অব্যাহত বর্ষনে বিপর্যস্ত মানুষ ॥ শূনশান নগরীতে কাটেছে না জলাবদ্ধতা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বরিশালে ৪৮ বছরের বৃষ্টিপাতের পরিমানের রেকর্ড অতিক্রম করল চলমান বিরামহীন প্রবল বর্ষন। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া বিরামহীন বৃষ্টি ছিলো গতকালও। আর গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১২৮ দশমিক ২মিলিমিটার।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারনে ৫ম দিনের মতো গতকালও বন্ধ ছিলো এমএল টাইপের লঞ্চ চলাচল। সেই সাথে নদী এবং সমুদ্র বন্দরগুলোতে দেখানো হয়েছে ১ ও ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত। গতকাল শুক্রবার বিকালে আবহাওয়া অফিস এই সতর্ক সংকেত জারি করেন।
অপরদিকে টানা বর্ষের ফলে গতকাল শুক্রবার নগরীর বিপনী বিতানগুলোতে ছিলোনা ক্রেতাদের আনাগোনা। ৮ম রমজানে এসেও পুরোটা দিনই বিক্রেতাদের কাটাতে হয়ে অলস সময়। এমনকি গতকালও পানির নিচে ছিলো নগরীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সহ নগরীর নি¤œ অঞ্চল।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আনিসুর রহমান জানান, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। একারনে বরিশালে আরো এক সপ্তাহ বৃষ্টি হবে। তবে বৃষ্টিপাতের পরিমান আজ থেকে অনেকাংশে কমবে। তাছাড়া বুধবার থেকে শুক্রবার রাত ৯টা পর্যন্ত থেমে থেমে টানা বর্ষনে ৪৮ বছরের রেকর্ড অতিক্রম করে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে তাপমাত্রাও অনেক কমতে শুরু করেছে। গতকাল দিনভর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিলো ২৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা গত বৃহস্পতিবারের থেকে কম।
এছাড়া গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১২৮ দশমিক ২ মিলিমিটার। তবে গতকাল আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে। যে কারনে নদী বন্দরগুলোতে ২ নম্বর থেকে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। কিন্তু উপকূলীয় অঞ্চল এবং সমুদ্র বন্দরে ঝুঁকি বেড়েছে। সমুদ্র বন্দরগুলোতে গতকাল ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বরিশাল নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আবুল বাশার মজুমদার জানান, বরিশালে পঞ্চম দিনের মত গতকালও এমএল টাইপের (৬৫ ফুটের নিচে) সকল প্রকার নৌ যান চলাচল বন্ধ ছিলো। তবে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেতের কারনে সমুদ্র বন্দরে সকল প্রকার মাছ ধরার ট্রলার মাঝ সাগরে না যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরেজমিনে দেখাগেছে, প্রবল বৃষ্টিপাতের কারনে গতকালও নগরীর বগুরা রোড, অক্সফোর্ড মিশন রোড, গোরস্থান রোড এবং নবগ্রামে রোডে জলাবদ্ধতার চিত্র দেখাগেছে। এসব এলাকায় পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এখানকার পানি নিষ্কাশনে বিলম্ব হচ্ছে। তবে জলাবদ্ধতা দূর করতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনেও কাজ করতে দেখা গেছে। মেয়র আহসান হাবিব কামাল এর কঠর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন কর্মী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাত দিন ২৪ ঘন্টা পানি নিষ্কাশনে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন নগর কর্তৃপক্ষ।
তবে বৃষ্টির কারনে সকাল থেকে নগরীর বিপনী বিতানগুলোতে অলস সময় কাটাতে দেখাগেছে ব্যবসায়ীদের। ৮ম রমজান অতিবাহিত হলেও দুপুরের পরে অধিকাংশ বিপনী বিতান এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিলো বন্ধ।
ব্যবসায়ীরা জানান, টানা তিন দিনের প্রবল বর্ষন এবং জলাবদ্ধতার কারনে ক্রেতারা গৃহবন্ধি হয়ে পড়েছে। তাই তারা কেনাকাটা করতে বের হচ্ছে না। তারা বলেন, সকালের দিকে নগরীতে কিছুটা সূর্যের আলো দেখা গেছে। মনে হয়েছিলো আর বৃষ্টি হবে না। কিন্তু দুপুরে জুম’আর নামাজের সময় থেকে পূনরায় বৃষ্টি শুরু হয়। সেই থেকে রাত পর্যন্ত এক নাগাড়ে বৃষ্টি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা পুরো-পুরি ভাবেই ঝিমিয়ে গেছে। সেই সাথে রাস্তাঘাটে মানুষ না থাকায় শুনশান নগরীতে পরিনত হয় বরিশাল সিটি। একান্ত জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হয়নি। তবে আগামী ২/১ দিনে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটলে সকল ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটবে বলেও জানান নগরবাসী।