অনৈতিক কর্মে জমজমাট ইয়ন থাই চাইনিজ রেস্তোরা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর প্রান কেন্দ্রে চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ব্যবসার আড়ালে চলছে অনৈতিক কর্মকান্ড। সদর এবং পূর্ব বগুড়া রোডের মুখে ইয়াং থাই চাইনিজ রেস্তোরার অন্ধকার কক্ষে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা মেতে উঠছে গভীর নগ্নতায়। চাইনিজ কর্তৃপক্ষ এর কোন প্রতিবাদ না করে তাদের দেয়া সুবিধা দিয়ে প্রেমিক প্রেমিকাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। আর এটাই তাদের প্রধান ব্যবসা বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিবেশী ব্যবসায়ীরা।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, নগরীর পূর্ব বগুরা রোডের মুখে শুভ প্লাজার দ্বিতীয় তলায় সম্প্রতি ইয়ন থাই চাইনিজ রেস্তোরার ব্যবসা শুরু করেন রিপন কর্মকার। কোন প্রকার বিজ্ঞাপন বা প্রচারনা ছাড়াই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইয়ন থাই নামক চাইনিজ রেস্তোরা ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। তবে সেই পরিচিতি বেশিটাই পেয়েছে প্রেমের নামে যারা নগ্নতা সৃষ্টি করছে সেই সব স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী তরুন-তরুনীসহ অন্যান্যদের কাছে। কেননা প্রতিষ্ঠানটিতে রেস্তোরা ব্যবসার জন্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আপ্যায়নের সুযোগ বা ঘরোয় পরিবেশ সৃষ্টি না হলেও ঐসব নগ্নতা সৃষ্টিকারী প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য সকল প্রকার আয়োজনই করে দিয়েছে রেস্তোরার মালিক রিপন কর্মকার।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পূর্ব বগুরা রোড পার্ক বাংলা মোটর সাইকেল শো রুম সংলগ্ন শুভ প্লাজার দ্বিতীয় তলায় ইয়ন থাই চাইনিজ রেস্তরার পরিবেশ নগরীর অন্যান্য অভিজাত রেস্তোরার থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। রেস্তোরার ভিতর সার্বক্ষনিক থাকছে অন্ধকার। জিরো ভোল্টের লাল নিল বাতি জ্বললেও কারো চেহারা দেখার উপায় নেই। ফলে রেস্তরাটিতে প্রবেশ করলে বাহিরে সকাল নাকি রাত তা বোঝার সাধ্য নেই কারো।
শুধু এইটুকোতেই শেষ নয়, নগ্নতার সমর্থন জানাতে মালিক পক্ষের রয়েছে আরো বেশ জমকালো আয়োজন। দেখা গেছে, রেস্তোরার ভিতরে অন্ধকারের পাশাপাশি প্রতিটি টেবিলের চার দিক থেকে আটকানো। প্রবেশের জন্য দরজার ব্যবস্থা থাকলেও মানুষে প্রবেশ কিংবা বের হওয়ার পরে এমনেতে আটকে যাচ্ছে। এতে করে টেবিলে (কেবিন) কেউ আছে কিনা তা বোঝার কোন সাধ্য নেই আশপাশের মানুষের। চার দিক থেকে আটকানো অন্ধকার কক্ষে চাইনিজ খাবার পরিবেশন না হলেও হচ্ছে প্রেমের নামে সিমাহিন নষ্টামি। যে কারনে একজন সাধারন মানুষ ভুলক্রমে ইয়ন থাই চাইনিজ রেস্তোরায় প্রবেশ করলেও লজ্জায় মাথা নত বের হয়ে যেতে হচ্ছে তাদের।
হোটেলটিতে কিছুটা সময় পার করতে আসা এক প্রেমিক যুগল নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শুনেছিলাম রেস্তোরাটি ব্যবস্থাপনা ভালো। তাই এখানে এসিছি। কিন্তু ভেতরে যে পরিস্থিতি দেখেছি তাতে আমরাই অবাক হয়েছি। এই প্রমিক যুগল আরো বলেন, এসব কিছু উপেক্ষা করে আমরা দু’জন কিছু সময় সেখানে বসে গল্প করি। এ সময়ের মধ্যে দু’জনে দু’কাপ কফি এবং এক প্লেট ফ্রেন্স ফাই খেয়েছি। সেজন্য বিল দিতে হয়েছে দেড় হাজার টাকা। এত টাকা বিল রাখার কারন জানতে জাইলে রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার আমাদের জানায়, শুধু খাবার বিল নয়, বসার জন্যই আমাদের কাছ থেকে টাকা রেখেছে। প্রেমিকাকে সাথে নিয়ে আসায় রেস্তোরা কর্তৃপক্ষের সাথে কোন বিরোধে জড়াইনি। এমন অভিযোগ শুধু একজনের নয়, এখানে সময় কাটাতে আসা সাধারন মানুষের কাছ থেকে একই অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ইয়ন থাই চাইনিজ রেস্তরার আশপাশের ব্যবসায়ীরা জানান, সকাল থেকে রাত সব সময় রেস্টুরেন্টে স্কুল কলেজ এবং চাকুরীজীবী নারী পুরুষ প্রেমিক যুগল আসছে। রেস্তোরা কর্তৃপক্ষ এসব প্রেমিক যুগলদের কাছ থেকে বসা এবং সময় কাটানোর জন্য টাকা রাখছে। নামে রেস্তোরা হলেও এদের মুল ব্যবসাই হচ্ছে প্রেমিক যুগলদের জিম্মি করে এবং তাদের নষ্টামির সুযোগ দিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া। এখানটাতে প্রেমের নামে নগ্নতার সহযোগিতা করার কারনেই অল্প দিনে এই চাইনিজের জনপ্রিয়তা লাভ করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। কিন্তু এসব কিছুর পরেও প্রশাসন নিরব রয়েছে।