অবসর সময়ে বাবার কাজে সহায়তা করি

ভা-ারিয়া প্রতিবেদক॥ এখনতো লেইজার (টিফিন প্রিয়ড) ১ ঘন্টা সময় পাবো। তাই বাড়ির জন্য বাজার নিতে এসেছি। তা না হলে দুপুর ও রাতে খাওয়া হবেনা। এ কথা শিশু হাসান হোসেনের।  সে ভা-ারিয়া উপজেলার ৭৬নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র। গতকাল শনিবার হাটের দিন হাসান বাবার সাথে থাকায় পুরাতন জাল বিক্রেতা সহায়তা করতে এসেছিলো। বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোষাকে সে  বাজারের শের ই বাংলা সড়কের ফুটপাতের ভাসমান দোকানে সে নিয়মিত সময় দেয় বাবা  মো. রুস্তুম আলী বেপারীকে।
সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভা-ারিয়া গ্রামের বিদ্যালয়ে ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে তার রোল নম্বর ৫। আলাপে জানা গেল তার পাচঁ ভাই ও দুই বোন। বোনদের অর্থাভাবে আগেই বিবাহ দেয়া হয়েছে। সর্ব কণিষ্ঠ সে। অন্যদের মধ্যে বড় ভাই সুমন(২৫)বাবার মত একই পেশায় জাল বিক্রি করে,সুজন (২০)রাজ মিস্ত্রির হেলপার,হুমাউন কবির (১৮)গার্মেন্টসএ কাজ করে অন্য ভাই হায়দার মাদ্রাসায় পড়ে। বাড়িতে মা । বাবা দুপুরে বাজার না করলে অভূক্ত থাকতে হবে। তাই স্কুলের লেইজারে বাজার নিতে এসেছে। সকালে এক কাপ চা খেয়ে স্কুলে এসেছি । বাড়ি স্কুলের  কাছা কাছি হওয়ায় দুপুরে একটু খিচরি খেয়ে বাজার নিতে এসেছে। ছেলেকে বাড়ি পাঠানোর পড় বাবা রুস্তুম আলীর সাথে কথা হলে জানান ছোট বেলা থেকেই আদী পেশা পুরাতন জাল বিক্রি করে সংসার চালাই কোন রকমের। ছেলে -মেয়ে নিয়ে ৭টি সন্তান । সংসারে নানা টানা-পোড়েণের কারণে লেখা- পড়া করাতে পারিনি। উপজেলার ছোট-খাট হাটে এই পুরাতন জাল বিক্রি করে বড় ছেলে ও আমার দুই জনের লাভের টাকা মিলিয়ে ৪ থেকে ৫শত টাকা হয়। মাঠে ধানের জমি নেই। বর্তমান আয়-ব্যায়ের মধ্যে তথাত থাকায় কি করব ! তবুও ছোট ছেলে পড়াশুনা করতে চায় দেখি কষ্ট করে হলেও পারা যায় কিনা। তবে বই কিনতে না হলেও জামা,কাপর সহ অন্যান্য খরচ মোটা মুটি ভাবে মেটাতে যা দরকার তা হয়না। অর্ধাহার- অনাহারে দিন কাটাতে হয়। মাঠে ধানের জমি নেই। সিডরে ঘরের চালা উড়ে গেলেও আজ পর্যন্ত সরকারি-বে-সরকারি কোন অনুদান পাননি বলেও জানান। আর ছেলেটা স্কুল ও অবসর সময়ে আমার সাথে কাজ করে । আসছে শীতের মৌসুম এই রকম ফুটপাতে বসেই তখন পুরাতন কাপর চোপর বিক্রির সময় ওকে (ছেলেকে) সাথে রাখি। অভাবের মধ্যেও ছেলে যখন  চাইছে তখন চেষ্টা করব পড়া লেখা করাতে।