অবৈধ অটোতে চলছে বিসিসি’র অনৈতিক আয়

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ অবৈধ অটো নিয়ে অনৈতিক আয়ে নেমেছে বিসিসির কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারী। মেয়র নগরীতে না থাকলেই তাদের পোয়াবারো। রাতের আঁধারে তারা অনৈতিক আয় করতে নেমে পড়ে অবৈধ অটো আটক অভিযানে। গতকাল সোমবার এই রকম অভিযানে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি অসাধুরা। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়েছে তারা। কিন্তু প্রধান নির্বাহী নিখিল চন্দ্র দাস এর পরেও তাদের পক্ষে সাফাই গাইলেন। কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে তার এক আত্মীয় অনৈতিক আয় অভিযানে নিয়মিত থাকেন। অবৈধ আয়ের খপ্পরে পরা এক অটো চালক অভিযোগ করে, বিসিসি কর্মী পরিচয় দিয়ে প্রায়ই আটক করা হয় অবৈধ অটো। আবার তৎক্ষনাৎ কিছু খরচ পাতি দিলে ছেড়েও দেয়। এই অভিযান গুলো প্রায়ই হয় সন্ধ্যায় বা রাতে। ঠিক তেমনই গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎই শুরু হয় এই অভিযান। আটক করা হয় প্রায় অর্ধ শতাধিক অটো। রাতের অবৈধ এ অভিযান পরিচালনা করে সিকিউরিটি কমান্ডার নিকর চন্দ্র দাস, সুপারেনটেন্ডেন্ট মাইনুল হক ও পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম মানিক। অভিযান চলে বিসিসি ও লঞ্চঘাট  এলাকায়। রাতের আঁধারে অবৈধ অটো আটকের অভিযানের খবরে বিসিসির সম্মুখে গেলে দেখা যায়, প্রধান নির্বাহী নিখিল চন্দ্র দাসের আত্মীয় সিকিউরিটি কমান্ডার নিকর চন্দ্র দাস, ২/৩ জন আনসার সদস্য নিয়ে একটি অটো আটক করে নিয়ে যাচ্ছেন। অফিস চলাকালীন সময়ের কাজ করে অফিস বন্ধের পর করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে নিকর বলে, নগরীতে তার যা ইচ্ছা তিনি তাই করতে পারেন। তার কাজ করার জন্য কারও অনুমতি বা নির্দিস্ট সময়ের কোনটি প্রয়োজন হয় না। ইচ্ছে হয়েছে তাই আটক করেছি। যদি বিস্তারিত কিছু জানতে হয় তবে বিসিসির নগরভবনের সামনে সুপারেন্টেডেন্ট মাইনুল হক ও ইন্সপেক্টর আতিকুল ইসলাম মানিক আছে তাদের সাথে কথা বলতে হবে। এই বলে পালিয়ে যায় নিকর চন্দ্র দাস। অপরদিকে উক্ত তথ্য জানার জন্য বিসিসি ভবনের সম্মুখে গেলে দেখা যায় একটি অটো টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার দৃশ্য। বিক্ষুব্ধ অটো চালকরা নগর ভবনের গেটে জড়ো হলে সাংবাদিকদের তথ্য দেয়ার ভয়ে তাৎক্ষনিক পালিয়ে যায় মাইনুল ও আতিক। বিসিসি আনসাররা বলেন, তারা কেউ নেই, এইমাত্র চলে গেছে কিন্তু কোথায় গেছে জানা নেই। আমরা কর্মী মাত্র। আমরা শুধু তাদের নির্দেশ পালন করি। তা বৈধ হোক আর অবৈধ হোক। পরবর্তীতে বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে সুপারেন্টেডেন্ট মাইনুল হক ও ইন্সপেক্টর আতিকুল ইসলাম মানিকের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কল রিসিভ করেনি।  প্রধান নির্বাহী নিখিল চন্দ্র দাস জানান, তার নির্দেশে এই আটক অভিযান চলছে। অফিস চলাকালীন সময় ছাড়াও ইচ্ছে করলেই অভিযান চালানো যায়। এর নিয়ম রয়েছে দিনে রাস্তায় অটো থাকেনা তাই রাতে অভিযানের নির্দেশ দিয়েছি। এদিকে নিকর চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে বিসিসির একাধিক সূত্র অভিযোগ করেছে। সে প্রধান নির্বাহীর আত্মীয় হওয়ায় যা ইচ্ছে তাই করছে। সে অবৈধ আয়ে এতটাই বেপরোয়া যে বিসিসির কাউন্সিলরসহ সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশও অমান্য করে হরহামেশাই। আর তার সব অপকর্মের কারণ সে প্রধান নির্বাহীর আত্মীয়।