অবশেষে বাণিজ্য মেলার সাইকেল স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রন নিয়ে ছাত্রলীগের রক্তপাত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ অবশেষে বরিশাল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সাইকেল স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রন করা নিয়ে ছাত্রলীগের মধ্যে রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মেলার স্থান বিআইডব্লিউটিএ’র মেরিন ওয়ার্কশপ মাঠে ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতিকে কুপিয়ে জখম করেছে ভাটারখালের কথিত ছাত্রলীগ নেতা প্রদ্বীপ ও তার সহযোগিরা। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনায় আহত ১১ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি সেজান মাহামুদকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেজান ঐ ওয়ার্ডের ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোড এলাকার জহুর”ল ইসলামের ছেলে।
এদিকে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে এক সংবাদ কর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে হামলাকারী ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।
আহত সেজান মাহমুদ জানান, মেলায় দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য আয়োজক চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লি. নেতৃবৃন্দ মোটর সাইকেল স্ট্যান্ড এর ব্যবস্থা করেছেন। আয়োজক কমিটি স্ট্যান্ডটি নিয়ন্ত্রনের জন্য ১০ ও ১১ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রনের দায়িত্ব দেয়। কিন্তু মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ভাটারখাল এলাকার স্ব-ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা প্রদ্বীপ ওরফে লন্ড্রি প্রদ্বীপ তার ভাটারখালের সহযোগিদের নিয়ে স্ট্যান্ডটি জোর পূর্বক দখলের পায়তারা চালায়।
সেজান আরো জানান, স্ট্যান্ডটি নিয়ন্ত্রনের জন্য ১১ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের পক্ষে তিনি বিভিন্ন ভাবে লবিং চালান। এতে ভেস্তে যায় প্রদ্বীপের দখল পরিকল্পনা। যার ফলে ক্ষিপ্ত হয়ে যায় প্রদ্বীপ ও তার বাহিনী।
এর ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার তিনি (সেজান) ও তার ভাই শাকিল সহ তিন চারজন মিলে মেলার মাঠে যান। সেখানে যাওয়া মাত্রই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রদ্বীপ তার সহযোগী ভাটারখালের রুবেল, জাহিদ, রায়হান, তাজিন, অনিম ও বিপ্লব সহ অন্যান্য সহযোগিদের নিয়ে সেজানের উপর রামদা ও চাইনিচ কুড়াল নিয়ে হামলা চালায়। এসময় সেজানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে। সেজানের অভিযোগ নগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিনের নির্দেশেই তার উপরে প্রদ্বীপ বাহিনী এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এমনকি গত বুধবার সকালেও প্রদ্বীপের সহযোগিরা তার উপর হামলার পরিকল্পনা করে এলাকায় গিয়ে খোঁজাখুজি করে বলে অভিযোগ সেজানের।
উল্লেখ্য, মেরিন ওয়ার্কশপ মাঠে সাইকেল স্ট্যান্ড নিয়ে ছাত্র ও যুবলীগের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবারের সংখ্যায় দৈনিক আজকের পরিবর্তনে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে প্রদ্বীপ বাহিনীর দখলবাজি এবং এ নিয়ে যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনার ইঙ্গিত উল্লেখ করা হয়। শেষ পর্যন্ত পরিবর্তনের সংবাদটি সত্য প্রমান করেছে প্রদ্বীপ ও তার বাহিনী।
কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সাইকেল স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রনকে কেন্দ্র করে এক পক্ষ অপর পক্ষকে কুপিয়ে জখম করেছে। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এমনকি থানায় মামলা বা অভিযোগ দেয়নি কোন পক্ষ। অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
নগর ছাত্রলীগ সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন জানান, তিনি এই বিষয়ে কিছু জানেনা। তবে ঘটনাটি তিনি শুনেছেন বলে জানান।
ভাটারখাল এলাকার বাসিন্দা প্রদ্বীপ জানান, তিনি সেজানকে কোপাইনি। এলাকার কিছু জুনিয়র ছাত্রলীগ কর্মীদের সাথে সাইকেল স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রন নিয়ে সেজানের বিরোধ হয়। এর জের ধরেই মেলার মাঠে তাদের মধ্যে বাক বিতন্ডার এক পর্যায় সেজানকে ছাত্রলীগ কর্মীরা কুপিয়ে জখম করে। তবে খবর পেয়ে তিনি দু’পক্ষকে ছাড়াতে যান। এসময় তার হাতেও আঘাতপ্রাপ্ত হয় বলে দাবী প্রদ্বীপের।
জানা গেছে, ভাটারখাল এলাকার বাসিন্দা প্রদ্বীপ নিজেকে ছাত্রলীগ নেতা দাবী করে আসছেন। সে মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম উদ্দিন’র ঘনিষ্ট সহযোগী হিসেবে নিজেকে অন্যের কাছে জাহির করেন। এমনকি তার দোহাই দিয়ে নগরীতে টেন্ডার সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে সব ধরনের অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। এর পাশাপাশি কীর্তনখোলা নদীর তীরে মুক্তিযোদ্ধা পার্কে বিআইডব্লিউটিএ’র জমিতে স্থায়ী ভাবে মোটর সাইকেল স্ট্যান্ড তৈরি করেছে। সেখান থেকে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের জিম্মি করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।