অপসোনিন ফার্মার প্রধান কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে এক শ্রমিক নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর পূর্ব বগুড়া রোডে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অফসোনিন ফার্মা লিমিটেডের প্রধান কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে এক শ্রমিক নিহত হয়েছে। রোববার দিনগত গভীর রাতে ওই ঘটনায় দগ্ধসহ আরো ৪ শ্রমিক আহত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিটের ৬ ঘন্টা প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় নিহত নেছার উদ্দিন প্যাদা (৪৮) কারখানার রং মিস্ত্রি ছিলেন। তিনি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দি গ্রামের আমির আলী প্যাদার ছেলে। ঝালকাঠির আমিরাবাদ ইউনিয়নের ডুবিল গ্রামের শ্বশুর বাড়িতে বাস করতেন তিনি। আহতরা হলো- কারখানার প্রকৌশল বিভাগের স্টোর কিপার ও পটুয়াখালীর দশমিনার আব্দুর রশিদ (৩৮), রং মিস্ত্রি সাপানিয়া এলাকার আব্দুল মান্নান হাওলাদারের ছেলে ফারুক হাওলাদার (৪৫) ও রং মিস্ত্রি কালিজিরা গুরগো বাড়ি এলাকার মৃত পুষ্প নন্দি’র ছেলে সিদাম চন্দ্র নন্দি (৫০) এবং নিরাপত্তা প্রহরী ও নগরীর কাশিপুরের হাবিবুর রহমানের ছেলে জাকির হোসেন (৩০)। এদের মধ্যে আব্দুর রশিদ, ফারুক হাওলাদার ও সিদাম চন্দ্র নন্দিকে শেবাচিম হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে অগ্নিকান্ডের সুনির্দিষ্ট কারন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্নয় করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারনায় দাবী ৫ কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আহত ষ্টোর কিপার আব্দুর রশিদ জানান, রাতে কোম্পানির দ্বিতীয় তলায় রং এর কাজ করেন। রাত ২টার দিকে তিনি এবং নিরাপত্তা প্রহরীসহ ৬ জন বিশ্রামের জন্য কারখানার ৬ষ্ঠ তলায় মসজিদে যান। সেখানে যেতেই দেখতে পান চারদিকে আগুনের ধোয়া। তাৎক্ষনিক ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করা হয়। তারা পৌছানোর পূর্বে শ্রমিকরা ভেতরের কক্ষে আটকা পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে তিনি সহ চার জন কমবেশি অগ্নিদগ্ধ হন। এছাড়া চারদিকে আগুনের ধোয়া ছড়িয়ে পড়লে বসতির বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আগুন নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করে। অসুস্থ শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, অগ্নিকান্ডের পরে তারা আত্মরক্ষায় নিচতলা এবং ৬ষ্ঠ তলার ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দুটি গেট তালাবব্ধ অবস্থায় থাকায় বের হতে পারেননি। এই কারনে আগুনে পুড়ে দগ্ধ হতে হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের জেষ্ঠ্য ষ্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, রাত সোয়া ২টার দিকে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ৫ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌছান। তাদের ৪, ঝালকাঠির ২ ও বানারীপাড়া উপজেলার একটিসহ মোট ৬ ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে পর্যায়ক্রমে কাজ করে। প্রায় ৬ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে সকাল ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন তারা। তবে একটি কক্ষের আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় লেগেছে বলেও জানান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।
অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, অগ্নিকান্ডের প্রধান করা নির্নয় করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক ভাবে ধারানা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ঘটেছে। তার পরেও সূত্রপাতের পূর্ণাঙ্গ কারন নির্নয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। কেননা প্রতিষ্ঠানটির ৩য় থেকে ৬ষ্ঠ তলা পর্যন্ত বিভিন্ন কক্ষে কম বেশি পুড়ে গেছে। এখানে যন্ত্রপাতি এবং এয়ারকন্ডিশন সহ বেশি মুল্যবান মালামাল রয়েছে। যার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করতে পারবে। কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারনা অনুযায়ী ৫ কোটি টাকার উপরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তাদের জানিয়েছে বলেন মো. আলাউদ্দিন। তবে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন অপসোনিনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন পরিবর্তনকে জানান, কোম্পানির ৬ তলা ভবনের পেছনে পঞ্চম তলায় প্যাকেজিং গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এর পর সেখান থেকে মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য তলায়। এসময় ভেতরে আটকা পড়ে ৬ শ্রমিক।
ওসি জানান, ভোর ৫টার দিকে আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রনে এলে ভেতরে আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. হাবিবুর রহমান অসুস্থ শ্রমিকদের মধ্যে নেছার উদ্দিন প্যাদাকে মৃত ঘোষনা করেন।
জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. হাবিবুর রহমান জানান, কিছুটা অগ্নিদগ্ধের পাশাপাশি ধোয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হতে পারে। তবে ময়না তদন্তে মৃত্যুর মুল কারন বেরিয়ে আসবে। তিনি জানান আহত বাকি ৫ জনের মধ্যে ৪ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে করা হয়। একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।