অবশেষে পুলিশ পুত্রকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ অবশেষে র‌্যাবের দায়ের করা অস্ত্র মামলায় পুলিশ পুত্রকে অভিযুক্ত করে সম্পুরক অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দিয়েছে পুলিশ। গতকাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সেরেস্তাদারের কাছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রেজাউল ইসলাম পুলিশ পুত্র শুভসহ ৩ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন। এছাড়া পূর্বের দায়ের করা অভিযোগপত্র বাতিল করার আবেদনও করেন তিনি। এর আগে ২০১৩ সালের ২ মে একই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বন্দর থানার এসআই সৈয়দ আবু জাফর পুলিশ পুত্রকে বাদ দিয়ে অপর দুই জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়ে ছিলেন। একই বছর ১৬ সেপ্টেম্বর দায়ের করা অভিযোগপত্রের পর্যালোচনার সময় আদালতের কাছে অভিযোগপত্রটি গ্রহনযোগ্য মনে না হওয়ায় তৎকালিন বিচারক মোঃ হাবিবুর রহমান পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাকে দিয়ে মামলাটির অধিকতর তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রেরন করতে পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেন। এর পরেই পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ পূর্বের অভিযোগপত্রে বাদ দেওয়া পুলিশ পুত্র শুভকে অন্তর্ভূক্ত করে ৩ জনের বিরুদ্ধে সম্পুরক অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন। উল্লেখ্য ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল সদর উপজেলার কর্নকাঠী গ্রামের রফিকের বাড়ীর সামনে মাদক নিয়ে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ ঠেকাতে গ্রামবাসী এগিয়ে এলে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের উপর গুলি চালায়। এ সময় গ্রামবাসীরা আল ইমরান নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। পরে তার কাছ থেকে ১টি রিভলবার, ২ রাউন্ড গুলি, ৩টি কার্তুজ ও একটি চাকু উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আল ইমরানকে র‌্যাব-৮ এর কাছে সোপর্দ করে গ্রামবাসী। আটককৃত আল ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদে সে তার অপর দুই সহযোগী জালিম সিকদার ও পুলিশপুত্র শুভর নাম প্রকাশ করে। একই দিন র‌্যাবের ডিএডি নাজির আহম্মেদ ফারুকী সাগরদী ব্রাঞ্চ রোডের গোলাম মোস্তফার ছেলে আলইমরান, বদরুল ইসলাম শিকদারের ছেলে ডালিম সিকদার ও রূপাতলী পাওয়ার হাউজ এলাকার পুলিশ কনষ্টেবল আজিজ মোল্লার ছেলে শুভকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সৈয়দ আবু জাফর পুলিশ পুত্রকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র জমা দিলে বিচারক তা গ্রহন না করে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিলে গতকাল সম্পুরক অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।