপসী বাংলা র‌্যাফেল ড্র’ নামের জুয়ায় প্রতিদিন রাস্তায় ঘুরে এবং মেলার মাঠে অবস্থান করে টিকেট বিক্রি করে র‌্যাফেল ড্র কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন মোটর সাইকেল সহ বিভিণœ পণ্য দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারন মানুষের কাছ থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় রূপসী বাংলা র‌্যাফেল ড্র’ কর্তৃপক্ষ।
গত ৩০ মার্চ দিন ভর লাখ লাখ টাকার টিকেট বিক্রি করে কাউনিয়া হাউজিং এর আনন্দ মেলার রূপসী বাংলা র‌্যাফেল ড্র’ কর্তৃপক্ষ। আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বাশার এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই র‌্যাফেল ড্র’ ঐদিন রাতে ড্র’র কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার সুবাধে প্রশাসন আনন্দ মেলা বন্ধ করে দেয়ার সুযোগে সাধারন মানুষের কাছ থেকে টিকেট বিক্রির কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে চমপট দেয় র‌্যাফেল ড্র’ কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে আ’লীগ নেতা আবুল বাশারের নেতৃত্বে ভাগবাটোয়ারা করা হলেও ফেরত পায়নি সাধারন মানুষ। এ নিয়ে গত ৩১ মার্চ আজকের পরিবর্তনে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এদিকে প্রতারনা করে টাকা আত্মসাতের ১২দিন পর গতকাল শনিবার থেকে পূনরায় কাউনিয়া আনন্দ মেলার ‘রূপসী বাংলা র‌্যাফেল ড্র’র টিকে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে গতকাল শনিবার রাতে ৩০ মার্চের বিক্রিত টিকেটের ড্র’ আনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে স্থানীয় সাধারন মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভের। তবে ক্ষমতাসিন দলের নেতা-কর্মীরা আনন্দ মেলা ও রূপসী বাংলা র‌্যাফেল ড্র’ পরিচালনা করায় অর্থ আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না তারা।
এই বিষয়ে ৩১ মার্চ সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত আ’লীগ নেতা আবুল বাশার স্থানীয় একটি পত্রিকায় টাকার বিনিময়ে প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ৩০ মার্চ থেকে লটারী কার্যক্রম বন্ধের পূর্বে বিক্রি করা লাটারীর ড্র’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী এবং লটারীর ড্র’র জন্য আনন্দ মেলার মাঠে যাওয়া ব্যক্তিরা অভিযোগ করেছেন আ’লীগ নেতা আবুল বাশারের এমন দাবী ভিত্তিহিন।