অমৃত লাল দে কলেজের নিখোঁজ ছাত্রর লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নিখোঁজের দু’দিন পরে নলছিটি উপজেলাধীন সুগন্ধা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বরিশাল অমৃত লাল দে কলেজ ছাত্র মো. সাজেদুল ইসলাম শাহারিয়া (১৮) এর মৃত দেহ। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের গোদন্ড গ্রামের স্টীমার ঘাট এলাকা থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে নলছিটি থানা পুলিশ। মৃত শাহরিয়ার বরিশাল নগরীর ১১নং ওয়ার্ডস্থ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ লেন এর বাসিন্দা এবং পটুয়াখালীতে নৌবাহিনীতে কর্মরত নজরুল ইসলামের ছেলে। সে বরিশাল অমৃত লাল দে কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। গত ১৪ই আগস্ট থেকে নিখোঁজ ছিলো শাহরিয়ার। এই ঘটনায় ওইদিনই বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করা হয়। যার নং-৮৪১। এদিকে নিখোঁজ সন্তানের মৃত দেহ নদী থেকে উদ্ধারের পরে পরিবার, স্বজন এবং সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন হারানোর কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে আকাশ বাতাস। তবে কলেজ ছাত্রকে হত্যার কান্ডের ঘটনায় কাউকে আটক কিংবা হত্যার নির্দিষ্ট রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঝালকাঠির নলছিটি থানা পুলিশের অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) এসএম সুলতান মাহমুদ জানান, সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারেন সুগন্ধা নদীতে স্টিমার ঘাট এলাকায় একটি লাশ ভাসছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। পরে স্বজনদের খবর দেয়া হলে তারা এসে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেন। এর পর সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতারের মর্গে প্রেরন করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নলছিটির ষাটপাকিয়া কাঠিপাড়া গ্রামে নিহত শাহরিয়া’র জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। ওসি বলেন, ধারনা করা হচ্ছে এটি হত্যাকান্ড। গত দু’দিন পূর্বে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলা হয়। পরে তা ভাসতে ভাসতে সুগন্ধা নদীতে এসে পৌছায়। প্রেম সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকান্ড ঘটতে পারে বলে ধারনা করেন তিনি। সুরতহাল প্রতিবেদনে উদ্ধার হওয়া লাশের শরীরের কোথাও মারধর কিংবা জখমের আলামত পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে বিষয়টি নিয়ে পরিবার কোন থানায় মামলা করবেন সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন ওসি।

এদিকে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শাহ মো. আওলাদ হোসেন ডিজির বরাত দিয়ে বলেন, গত ১৪ই আগস্ট সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে নগরীর আলেকান্দা এলাকার মেডিকেল কলেজ লেনের বাসা থেকে বের হয় শাহরিয়া। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলো সে। তার সন্ধান না পাওয়ায় ওইদিনই থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন নিহতের বাবা নজরুল ইসলাম। পরবর্তীতে বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের সকল থানায় নিখোঁজের বিষয়টি অবহিত এবং তার ছবি প্রেরন করা হয়েছিলো বলে ওসি জানিয়েছেন।

এদিকে নিহতের সহপাঠীরা জানিয়েছেন, শাজেদুল ইসলাম শাহরিয়া ভাল ছাত্র ছিলো। কলেজে কারোর সাথে প্রকাশ্যে তার বিরোধ দেখা যায়নি। তবে তার সাথে এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিলো বলে জানিয়েছেন তারা। অবশ্য ওই ছাত্রীর নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি তারা। নিখোঁজ হওয়ার দিন অর্থাৎ গত ১৪ই আগস্ট সকালে শাহারিয়া নগরীর ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী বধ্যভুমিতে ঘুরতে যায় বলেও তার সহপাঠিরা জানিয়েছেন।

এদিকে পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর তীরে কলেজ ছাত্র শাহারিয়াকে মারধর করা হতে পারে। সেখান থেকেই তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলতে পারে দুর্বত্তরা। তদন্তে বিষয়টি বেরিয়ে আসবে বলেও মন্তব্য করেন পুলিশের ওই সূত্রটির।