অপসংস্কৃতি ও চর্চার অভাবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিপর্যয়

জুবায়ের হোসেন॥ নগরীর সাংস্কৃতিক অঙ্গন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দেশসহ বিদেশের স্বনামধন্য একাধিক দার্শনীক, কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার, অভিনেতার জন্মস্থান এই নগরীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি আজ ইতিহাসে পরিণত হতে চলেছে।
অপসংস্কৃতি ও অশ্লীলতার সাথে সংস্কৃতির চর্চার অভাব এবং ঐতিহ্য রক্ষার্তে এগিয়ে আসার সীমিত মনোভাব বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে দায়ী বলে মনে করেন এখানকার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিত্বরা।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, দেশের অন্যান্য বিভাগ ও জেলা শহরের তুলনায় নগরীর সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছিল অনেক বেশি সমৃদ্ধ। এই বিভাগে জন্মেছেন, বিপ্লবী দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ, আগা বাকের, চারণ কবি মুকুন্দদাস, অশ্বিনী কুমার দত্ত, আরজ আলী মাতুব্বর, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, কবি রবীন সমাদ্দার, সাংবাদিক মিহিরলাল দত্ত, রাজনীতিবিদ শরৎ চন্দ্র গুহ, শিক্ষাবিদ কালীচন্দ্র ঘোষ, চারুশিল্পী বলহরি, বিজয় গুপ্ত, কবি সুফিয়া কামাল, কুসুমকুমারী দাশ, কামিনী রায়, সরদার ফজলুল করিম, শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক, জীবনানন্দদাশ, শহীদ আলতাফ মাহমুদ, মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, মেজর জলিল, বিডি হাবিবুল্লাহ, আব্দুল জব্বার, সুরকার আব্দুল লতিফ, কবি আসাদ চৌধুরী, মিঠুন চক্রবর্তী, হানিফ সংকেত, আব্দুর রহমান বিশ্বাস, ড. কামাল হোসেন, মনোয়ারা বসু, কবি মোজাম্মেল এর মত ব্যক্তিত্বরা। শুধু সংস্কৃতিতেই নয় এ সকল ব্যক্তিরা সকল অঙ্গনেই দেশ বিদেশে করে গৌরবান্বিত। এখন নগরীর সাংস্কৃতিক অবস্থা শোচনীয়। বিশেষ কোন দিবস ছাড়া এ নগরে তেমন কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় না। তাই এখন হাতে গোনা কিছু মানুষ সংস্কৃতি নিয়ে চর্চা করেন। নগরীতে বর্তমানে সাংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদের আওতায় ২৭ সংগঠন রয়েছে। এই সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে থিয়েটার, আবৃত্তি সংগঠন, সংগীত বিদ্যালয় ও শিশু কিশোর সংগঠন। এখানকার সংস্কৃতি রক্ষার গুরু দায়িত্ব এখন তাদের হাতে।
সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, এ দায়িত্ব পালনে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তবুও তারা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, নগরীতে সাংস্কৃতিক চর্চা ও প্রদর্শনের জন্য নেই কোন নির্ধারিত হল। অশ্বিনী কুমার হল থাকলেও রয়েছে নানা সমস্যা। আরো রয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের অনুদানের অভাব। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে নাটক ও সংস্কৃতিতে পেশাদারিত্বের অভাব। দীর্ঘদিন সংস্কৃতি নিয়ে চর্চার পরে এই ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের অভাবে ছাড়ছেন প্রতিভাবানরা। কোন সংগঠনেরই নেই নিজস্ব কার্যালয়।
যোগ্য নেতৃত্ব্রে প্রয়োজন প্রকট জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সাবেক বর্তমানে নেতৃত্বদাতারা দায়িত্ব ও নিষ্ঠার সাথে সাংস্কৃতিকে চাঙ্গা রাখার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। সমস্যাগুলো সমাধান না হলে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেয়ার মত যোগ্য নেতা খুজে পাওয়া যাবে না। তাই চর্চা বাড়াতে হবে, সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সাথে সক্রিয় করাতে হবে শিল্পকলা ও শিশু একাডেমির কার্যক্রম। তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের আগামী প্রজন্মের মধ্য থেকেই তৈরি হবে যোগ্য অভিনেতা, হবে নেতৃত্ব দেয়ার মত উপযুক্ত সংস্কৃতি নানা ব্যক্তিত্ব। যারা নগরীর সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে পারবে।
বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতি মন্ডলির সদস্য সৈয়দ দুলাল জানান, নগরীতে এখন চলছে সংস্কৃতির উল্টো সময়। বর্তমানে আমাদের আদি সংস্কৃতিকে বিকৃত করে চলছে টাকা রোজগারের মহোৎসব। একটি মহল অসৎ উদ্দেশ্যে এমন বিকৃত কাজ করছে যা কলুসিত করছে সংস্কৃতিকে। একজন সাংস্কৃতি মনা ব্যক্তিত্ব হিসেবে সংস্কৃতির নামে চলা সকল অপসংস্কৃতির তীব্র নিন্দা জানান তিনি।