অপহরণকারী চক্রের জিম্মি ভোলার মুদী দোকানী সাংবাদিকদের তৎপরোতায় মুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ধর্মের ভাই পরিচয়ের অপহরণকারী চক্রের মুক্তিপনের জন্য জিম্মি ভোলার মুদী দোকানী সাংবাদিকদের তৎপরোতায় মুক্ত হয়েছে। গতকাল রোববার নগরীতে এসে ভোলা সদরের ইলিশা এলাকার আব্দুস সবুরের ছেলে মুদী দোকানী শামসুদ্দিন খলিফা ওই ঘটনার শিকার হয়।
শামসুদ্দিন খলিফা জানায়, নগরীর বাসিন্দা এক ব্যক্তি প্রায় তার মোবাইল নম্বরে ০১৭২৫-২৭৯৬৫৬ থেকে ফোন দিয়ে কথা বলে। এক পর্যায়ে তাকে ধর্মের ভাইয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করে। নিকট আত্মীয়ের চিকিৎসার জন্য শনিবার নগরীতে এসে গতকাল রোববার সকালে ভোলায় ফেরার জন্য রওনা হয়। লঞ্চঘাটে গিয়ে পৌছুলে ধর্মের ভাই ফোন করে। তার অবস্থানের কথা জানানো হলে লঞ্চঘাটে উপস্থিত হয় ধর্মের ভাই। হোটেলে নাস্তা সেরে শেবাচিম হাসপাতালের সামনে হোটেল খান এর ২নং কক্ষে তাকে নিয়ে যায় ধর্মের ভাই। কক্ষের দরজা বন্ধ করে ধর্মের ভাইয়ের অধর্মের কর্মের রুপের দেখা পায় সে। ধর্মের ভাইয়ের ছদ্মবেশে অপহরনকারী ও সেখানে পূর্ব থেকে অবস্থানকারী বোরকা পরিহিত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী সহযোগি নারী তার কাছে থাকা মোবাইল সেট ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। এর পর ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপন এনে দেয়ার জন্য তাকে ওই কক্ষে জিম্মি করা হয়। এই খবর সাংবাদিকদের কানে পৌছে যায়। তারা খবর পেয়ে খান হোটেলে ছুটে গিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। তখন অপহরনকারী ধর্মের ভাই ও তার সহযোগি নারী কৌশলে হোটেল ত্যাগ করে। তথ্যের অনুসন্ধানে যাওয়া সাংবাদিকরা খুজে বের করে।
মুদী দোকানী অভিযোগ করে, এই কর্মে খান হোটেলের সকলে জড়িত। সাংবাদিকরা হোটেলে গেলে অপহরণকারীদের পালাতে সুযোগ করে দিয়েছে তারা। এই কারনে হোটেল কর্তৃপক্ষ অপহরণকারীদের ছবি ধারন করেনি। শুধুমাত্র তার ছবি ধারন করে হোটেল কর্তৃপক্ষের জড়িত থাকার প্রমানে ওই যুক্তি তুলে ধরেন মুদী দোকানী।
তবে হোটেল ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সকালে শামসুদ্দিনসহ দুই ব্যক্তি এক সাথেই হোটেলে এসেছে। তারা একটি সিঙ্গেল রুম নিয়েছে। যে রুমটি মাসুদ নামে বুকিং নেয়া। তবে অপহরণ নাকি মুক্তিপন দাবী করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবী করেন জাহাঙ্গীর।