অবশেষে তজুমদ্দিনের বিতর্কিত ওসি সুলতান মাহমুদ পিবিআইতে বদলী

ভোলা অফিস ॥ অবশেষে তজুমদ্দিন থানার বিতর্কিত ওসি সুলতান মাহমুদ পুলিশ অপরাধ তদন্ত ব্যুরোতে (পিবিআই) বদলী হয়েছেন। গত ২৮ আগষ্ট পুলিশের ওই বিতর্কিত কর্মকর্তা এসআই আবুল হোসেনের কাছে থানার দায়িত্ব অর্পন করে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এতে উপজেলার সাধারন মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তার বিরুদ্ধে কর্মকান্ড, এলাকায় নিরীহ লোকদের কাছে গণ হারে চাঁদাবাজি, সরকারী গাছ ও পুকুরের মাছ আত্মসাতসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। ওসি সুলতান মাহমুদকে গত ২০ আগষ্ট পিবিআইতে বদলীর নির্দেশ দেয় পুলিশ হেড কোয়াটার। সংবাদ পেয়েই বদলীর আদেশ বাতিলের জন্য তদবির করতে ছুটি নিয়ে ঢাকায় যান। ঢাকায় অবস্থান কালে ২৬ আগষ্ট তজুমদ্দিন থানায় নিজেকে উপস্থিত দেখান। পরে এমন অভিযোগের সংবাদ পেয়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশে এএসপি উত্তম কুমার সাহা থানা পরিদর্শনে এসে ওসি সুলতান মাহমুদকে না পেয়ে তাকে অনুপস্থিত দেন। পরে এ সংক্রান্ত বিষয়ে ওসির বিরুদ্ধে থানায় সাধারন ডায়রীও করেন তিনি। কর্মস্থল ত্যাগ করার পুর্বে থানায় ঘোষনা দিয়ে গেছেন আগামী সাত দিনের মধ্যে বদলীর আদেশ বাতিল করে আবার আসবেন। তিনি ঢাকায় ক্ষমতাসীন দলের একাধিক কেন্দ্রিয় নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর মাধ্যমে বদলীর আদেশ বাতিল করে তজুমদ্দিন থানায় আবার আসতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানার এক অফিসার জানান, কিছুদিন পূর্বে ওসি সুলতান মাহমুদ থানার মধ্যে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা মুল্যের ৮টি মেহগনি গাছ, ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের ৩টি তালগাছ ও থানার পুকুর থেকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার মাছ আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি নিয়ে গোপনে তদন্ত চলছে বলেও জানান পুলিশের ওই অফিসার।  এসব গাছের কাঠ দিয়ে বাসার জন্য দামী ফার্ণিচার তৈরি করেন ওসি। থানার পুকুর ও স্থানীয় মাছের আড়তের বড় বড় মাছের প্যাকেট গেছে ঢাকায় ওসির এক নিকট আত্মীয় ও বিএনপি দলীয় সাবেক এক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বাসায়। এমন অভিযোগ পুলিশের উর্ধ্বত্মন কর্মকর্তাদের কাছেও রয়েছে।  ওই মন্ত্রীর সুপারিশে চাকুরী পাওয়া ওসি সুলতান মাহমুদ পুলিশ বাহিনীতে এখনও বেশ দাপটের সাথে নিজের পছন্দ মতো থানায় পোষ্টিং নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ওসি সুলতান মাহমুদ দুই মেয়াদে তজুমদ্দিন থানায় দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম মেয়াদে গত বছরের ৩১ জুলাই যোগদানের পরপরই মেঘনা নদীতে সাধারন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করেন। ওই বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর বদলী হয়ে আবার ৪ মাস পর তদবির করে তজুমদ্দিন থানায় যোগ দেন। যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় নতুন স্টাইলে চাঁদাবাজি। স্থানীয়দের অভিযোগ থেকে জানা যায়, প্রতিটি সাধারন অভিযোগ দাখিলের জন্য ২ হাজার, পুলিশ তদন্তের জন্য ৫ থেকে ১০ হাজার, প্রতিটি হোন্ডা-নসিমন স্ট্যান্ড থেকে মাসে ১০ হাজার করে, অবৈধ জাল কারেন্ট জাল থেকে ৫ হাজার টাকা করে, আসামী আটক করে ১০ হাজার, নারী নির্যাতন ও যৌন হয়রানী অভিযোগের কারনে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারিত করে চাদা আদায় করা হতো ওসির এক বিস্বস্ত কনস্টেবলের মাধ্যমে। এসব কারনে স্থানীয় সাধারন মানুষ হয়রানির শিকার হয়ে অনেকে থানায় আসা বন্ধ করে দেয় বলে জানায়। তার বদলীর খবরে উপজেলার সাধারন মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এসব বিষয়ে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ হুমায়ুন কবির এর সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, এসব বিষয়ে অভিযোগ তার কাছে আছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াগত ভাবেই তদন্ত হবে।