অর্থের অভাবে পুড়ে যাওয়া আদালতের নির্মাণ কাজ বন্ধ

ওয়াহিদ রাসেল॥ অর্থ বরাদ্দের অভাবে বন্ধ হয়ে আছে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে পুড়ে যাওয়া আদালতের নির্মান কাজ। ২ মাস অতিক্রম হলেও পুড়ে যাওয়া আদালতের টিনসেড ভবনটির টিনের ছাউনি দেয়া ছাড়া আর কোন কাজই হয়নি। ওই অবস্থাতেই রয়েগেছে পুড়ে যাওয়া আদালতসহ বিচারকের খাস কামরা ও ৩টি সেরেস্তা। এর মধ্যে রয়েছে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪র্থ আমলী আদালতের এজলাস, বিচারক খাস কামরা, বাবুগঞ্জ, বানারীপাড়া সহকারী জজ আদালতের সেরেস্তা ও জেলা সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের ভিপি সম্পত্তির দলিল রাখার কক্ষ। পুড়ে যাওয়া আদালতের নির্মান দায়িত্বে থাকা মোঃ জিলানি চৌধুরী জানান, জেলা ও দায়রা জজ ও চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর মৌখিক নির্দেশে তিনি আদালত নির্মানের কাজ শুরু করেন। এ সময় আদালতের পক্ষ থেকে তাকে কোন ধরনের টাকা দেওয়া হয়নি। যতটুকু কাজ করা হয়েছে সম্পূর্ণটা তার নিজের খরচে। বৃষ্টিতে যাতে আরও ক্ষতি না হয় এর জন্য টিনের ছাউনি দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান অর্থ বরাদ্দের অভাবেই নির্মান কাজ বন্ধ হয়ে আছে। তাকে কোন টাকা না দেয়ায় কাজ অগ্রসর করা সম্ভব হচ্ছে না। কাজ বাকি রয়েছে আদালতের সিলিং করা দরজা জানালা ঠিক করা, দেয়াল করা, ফ্লোর ও স্যানিটারি সহ ব্যাহ্যিক কাজগুলো। এতে সব মিলিয়ে প্রায় ১০লাখ টাকার মত খরচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি টাকা ঠিক ভাবে দেয় হয় তাহলে প্রায় ১ মাসের মধ্যে আদালতের বাকি কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গত ১২মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল জজ কোর্টের পিছনের দিকের টিনসেড ভবনে রহস্যজনকভাবে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ওই ভবনে থাকা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪র্থ আমলি আদালতের এজলাস সহ বিচারকের খাস কামরা, ২টি সেরেস্তা ও ভিপি দলিল রাখা একটি কক্ষ পুড়ে যায়। এ সময় আদালতের বিভিন্ন আসবাবপত্র সহ মামলার গুরুত্বপূর্ন নথিপত্র পুড়ে যায়। এতে প্রায় ২ হাজারের বেশি মামলার নথিপত্র পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট আধাঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হলেও নষ্ট হয় আদালতের আসবাবপত্র সহ নথিপত্র। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস থেকে আগুন লাগার প্রতিবেদনে দুর্বৃত্তদের কথা উল্লেখ করা হয়। এর প্রেক্ষতে আদালতে বিচারকদের সমন্বয়ে ৫ সদস্য বিশিস্ট তদন্ত কমিটি গঠন এবং কোতয়ালি মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে ২০ দলীয় জোটের নামধারী ৬জন সহ অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামী করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে। এতে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চান, সম্পাদক এ্যাডঃ আবুল কালাম শাহীনসহ আরও অনেককে নামধারী আসামী করা হয়। পরবর্তীতে অগ্ন্কিান্ডের ঘটনায় গঠিত দলটি সরকারের অনিষ্টের লক্ষ্যে অগ্নিকান্ডের ঘটনার বিবৃতি দিয়ে জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আনোয়ারুল হকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর আদালতের কাজ শুরু করা হলেও অর্থের অভাবে ছাউনি দেয়ার পরপরই বন্ধ হয়ে রয়েছে কাজ।