অর্থসংকটে সংস্কার হচ্ছে না চরআইচা মিরাবাড়ি জামে জোড় মসজিদের

সিদ্দিকুর রহমান ॥ সংস্কার ও অর্থসংকটের অভাবে পুরনো ঐতিহ্য ফিরে পাচ্ছেনা প্রায় সাড়ে তিনশ বছর পুরনো চরআইচা মিরাবাড়ি জামে জোড় মসজিদ। যার ফলে প্রাচীন বৈশিষ্ট্যগুলো সম্বলিত এই মসজিদটি কালের বির্বতনে নস্ট হয়ে যাচ্ছে। চুন সুড়কির করা পুরাতন ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটির ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের প্রতি আহবান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে মিরাবাড়ীর বংশধররা এই মসজিদটি রক্ষনা বেক্ষনে সামান্য কিছু সংস্করন করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাছাড়া পুরাতন এই মসজিদটি জায়গা সংকুলন এবং দিন দিন নামাজ আদায় করার অনুপোযোগী হয়ে পড়ছে। যার ফলে স্থানীয়রা মসজিদের সাথেই সামান্য বর্ধিত করে ইটের দেয়াল দিয়ে সেখানে নামাজ আদায় করছে। কিন্তু অর্থ সংকটের অভাবে মসজিদটির বর্ধিত করনের জায়গায় ছাদের ঢালাই দিতে পারছেনা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাকির গাজী জানান, বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে ব্রিটিশ আমল বা তারও আগে নির্মিত এই মসজিদটি। তবে এই মসজিদটির নির্মানের সঠিক সময় বলতে পারেনি তিনি। এছাড়াও বরিশালের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে এখনো অর্ন্তভুক্ত হয়নি প্রায় সাড়ে তিনশ বছর পুরনো চর আইচা মিরাবাড়ি জামে জোড় মসজিদ। যার ফলে প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে এই প্রাচীন মসজিদটির ঐতিহ্য রক্ষায় কোন ব্যবস্থা হচ্ছে না। তাই প্রাচীন এই ঐতিহ্যটি আজ বিলুপ্তর পথে।
বরিশাল – ভোলা মহাসড়কের পাশে শহরের পূর্বদিকে সদর উপজেলার চর আইচা গ্রামের মিরাবাড়িতে (বর্তমান গাজী বাড়ি) এই প্রাচীন মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদটির উপরিভাগে বড় আকারের গম্বুজ রয়েছে। এছাড়াও মসজিদের উপরিভাগ এবং পাশে পূর্বে কারুকাজ ছিল। তবে বর্তমানে তার অস্তিত্ব নেই। এছাড়াও প্রাচীন এই মসজিদটি উন্নয়নে কেউ এগিয়ে আসে না। যার ফলে সংস্কার করা যাচ্ছে না।
এদিকে স্থানীয়দের থেকে চাঁদা এবং মসজিদের দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে সামান্য বর্ধিত করন করার কাজ শুরু করা হলেও অর্থের অভাবে সেই কাজটিও থেমে আছে। এসময় তিনি জেলা প্রশাসন ও প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের কাছে এই মসজিদটি রক্ষার জন্য সাহায্য আবেদন জানিয়েছেন।