অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের সাথে সেতুবন্ধন তৈরি করতে হবে-বিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বর্তমান প্রেক্ষাপটে জঙ্গিবাদ ও মাদক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার বিষয়। আপনাদের মধ্য থেকে এই সমস্যা রোধে যারা কাজ করতে চান তাদের নিয়ে কমিউনিটি পুলিশ কাজ করবে। অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের সাথে সেতুবন্ধন তৈরি করতে হবে। গতকাল শনিবার জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক প্রতিরোধে পুলিশিং কমিটি পুনর্গঠনকল্পে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমনটাই বলেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এসএম রুহুল আমিন।
গতকাল বিকেল সাড়ে ৪ টায় কেডিসি সংলগ্ন কোস্ট্ররাল বরফকল এলাকায় ১০ ও ১১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) গোলাম রউফ খান। এসময় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার তার বক্তব্যে আরও বলেন, যারা জঙ্গিবাদ ও ইসলামের নামে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনা করছে তারা প্রকৃত মুসলিম নয়। সে-ই প্রকৃত মুসলমান যার কাছ থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকে। এসময় তিনি পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরীফের বিভিন্ন আয়াতের বর্ণনা দিয়ে জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, এরা ধর্মের পক্ষে কাজ করছে না। জিহাদ কি? তা তারা জানেই না। আল্লাহ পাক বলেছেন, জিহাদ করার অধিকার তাদেরই আছে যারা সুনির্দিষ্টভাবে আক্রান্ত ও অন্যায়ের স্বীকার হয়েছে। লড়াই করো তাদের সাথে যারা তোমাদের সাথে লড়াই করছে। আইএস নিয়ে ভুল ধারণা আছে বলে কমিশনার আরও বলেন, আইএস ইসরাইলের সৃষ্টি। আইএস এর অস্ত্র সরবরাহ করে ইসরাইল ও তার অর্থদাতা যুক্তরাষ্ট্র। এটি কোন প্রকৃত মুসলমানের সংগঠন নয়। ইসলামের নামে ভাওতাবাজী করে এরা ইহুদীদের সা¤্রাজ্য রক্ষা করছে। তাদের মতই বাংলাদেশে আনসার উল্লাহ বাংলা, জেএমবিরা জিহাদের নামে ইসলামকে বিকৃত করার ভাওতাবাজী করে চলছে। সকলে সহযোগিতা করলে বরিশালের মাটিতে জঙ্গিবাদের ঘাটি গড়তে পারবে না। এজন্য সচেতনভাবে পরিবারের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সবার সন্তানের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের, শিক্ষার্থীদের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে করে তারা এমন ভাওতাবাজদের কবলে না পড়ে। এরা জান্নাতের বরাত দিয়ে লোকজনকে বিভ্রান্ত করছে কিন্তু নিজেরাই জাহান্নামের কাজ করছে বলে বলেন পুলিশ কমিশনার। চোখ কান খোলা রেখে প্রতিবেশি, অপরিচিত ব্যক্তি বিশেষ করে ১৬-৩৫ বছরের কোন ব্যক্তিকে দেখলে তাদের খোঁজখবর নিন। সন্দেহ হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিন। তথ্য দাতার পরিচয় গোপন রাখবে পুলিশ। অন্যদিকে বরিশালকে মাদকমুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, মাদকের কোন সুফল নেই। তাই মাদক বন্ধ করতে হবে। মাদক ব্যবসার সাথে ক্ষমতাসীনরা জড়িত এমনকি কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যরা পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে স্বীকার করে কমিশনার বলেন আজকের পর থেকে কোন পুলিশ সদস্য যদি কোনভাবে মাদকের সাথে জড়িত থাকে তবে ঐ পুলিশ আর তার পোষাক পড়তে পারবে না। আর ক্ষমতাসীন যারা মাদক বিক্রির ভাগ নিচ্ছেন তারাও একদিন মাদকের গ্রাসে যাবেন। পূর্বের মাদক বিক্রেতাদের ভালো হয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে নিজেদের ব্যবসা বন্ধ করে স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন পুলিশ কমিশনার। আর যারা এই সুযোগ গ্রহণ করবে না তাদের জন্য কারাগারে স্থানের কথাও বলেন তিনি। এসময় ঐ এলাকার দুই নারী মাদক বিক্রেতা লাবনী ও তাসলিমা সকলের সামনে ভাল হয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সায়েদুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) উত্তম কুমার পাল, উপ-পুলিম কমিশনার (সদর) হাবিবুর রহমান খান, বরিশাল-পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির সভাপতি আজিজুল হক শাহীন, ১০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জয়নুল আবেদিন, ১১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মজিবর রহমান, সংরক্ষিত কাউন্সিলর মাকসুদা আক্তার মিতু প্রমুখ। কোতয়ালি মডেল থানা আয়োজিত উক্ত মতবিনিময় সভা সঞ্চলনা করেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. আওলাদ। মতবিনিময় সভা শেষে জনগণের মাঝে কোতয়ালী মডেল থানা থেকে লিফলেট বিতরণ করা হয় যাতে পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নাম্বার সংবলিত ছিল। কোন ধরণের সন্দেহজনক বা অবৈধ কর্মকান্ড দেখলে লিফলেটে দেওয়া নাম্বারে পরিচয় গোপনের শর্তে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে।