অনির্দিষ্ট কালের ধর্মঘটে বাস মালিক সমিতি চরফ্যাশনে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষ ॥ ১২ বাসসহ ৩০ গাড়ি ভাংচুর, আহত-২০

সজিব শাহরিয়ার , চরফ্যাশন॥ চরফ্যাশনে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা  (বোরাক)  শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে  উভয় পক্ষের ২০ শ্রমিক আহত হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে অন্তত ১২ টি বাস এবং ১৮টি ব্যাটারী চালিক অটো রিক্সা (বোরাক)। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চরফ্যাশনের বাসটারর্মিনাল সংলগ্ন সদর রোডে  যাত্রী উঠানামার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা  ঘটে। আহত ১০ শ্রমিককে  চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল চরফ্যাশন সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ভোলার সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর আলম কুতুবকে গ্রেফতার, অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং বিচারের দাবীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘটের সিন্ধান্ত নিয়েছে ভোলা জেলা বাস মালিক সমিতি। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় জেলা বাস মালিক সমিতির জরুরী সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সমিতির সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর রোডের অটো বোরাক  স্ট্যান্ডে দাড়িয়ে  ‘নিঝুম’ নামের চেয়ারম্যান বাজারগামী একটি বাস  যাত্রী উঠানোর সময় বোরাক শ্রমিকরা বাঁধা দেয় । এ নিয়ে বোরাক ও বাসশ্রমিকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সূত্র ধরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে বোরক মালিক-শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম কুতুব ঘটনাস্থলে আসলে বাসশ্রমিকরা তাকে লাঞ্ছিত করে। শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর কুতুবকে লাঞ্ছিত করার সংবাদ ছড়িয়ে পরলে বোরাক শ্রমিক ও বাজার শ্রমিকরা সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠি-সোডা নিয়ে সদর রোডের বাস ডিপোতে হামলা করে নির্বিচারে ভাংচুর চালায়। বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা উত্তরের ডাইরেক্ট বাসস্ট্যান্ড থেকে দক্ষিণের (বিআরডিবি) ডিপো পর্যন্ত সড়কের উপর থাকা বেশ কিছু বাসও ভাংচুর করে। বোরাক শ্রমিকদের তান্ডবের মুখে বাসশ্রমিকরা কোনঠাসা হয়ে পরে।  এসময় ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত থাকলে তারা ছিল নির্বিকার। বাস মালিক-শ্রমিক  সমিতির তরফ থেকে তাদের অন্তব ১২টি বাস ভাংচুর করা হয়েছে বলে জানান হয়েছে। বোরক শ্রমিকরা একটানা তান্ডব চালিয়ে সদর রোড ত্যাগ করলে বাস শ্রমিকরা চড়াও হয়। মিছিল নিয়ে  বিক্ষুদ্ধ বাসশ্রমিকরা সদর রোডের আনাচে-কানাচে থাকা বোরাক গুলো খুঁজে খুঁেজ ভাংচুর করে। পুলিশ লাঠিপেটা করে বাসশ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।   বোরাক শ্রমিক সমিতির তরফ থেকে তাদের অন্তত ১৮টি বোরাক ভাংচুর হয়েছে বলে দাবী করা হয়েছে। দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ শ্রমিক আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে  মোশারফ হোসেন(৪০), মুনায়েম চৌধুরী (৪০), রিয়াজ (২৫), সিরাজ (৩২), ছালাউদ্দিন (৩০), রুহুল আমীন (৩৮), জসিম (৩০), আবি আব্দুল্লাহ (৩০), মনির (৩০) এবং ওসমান (৪০)কে চরফ্যাশন হাসপাপতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিকেলে বাস ও বোরক শ্রমিকরা পাল্ট-পাল্টি মিছিল বের করলেও আর কোন সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। এসময়  সহকারী পুলিশ সুপার (লালমোহন সার্কেল) মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদর রোডে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে ।
দুপুরের ঘটনার শুরু থেকে চরফ্যাশন থেকে সকল রুটের যাত্রীবাহী বাস এবং বোরকসহ সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিভিন্ন স্থান থেকে উপজেলা সদর গামী যাত্রীদের চরম ভোগান্তি আর আতংকের মধ্যে পরতে দেখা গেছে। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাস এবং বোরাক চলাচল বন্ধ থাকলেও অন্যান্য যানবাহন চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। পাশাপাশি চরফ্যাশনে বাস ভাংচুরের প্রতিবাদে ভোলা সদরে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এবং বাস দিয়ে সড়কে ব্যারিকেট সৃষ্টি করে সব ধরনের  যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাসশ্রমিকরা।
ভোলা জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মোঃ  আবুল কালাম জানান ,চরফ্যাশন উপজেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম কুতুবের  এর নেতৃত্বে কয়েক শত বোরাক শ্রমিক তাদের ১২টি বাস ভাংচুর করেছে। আহত করেছে শ্রমিকদের। এঘটনার প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ভোলা জেলা বাস মালিক সমিতির জরুরী সভায় জাহাঙ্গীর আলম কুতুবকে গ্রেফতার, সড়ক থেকে বোরকসহ অবৈধ যানবাহন উচ্ছেদ এবং চরফ্যাশনের বাসভাংচুর ও শ্রমিকদের আহত করার ঘটনার বিচারের দাবীতে ভোলা জেলায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাসধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। বাস মালিক সমিতির এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বোরক মালিক-শ্রমিক সমিতির সভাপতি এবং উপজেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম কুতুব বলেছেন, বাস একজন বোরাক শ্রমিককে ধাক্কা দেয়। প্রতিবাদ করায় বাস শ্রমিকরা সিরাজ নামে একজন বোরাক শ্রমিককে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দেয়। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে উত্তেজিত জনতা বাস ভাংচুর করে। আমি শ্রমিক নেতা,শ্রমিকদের জন্য রাজনীতি করি। এজন্যই আমাকে দায়ী করা হচ্ছে। মূলতঃ অপ্রত্যাশিত এই ঘটনার জন্য আমি দায়ী নই। এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটকের কথা স্বীকার করে চরফ্যাশন থানার অফিসার ইন চার্জ আবুল বাসার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আছে এবং সদরে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।