অপরিকল্পিতভাবে রোপনে নবগ্রাম রোডের সৌন্দর্য্য বর্ধনের গাছে মড়ক

জুবায়ের হোসেন ॥ নগরীর বটতলা থেকে চৌমাথা সড়কের সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য রোপনকৃত গাছ গুলোর সিংহ ভাগই নস্ট হয়ে যাচ্ছে। সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের সময়ে রাস্তার মাঝখানে রোপন করা গাছ গুলো এই সড়কের সৌন্দর্য্য বর্ধন করেছিলো। তবে অপরিকল্পিত ভাবে রোপনের কারনে বর্তমানে গাছ গুলো শুধু নস্টই নয় যেকোন সময় হাল্কা বাতাসেও হেলে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়া যে গাছ গুলো বেঁচে আছে সেগুলো সৌন্দর্য্য বর্ধনের পরিবর্তে সৌন্দর্য্যহানীতে পরিনত হচ্ছে। অধিকাংশ গাছের ডালপালা প্রায় সড়কের মধ্যে এসে পড়েছে। তবে দীর্ঘদিন পূর্বে অপরিকল্পিতভাবে লাগানো এই গাছ গুলো রক্ষায় প্রথম থেকে আপ্রান চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বনায়নের দায়িত্বে থাকা ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আক্তারুজ্জামান গাজী হিরু। এ বিষয়ে আলাপকালে তিনি জানান, দুই কারনে নস্ট হয়ে যাচ্ছে গাছ গুলো। প্রথম কারনটি হচ্ছে পাকা রাস্তার উপরেই সামান্য মাটি ও বালুর মিশ্রন তৈরি করে তাতে গাছ রোপন করা। গাছগুলো যখন রোপন করা হয়েছে তখন রাস্তা খুড়ে করা হয় নি। প্রাথমিক অবস্থায় এটি কোন সমস্যা ছিল না কারন তখন গাছগুলো ছোট ছিলো। তবে গাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে শিকড় বড় হওয়ায় তা মাটি ভেদ করে পাকা রাস্তায় পৌছে যাওয়ায় পুষ্টির উৎস্য নস্ট হয়ে গাছ গুলো শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। এছাড়া গাছের গোড়ায় মাটির থেকে বালির পরিমান বেশি হওয়ায় যথেস্ট পুষ্টি না পাওয়া ছিলো অন্যতম কারন। বর্তমানে পোকার আক্রমনের শিকার হয়েছে গাছ গুলো। তবে তখন পোকা দমনে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছিলো বলে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। বর্তমানে পোকা নেই তবে নস্ট হয়ে গেছে সিংহভাগ গাছ। গাছ রক্ষার্থে পূর্বে কমপক্ষে ১শ ট্রাক মাটি, গোবর সার, নিয়মিত পানি দেয়া সহ অন্যান্য সকল ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়েছিলো বলে বিসিসি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন। সর্বশেষ গাছ গুলো রক্ষায় করনীয় বিষয়ে গতকাল বিসিসি মেয়র আহসান হাবিব কামাল নগর ভবনে কাউন্সিলদের নিয়ে জরুরী বৈঠক করেছেন। এ বিষয়ে বিসিসি মেয়র আহসান হাবিব কামাল পরিবর্তনকে জানান, গাছ গুলো রক্ষার্থে করনীয় বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে গাছের সঠিক বেড়ে ওঠার জন্য উপযুক্ত করে রোপনের স্থান তৈরি ও নতুন গাছ লাগিয়ে সড়কটিকে আরও আকর্ষনীয় করে তোলা। জরুরী বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত গুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি। নগরের সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য অতি শীঘ্রই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে বলেও তিনি জানান। এ সময় সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও কাউন্সিলর আলতাফ মাহমুদ সিকদার, আক্তারুজ্জামান গাজী হিরু, জাকির হোসেন জেলাল, হাবিবুর রহমান টিপু ও এসএম জাকির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।